যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
হাওলাদার গতরাতে খুন হয়েছে। পুলিশ তদন্তে এসে পলাশ, দীপু এবং নাজমুলকে সন্দেহ করল। কেননা এদের সাথে নিহতের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। হত্যাকাণ্ডের পূর্বে পলাশ, দীপু এবং নাজমুলকে নিহতের বাড়ির আশে-পাশে ঘুরাঘুরি করতেও দেখা যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে কিছু পায়ের ছাপ দেখতে পেল এবং তা থেকে হত্যাকারীকে চিহ্নিত করল।
- ক)(1)
প্রকল্প কী?
- খ)(2)
বাস্তব কারণ বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের পায়ের ছাপ যুক্তিবিদ্যার কোন বিষয়টিকে ইঙ্গিত করে?
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে পুলিশের আসামী শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া তোমার পাঠ্যবইয়ের যে বিষয়কে নির্দেশ করে— তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো ঘটনার কারণ আবিষ্কারের উদ্দেশ্যে প্রাথমিক আনুমানিক ধারণাকে 'প্রকল্প' (Hypothesis) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাস্তব কারণ (Vera Causa) বলতে এমন এক কারণকে বোঝায় যার বাস্তব অস্তিত্ব রয়েছে এবং যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব। যুক্তিবিদদের মতে, কোনো প্রকল্পকে বৈধ হতে হলে যে ঘটনাকে কারণ হিসেবে অনুমান করা হবে, প্রকৃতির বুকে তার প্রকৃত অস্তিত্ব থাকতে হবে; তা কোনো কাল্পনিক বা অলীক বিষয় হতে পারবে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের পায়ের ছাপ যুক্তিবিদ্যার 'প্রকল্প' গঠনের একটি আনুষঙ্গিক প্রমাণ বা 'আলামত' (Sign/Circumstantial Evidence)-কে ইঙ্গিত করে, যা প্রকল্পের যাচাইকরণে ব্যবহৃত হয়।
কোনো ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে যখন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকে না, তখন পারিপার্শ্বিক চিহ্ন বা আলামতের ওপর ভিত্তি করে প্রকল্প গঠন ও যাচাই করা হয়। উদ্দীপকে হাওলাদার হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে কিছু পদচিহ্ন বা পায়ের ছাপ দেখতে পায়। এই পায়ের ছাপ হলো একটি বস্তুগত আলামত, যা তদন্তকারী দলকে অপরাধী শনাক্ত করতে এবং তাদের আনুমানিক ধারণাকে (প্রকল্পকে) যাচাই করতে সহায়তা করেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে পুলিশের আসামী শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া যুক্তিবিদ্যার 'প্রকল্পের স্তর বা পদক্ষেপ' এবং এর 'যাচাইকরণ' (Verification of Hypothesis) প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
একটি বৈজ্ঞানিক প্রকল্প সাধারণত চারটি স্তরের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়:
১. ঘটনা নিরীক্ষণ: পুলিশ প্রথমে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হাওলাদারের খুনের ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে।
২. আনুমানিক ধারণা গঠন (প্রকল্প তৈরি): জমি নিয়ে বিরোধ ও গতিবিধির ওপর ভিত্তি করে পলাশ, দীপু ও নাজমুলকে সন্দেহ করা হয়। এটি ছিল তাদের প্রাথমিক প্রকল্প।
৩. সিদ্ধান্ত বা ফলাফল নিগমন: তদন্তকারী দল অনুমান করে যে অপরাধী যেই হোক না কেন, ঘটনাস্থলে তার কোনো না কোনো চিহ্ন থাকবে।
৪. যাচাইকরণ: পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকা পায়ের ছাপ পরীক্ষা করে। এই বস্তুগত সাক্ষ্য বা চিহ্নের সাথে সন্দেহভাজনদের নমুনা মিলিয়ে অপরাধীকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।উদ্দীপকে পুলিশ প্রথমে ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে সন্দেহভাজনদের নিয়ে একটি প্রকল্প গঠন করেছে এবং পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত পায়ের ছাপের বাস্তব প্রমাণের সাহায্যে তা যাচাই করে চূড়ান্ত সত্যে উপনীত হয়েছে। অতএব, এটি পাঠ্যবইয়ের প্রকল্পের স্তর ও এর পরীক্ষণমূলক যাচাইকরণ পদ্ধতিকে সার্থকভাবে নির্দেশ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও