ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৯
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. 'A' তার ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য 'X' নামক একটি বিমা কোম্পানিতে ৫ লক্ষ টাকা বিমা করেন এবং ৫ম তলা বাড়ির জন্য 'Y' ও 'Z' নামক দুটি বিমা কোম্পানির নিকট সমান অঙ্কের মোট ৫০ লক্ষ টাকার বিমা করেন। বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে ৫ তলা ভবনের নিচ তলা ভস্মীভূত হয়ে গাড়িটি পুড়ে যায় এবং বাড়িটির ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়। 'X' কোম্পানি গাড়িটির ক্ষতিপূরণ প্রদান করলেও 'Y' ও 'Z' কোম্পানির মধ্যে 'Z' কোম্পানি ২.৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়।
- ক)(1)
ঝুঁকি কী?
- খ)(2)
বিমাকে চূড়ান্ত সদ্বিশ্বাসের চুক্তি বলা হয় কেন?
- গ)(3)
কোন নীতির আলোকে 'X' বিমা কোম্পানি গাড়িটির ক্ষতিপূরণ প্রদান করে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
'Z' কোম্পানি ভবনের নিচ তলার ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে অস্বীকৃতি জানানো কি সঠিক? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আর্থিক ক্ষতির অনিশ্চয়তাকেই ঝুঁকি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিমা চুক্তির উভয় পক্ষকে (বিমাকারী ও বিমাগ্রহীতা) একে অপরের নিকট বিষয়বস্তু সংক্রান্ত সকল বাস্তব ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সততার সাথে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করতে হয় বলে বিমাকে চূড়ান্ত সদ্বিশ্বাসের চুক্তি বলা হয়।
বিমা চুক্তিতে বিমাগ্রহীতা যদি বিমাযোগ্য বিষয়বস্তুর প্রকৃত তথ্য বা বিদ্যমান কোনো ঝুঁকি গোপন করেন, অথবা বিমাকারী শর্তাবলি পরিষ্কার না করে প্রতারণার আশ্রয় নেয়, তবে চুক্তিটি বাতিলযোগ্য হয়। পারস্পরিক সততা ও পূর্ণ বিশ্বস্ততার ওপর ভিত্তি করে এই চুক্তি গঠিত হয় বলেই একে চূড়ান্ত সদ্বিশ্বাসের চুক্তি (Utmost Good Faith) বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'X' বিমা কোম্পানি 'ক্ষতিপূরণের নীতি' (Principle of Indemnity) এবং 'প্রত্যক্ষ কারণ নীতি' (Principle of Causa Proxima)-এর আলোকে গাড়িটির ক্ষতিপূরণ প্রদান করে।
ক্ষতিপূরণের নীতি অনুযায়ী, বিমাকারী কেবল সংঘটিত প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির সমান অর্থ বিমাগ্রহীতাকে প্রদান করবে, যাতে বিমাগ্রহীতা ক্ষতির আগের আর্থিক অবস্থায় ফিরে যেতে পারে; এর মাধ্যমে বিমাগ্রহীতা কোনো অতিরিক্ত লাভ করতে পারবে না। এছাড়া প্রত্যক্ষ কারণ নীতি অনুযায়ী, যে কারণে ক্ষতি হয়েছে তা বিমাপত্রে উল্লিখিত ঝুঁকির প্রত্যক্ষ কারণ কি না তা বিবেচনা করা হয়।
উদ্দীপকে মি. 'A' তার ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য 'X' কোম্পানিতে ৫ লক্ষ টাকার বিমা করেছিলেন। অগ্নিকাণ্ডে গাড়িটি ভস্মীভূত হয়ে আর্থিক ক্ষতি সাধিত হওয়ায় বিমাকারী 'X' কোম্পানি প্রকৃত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গাড়ির ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করেছে। ফলে এটি ক্ষতিপূরণের নীতি অনুসারেই সম্পাদিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভবনের নিচ তলার ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে 'Z' কোম্পানির অস্বীকৃতি জানানো সঠিক নয়।
একই বিষয়বস্তুর ওপর একাধিক বিমাকারীর কাছে বিমা করা হলে তাকে ডাবল ইন্স্যুরেন্স বা দ্বৈত বিমা বলা হয়। দ্বৈত বিমার ক্ষেত্রে বিমার 'অংশগ্রহণ নীতি' (Principle of Contribution) প্রযোজ্য হয়। এ নীতি অনুযায়ী, বিমাকৃত সম্পত্তির কোনো ক্ষতি সংঘটিত হলে সব বিমাকারী তাদের বিমাকৃত অঙ্কের আনুপাতিক হারে উক্ত ক্ষতি যৌথভাবে বহন করতে আইনত বাধ্য থাকে। কোনো একক কোম্পানি তার দায় অস্বীকার করতে পারে না।
উদ্দীপকে মি. 'A' তার ৫ তলা বাড়ির জন্য 'Y' ও 'Z' উভয় কোম্পানির নিকট সমান অঙ্কে মোট ৫০ লক্ষ টাকার (প্রত্যেকটির নিকট ২৫ লক্ষ টাকা করে) বিমা করেছিলেন। ফলে 'Y' ও 'Z'-এর ঝুঁকি গ্রহণের অনুপাত ছিল ১:১। বৈদ্যুতিক গোলযোগে ভবনের ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হলে অংশগ্রহণ নীতি অনুযায়ী প্রতিটি কোম্পানি আনুপাতিক হারে ক্ষতিপূরণ দেবে।
অর্থাৎ, 'Z' কোম্পানির ক্ষতিপূরণের দায় = ৫,০০,০০০ × (২৫,০০,০০০ / ৫০,০০,০০০) = ২,৫০,০০০ টাকা।
যেহেতু 'Z' কোম্পানি ২৫ লক্ষ টাকার ঝুঁকির অংশীদার এবং ক্ষতি আনুপাতিকভাবে পরিশোধের নিয়ম রয়েছে, সেহেতু তাদের অংশের ২.৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানে অস্বীকৃতি জানানো বিমা আইনের পরিপন্থি এবং অনুচিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও