বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৬
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
দৃশ্য-১ : ঢাকা শহরের বর্তমান সময়ে বিভিন্ন হাউজিংগুলোর রাস্তাঘাট খুবই প্রশস্ত। পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য সুপরিকল্পিত ড্রেন ব্যবস্থাও রয়েছে।
দৃশ্য-২ : সখিপুর গ্রামের দুই অঞ্চলের মধ্যে দীর্ঘদিন ঝগড়া-বিবাদ লেগে ছিল। ঐ গ্রামের একটি সমিতি ছিল। তারা পরিকল্পিতভাবে একটি খেলার আয়োজন করে। ফলে দেখা যায় তারা এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সমস্যার নিরসন করতে সক্ষম হয়।
- ক)(1)
নীল নদের উৎপত্তিস্থল কোথায়?
- খ)(2)
হায়ারোগ্লিফিক কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃশ্য-১ এর শহরের সাথে প্রাচীন কোন শহরের নগর পরিকল্পনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্য-২ এর বিবাদ মীমাংসার বিষয়টি কোন সভ্যতায় ঘটেছিল? বর্তমান সময়েও এই ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরাও সমস্যা নিরসন করতে পারি— তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
নীল নদের উৎপত্তিস্থল পূর্ব আফ্রিকার ভিক্টোরিয়া হ্রদ।
- খ)
হায়ারোগ্লিফিক হলো প্রাচীন মিশরীয়দের চিত্রলিপি। 'হায়ারোগ্লিফিক' শব্দের অর্থ পবিত্র খোদাই। মিশরীয়রা ছবি ও প্রতীক এঁকে ভাব প্রকাশ করত এবং এই লিপি পাথর, মন্দিরের দেয়াল ও প্যাপিরাসে লিখত। পরবর্তীকালে লেখার সুবিধার্থে এর সরলীকৃত রূপও তৈরি হয়। এই লিপির মাধ্যমে মিশরীয় সভ্যতার ইতিহাস ও ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে জানা যায়।
- গ)
দৃশ্য-১-এর শহরের সঙ্গে প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতার মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পা শহরের নগর পরিকল্পনার মিল রয়েছে।
দৃশ্য-১-এ ঢাকার হাউজিংগুলোর রাস্তাঘাট প্রশস্ত এবং পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য সুপরিকল্পিত ড্রেন ব্যবস্থা আছে। সিন্ধু সভ্যতার শহরগুলোও পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছিল। সেখানে রাস্তাঘাট ছিল সোজা ও প্রশস্ত এবং পরস্পরকে সমকোণে ছেদ করত। বাড়িঘরের নোংরা পানি ঢাকা নালা দিয়ে বাইরের বড় ড্রেনে গিয়ে পড়ত। এই সুপরিকল্পিত রাস্তা ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্যই দৃশ্য-১-এর শহরের সঙ্গে সিন্ধু সভ্যতার মিল রয়েছে।
- ঘ)
দৃশ্য-২-এর বিবাদ মীমাংসার বিষয়টি প্রাচীন গ্রিক সভ্যতায় ঘটেছিল।
গ্রিক নগররাষ্ট্রগুলোর মধ্যে প্রায়ই যুদ্ধ-বিগ্রহ লেগে থাকত। অলিম্পিয়ায় অনুষ্ঠিত অলিম্পিক গেমস উপলক্ষে সব নগররাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধ রাখত। ফলে খেলার মাধ্যমে বিবাদের অবসান ঘটত। দৃশ্য-২-এর সখিপুর গ্রামের সমিতি পরিকল্পিতভাবে খেলার আয়োজন করে দুই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের ঝগড়া মিটিয়েছে।
বর্তমান সময়েও এ ধরনের পদক্ষেপে সমস্যা সমাধান সম্ভব, কারণ—
১. খেলাধুলা মানুষকে একত্র করে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক ও সৌহার্দ্য বাড়ায়।
২. খেলার মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সুস্থভাবে প্রকাশ পায়, ফলে সংঘর্ষের আশঙ্কা কমে।
৩. আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও অলিম্পিকের মতো আয়োজন বিভিন্ন দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে।সুতরাং, প্রাচীন গ্রিসের মতো বর্তমান সময়েও খেলার আয়োজন করে আমরা বিবাদ ও সমস্যা নিরসন করতে পারি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও