সহপাঠ • উপন্যাস: লালসালু • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭

সহপাঠ প্রশ্ন

পলাশপুর গ্রামের সুশিক্ষিত ছেলে ফয়সাল। শহর থেকে এম এ পাস করে নিজ গ্রামে ফিরে এসেছে। তার বড় ইচ্ছা এলাকার উন্নয়ন করা, বিশেষ করে নিরক্ষর মানুষদের সাক্ষর করে তোলা। সে প্রত্যাশায় ফয়সাল তার গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে। কিন্তু এ মহৎ কাজে সে সহযোগিতার পরিবর্তে তীব্র বাধার সম্মুখীন হয়। নিজের প্রভাব ক্ষুণ্ণ হবে ভেবে মাতব্বর রজত মিয়া ও তার লোকেরা ফয়সালকে অপমানিত করে গ্রামছাড়া করে। মূর্খ গ্রামবাসী আর স্বার্থবাদী মানুষের কাছে সত্যের অপমৃত্যু ঘটে।

  1. ক)

    ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্টের নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    "বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে চোখ"- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ফয়সাল 'লালসালু' উপন্যাসের কোন চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে? নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'মূর্খ গ্রামবাসী আর স্বার্থবাদী মানুষের কাছে সত্যের অপমৃত্যু ঘটে”- উক্তিটি 'লালসালু' উপন্যাসের আলোকে বিচার করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্টের নাম মতলুব খাঁ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে চোখ" চরণটির মাধ্যমে মজিদের তীব্র অন্তর্ভেদী, দ্বিধাহীন ও কপট একাগ্র দৃষ্টির অনমনীয় রূপ বোঝানো হয়েছে।

    'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ ধর্মকে আশ্রয় করে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মোদাচ্ছের পীরের ভুয়ো মাজার গড়ে তোলে। তার চোখে ছিল কৃত্রিম আধ্যাত্মিকতার এমন এক অটল অভিব্যক্তি, যা সাধারণ মানুষের চোখে সন্দেহের লেশমাত্র রাখত না। পাথরে খোদাই করা জিনিসের মতো তার চোখের দৃষ্টি ছিল দৃঢ়, অনড় এবং সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত ও ভীতিগ্রস্ত করার উপযোগী।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ফয়সাল 'লালসালু' উপন্যাসের প্রতিবাদী ও সংস্কারমুক্ত নবীন চরিত্র 'আক্কাস'-এর প্রতিনিধিত্ব করে।

    উপন্যাসে দেখা যায়, আক্কাস মিয়া মহব্বতনগর গ্রামে আলো ছড়াতে এবং নিরক্ষর মানুষের চোখ ফোটাতে একটি আধুনিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। সে বুঝেছিল শিক্ষার আলো ছাড়া গ্রামের অজ্ঞতা দূর হবে না। কিন্তু মজিদ বুঝতে পারে, গ্রামে শিক্ষার বিস্তার ঘটলে ধর্মভিত্তিক ভণ্ডামি ও তার কর্তৃত্ব নষ্ট হয়ে যাবে। ফলে সে চতুর কৌশলে আক্কাসকে দাড়ি না রাখার অজুহাতে অপমানিত করে এবং স্কুল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নস্যাৎ করে দেয়।

    উদ্দীপকের উচ্চশিক্ষিত ফয়সালও নিজ গ্রামে নিরক্ষর মানুষের সাক্ষরতা ও সার্বিক উন্নয়নের জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে মাতব্বর রজত মিয়ার কায়েমি স্বার্থ ও বিরোধিতার শিকার হয় এবং অপমানিত হয়ে গ্রাম ছাড়ে। আক্কাস এবং ফয়সাল—উভয়েই সমাজে প্রগতির আলো আনতে চেয়ে কায়েমি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর হাতে লাঞ্ছিত হয়েছে। তাই ফয়সাল নিশ্চিতভাবেই আক্কাস চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'মূর্খ গ্রামবাসী আর স্বার্থবাদী মানুষের কাছে সত্যের অপমৃত্যু ঘটে'—উক্তিটি 'লালসালু' উপন্যাসের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত যথার্থ ও বাস্তবসম্মত।

    'লালসালু' উপন্যাসে মহব্বতনগর গ্রামের মানুষ ছিল চরম অজ্ঞ, অশিক্ষিত ও অন্ধবিশ্বাসী। ধর্মের প্রকৃত মর্মার্থ তারা জানত না, কেবল আচারসর্বস্ব ভীতিকে ধর্ম মনে করত। তাদের এই মূর্খতা ও সারল্যকে কাজে লাগিয়ে মজিদ নিজের আধিপত্য কায়েম করে। স্বার্থান্বেষী মজিদ ও মাতব্বর খালেক ব্যাপারীর স্বার্থ এক বিন্দুতে মিলিত হয়ে পুরো গ্রামকে শাসন ও শোষণ করে।

    যখন আক্কাস নামের এক আধুনিক শিক্ষিত যুবক গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করে সত্য ও জ্ঞানের আলো জ্বালাতে চেয়েছিল, তখন মজিদ নিজের আধিপত্য ক্ষুণ্ণ হওয়ার ভয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার চাতুর্য অবলম্বন করে। আক্কাসের গালে দাড়ি নেই—এমন তুচ্ছ অজুহাত তুলে গ্রামবাসীর অজ্ঞতাকে উসকে দিয়ে মজিদ তাকে ধর্মহীন প্রমাণের চেষ্টা করে। ধর্মান্ধ ও মূর্খ গ্রামবাসীও মজিদের কথায় সায় দেয় এবং আক্কাসের বাবার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। ফলে আক্কাস নীরবে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হয় এবং সত্য ও আলোর স্বপ্ন সেখানেই স্তব্ধ হয়ে যায়।

    একইভাবে উদ্দীপকেও মাতব্বর রজত মিয়ার কায়েমি স্বার্থ ও গ্রামবাসীর অজ্ঞতার কারণে ফয়সালের শুভ উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। লালসালু উপন্যাসেও মজিদের স্বার্থান্ধতা এবং মহব্বতনগরের মূর্খ মানুষের সহায়তায় আক্কাসের মহৎ উদ্যোগের বিনাশ ঘটেছে। সুতরাং বলা যায়, মূর্খ সমাজ আর স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্তে সবসময়ই শুভ চিন্তা ও সত্যের অপমৃত্যু ঘটে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন