জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    লিভার কী?

    (1)
  2. খ)

    অস্থি সন্ধি বলতে কী বুঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'A' এর গঠন বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের 'A' এর সঞ্চালনে 'B' এর ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    লিভার হলো একটি অনমনীয় বা দৃঢ় দণ্ড, যা একটি নির্দিষ্ট স্থির বিন্দুকে (ফালক্রাম) কেন্দ্র করে স্বাধীনভাবে ঘুরতে বা নড়াচড়া করতে পারে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দুই বা ততোধিক অস্থির সংযোগস্থলকে অস্থিসন্ধি বা জয়েন্ট (Joint) বলা হয়। অস্থিসন্ধির কারণে কঙ্কালতন্ত্রের বিভিন্ন অংশ নড়াচড়া করতে পারে। অস্থিসন্ধিগুলো অস্থি, তরুণাস্থি, লিগামেন্ট ও সাইনোভিয়াল তরল দ্বারা গঠিত হয় এবং কাজের সুবিধার জন্য এগুলি চলনক্ষম বা অনড় হতে পারে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে চিহ্নিত 'A' হলো একটি দীর্ঘ অস্থি (হাড়, বিশেষত ফিমার)। নিচে অস্থির ভৌত ও আণুবীক্ষণিক গঠন বর্ণনা করা হলো:

    ১. বাহ্যিক গঠন: একটি দীর্ঘ অস্থির তিনটি প্রধান অংশ থাকে—

    • এপিফাইসিস: অস্থির দুই প্রান্তের স্ফীত অংশ, যা সাধারণত স্পঞ্জি অস্থি দিয়ে গঠিত এবং তরুণাস্থি দ্বারা আবৃত থাকে।
    • ডায়াফাইসিস: অস্থির মধ্যবর্তী নলাকার বা দণ্ডাকার অংশ। এটি নিরেট অস্থি দ্বারা গঠিত এবং এর ভিতরে মজ্জা গহ্বর থাকে।
    • মেটাফাইসিস: এপিফাইসিস ও ডায়াফাইসিসের সংযোগস্থল।

    ২. আবরণী: অস্থির বাইরে পেরিঅস্টিয়াম নামক তন্তুময় যোজক কলার দ্বিস্তরী আবরণ থাকে।

    ৩. আণুবীক্ষণিক গঠন (হেভারসিয়ান তন্ত্র): নিরেট অস্থি প্রধানত হেভারসিয়ান তন্ত্র বা অস্টিওন দ্বারা গঠিত। প্রতিটি হেভারসিয়ান তন্ত্রের কেন্দ্রে একটি হেভারসিয়ান নালি থাকে, যাকে ঘিরে সমকেন্দ্রী স্তরে ল্যামেলি বিন্যস্ত থাকে। ল্যামেলির মধ্যবর্তী ল্যাকুনা নামক গহ্বরে অস্টিওসাইট বা অস্থিকোষ অবস্থান করে। ল্যাকুনাগুলো ক্যানালিকুলি নামক ক্ষুদ্র নালিকার মাধ্যমে পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে। এছাড়া অস্থির মধ্যে অজৈব উপাদান (ক্যালসিয়াম ফসফেট ও কার্বনেট) এবং জৈব উপাদান (অসিন প্রোটিন) বিদ্যমান থাকে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'A' হলো অস্থি এবং 'B' হলো কঙ্কাল পেশি বা ঐচ্ছিক পেশি। অস্থির সঞ্চালনে পেশির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. পেশির সংযুক্তি: কঙ্কাল পেশি টেনডন বা কণ্ডরার মাধ্যমে অস্থির সাথে দৃঢ়ভাবে যুক্ত থাকে। পেশির উৎপত্তিস্থল বা অরিজিন একটি নির্দিষ্ট অনড় অস্থিতে এবং ইনসার্শন বা শেষপ্রান্ত সঞ্চালনশীল অস্থিতে যুক্ত থাকে।

    ২. সংকোচন ও প্রসারণ: পেশিকলা স্নায়ু উদ্দীপনা গ্রহণ করে সংকুচিত হতে পারে। পেশি কেবল টানতে (pull) পারে, কিন্তু ধাক্কা দিতে (push) পারে না। যখন 'B' সংকুচিত হয়, তখন তা টেনডনের মাধ্যমে 'A' অস্থিটিকে নিজের দিকে টেনে তোলে, ফলে অস্থির সঞ্চালন ঘটে।

    ৩. অ্যান্টাগোনিস্টিক ক্রিয়া: কোনো অস্থির পূর্ণাঙ্গ সঞ্চালনের জন্য পেশিসমূহ জোড়ায় জোড়ায় কাজ করে, যাকে অ্যান্টাগোনিস্টিক পেশি বলে। যেমন- ফ্লেক্সর পেশি সংকুচিত হয়ে অঙ্গ বাঁকাতে সাহায্য করে এবং এক্সটেন্সর পেশি সংকুচিত হয়ে তা পুনরায় সোজা করে। একটি পেশি সংকুচিত হলে তার বিপরীত পেশিটি শিথিল বা প্রসারিত হয়, যার ফলে অস্থিটি সাবলীলভাবে নড়াচড়া করতে পারে।

    ৪. লিভার হিসেবে কাজ: অস্থির সঞ্চালনে অস্থি কাজ করে লিভার দণ্ড হিসেবে, অস্থিসন্ধি কাজ করে ফালক্রাম হিসেবে এবং পেশি সরবরাহ করে প্রয়োজনীয় বল বা শক্তি।

    সুতরাং, পেশির ('B') পর্যায়ক্রমিক সংকোচন-প্রসারণ ছাড়া অস্থির ('A') কোনো প্রকার স্বাধীন সঞ্চালন বা চলন সম্ভব নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন