ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৬
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব তৌহিদ একটি আসবাবপত্রের দোকানের মালিক। তিনি তার দোকানে রক্ষিত ২ লক্ষ টাকার আসবাবপত্রের জন্য ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার একটি অগ্নিবিমাপত্র গ্রহণ করেন। সম্প্রতি আগুন লেগে উক্ত দোকানের ৮০ হাজার টাকা সমমূল্যের আসবাবপত্র পুড়ে যায়। তিনি বিমা প্রতিষ্ঠানের কাছে সম্পূর্ণ ৮০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করলে বিমা প্রতিষ্ঠানটি তার দাবি প্রত্যাখ্যান করে এবং গড়পড়তা হারে ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দেয়।
- ক)(1)
নৈতিক ঝুঁকি কী?
- খ)(2)
অগ্নি বিমাকে ক্ষতিপূরণের চুক্তি বলা হয় কেন?
- গ)(3)
জনাব তৌহিদের প্রাপ্তব্য প্রকৃত বিমা দাবির পরিমাণ নিরূপণ করো।
- ঘ)(4)
বিমা কোম্পানি কর্তৃক গড়পড়তা হারে ক্ষতিপূরণ প্রদান কতটা যৌক্তিক? বিমার ধরন বিবেচনায় তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিমাগ্রহীতার অসততা, অবহেলা বা ইচ্ছাকৃত গাফিলতির কারণে বিমাকৃত বিষয়ে যে অতিরিক্ত ক্ষতি বা ঝুঁকির সৃষ্টি হয়, তাকে নৈতিক ঝুঁকি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অগ্নিবিমাকে ক্ষতিপূরণের চুক্তি বলা হয় কারণ এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিমাগ্রহীতাকে অগ্নিকাণ্ডজনিত ক্ষতির পূর্বের আর্থিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা, কোনো মুনাফা অর্জন করতে দেওয়া নয়।
অগ্নিবিমায় বিমাকারী কেবল সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির সমপরিমাণ অর্থ (বিমা অঙ্কের সীমা পর্যন্ত) ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করে। ক্ষতি না হলে কোনো অর্থ প্রদান করা হয় না এবং ক্ষতির অতিরিক্ত অর্থ পাওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। তাই অগ্নিবিমা একটি বিশুদ্ধ ক্ষতিপূরণের চুক্তি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব তৌহিদের প্রাপ্তব্য প্রকৃত বিমা দাবির পরিমাণ হলো ৬৪,০০০ টাকা।
উদ্দীপক অনুসারে,
দোকানে রক্ষিত আসবাবপত্রের মোট মূল্য = ২,০০,০০০ টাকা
বিমাকৃত মূল্য বা বিমাঙ্ক = ১,৬০,০০০ টাকা
প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ = ৮০,০০০ টাকাযেহেতু বিমাঙ্ক সম্পত্তির প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম, তাই এটি 'স্বল্প বিমা' বা অন্তর্বিমা (Under-insurance)। গড়পড়তা শর্তযুক্ত বিমার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের সূত্রটি হলো:
প্রাপ্তব্য ক্ষতিপূরণ = (বিমাঙ্ক × প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ) / সম্পত্তির মোট মূল্য
= (১,৬০,০০০ × ৮০,০০০) / ২,০০,০০০ টাকা
= ৬৪,০০০ টাকা।সুতরাং, জনাব তৌহিদ বিমা কোম্পানির নিকট থেকে প্রকৃত ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৬৪,০০০ টাকা পাবেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিমা কোম্পানি কর্তৃক গড়পড়তা হারে ক্ষতিপূরণ প্রদানের সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
অগ্নিবিমা চুক্তিতে সাধারণত একটি গড়পড়তা ধারা (Average Clause) অন্তর্ভুক্ত থাকে। যদি কোনো বিমাগ্রহীতা তার সম্পত্তির প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যের বিমা করান (অন্তর্বিমা বা Under-insurance), তবে গড়পড়তা ধারা অনুযায়ী ধরে নেওয়া হয় যে, অবশিষ্ট মূল্যের জন্য বিমাগ্রহীতা নিজেই নিজের বিমাকারী। এ অবস্থায় আংশিক ক্ষতি হলে বিমা কোম্পানি পুরো ক্ষতি বহন না করে আনুপাতিক বা গড়পড়তা হারে ক্ষতিপূরণ প্রদান করে।
উদ্দীপকে জনাব তৌহিদ ২,০০,০০০ টাকার আসবাবপত্রের জন্য ১,৬০,০০০ টাকার অগ্নিবিমাপত্র গ্রহণ করেছিলেন। অর্থাৎ তিনি সম্পত্তির মোট মূল্যের ৮০% বিমাকৃত করেছিলেন এবং বাকি ২০% অবিক্রিত বা স্ব-বিমাকৃত রেখেছিলেন। পরবর্তীতে আগুনে ৮০,০০০ টাকার ক্ষতি হলে তিনি পুরো ৮০,০০০ টাকাই দাবি করেন। কিন্তু অন্তর্বিমার নিয়ম অনুযায়ী বিমা কোম্পানি কেবল বিমাকৃত অনুপাতের (৮০%) ক্ষতি অর্থাৎ ৬৪,০০০ টাকা বহন করতে দায়বদ্ধ।
যেহেতু তৌহিদ পূর্ণ মূল্যের প্রিমিয়াম প্রদান করেননি, সেহেতু পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দাবি করা বিমা নীতির পরিপন্থী। সুতরাং, বিমার ধরন ও গড়পড়তা শর্ত বিবেচনায় বিমা কোম্পানির গড়পড়তা হারে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি যথার্থ ও ন্যায়সংগত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও