ব্যবসায় উদ্যোগ • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪

ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন

মেহেদী ২০২০ সালে বুয়েট থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে কয়েকজন বন্ধুসহ 'রায়না অটোমোবাইলস ইন্ডাস্ট্রিজ লি.' নামে একটি গাড়ি কোম্পানি স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করেন। প্রকল্প গ্রহণের সময় তারা পুরো কর্মকাণ্ডের দীর্ঘমেয়াদি একটি আর্থিক বিবরণী ছক প্রণয়ন করেন। বাজার জরিপ করে পণ্যের বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করেন। প্রাথমিক ব্যয় নির্বাহের জন্য যথেষ্ট মূলধন নিজেদের না থাকায় মূলধন সংগ্রহের বিকল্প উৎসও নির্ধারণ করেন। ভবিষ্যতে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনীতিতে কীভাবে অবদান রাখতে পারবে তারও একটি ছক নির্ধারণ করেন।

  1. ক)

    সম আয়-ব্যয় বিন্দু কী?

    (1)
  2. খ)

    শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল কোন পরিবেশ থেকে আসে? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    'রায়না অটোমোবাইলস ইন্ডাস্ট্রিজ লি.'-এর প্রকল্প বাস্তবায়নে কোন ধরনের মূলধন প্রয়োজন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'রায়না অটোমোবাইলস ইন্ডাস্ট্রিজ লি.' প্রকল্পটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে মাইক্রোস্ক্রিনিং-এর উপাদানসমূহ বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যে বিন্দুতে পণ্য বিক্রয় করলে মোট বিক্রয়মূল্য ও মোট ব্যয় সমান হয়, অর্থাৎ লাভও হয় না ক্ষতিও হয় না, তাকে সম আয়-ব্যয় বিন্দু (Break Even Point) বলে।

  2. খ)

    শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে আসে। প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদান হলো ভূপ্রকৃতি, নদ-নদী, বনভূমি, খনিজ সম্পদ ও জলবায়ু ইত্যাদি। এসব উপাদান থেকে কৃষিজ কাঁচামাল, খনিজ, বনজ ও মৎস্য সম্পদ পাওয়া যায়। তাই সঠিক ব্যবসায় বাছাইয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিরাট ভূমিকা রাখে।

  3. গ)

    'রায়না অটোমোবাইলস ইন্ডাস্ট্রিজ লি.'-এর গাড়ি কোম্পানি স্থাপনের প্রকল্পে স্থায়ী মূলধন ও চলতি মূলধন দুটিই প্রয়োজন।

    ১. স্থায়ী মূলধন: ব্যবসায় শুরুর সময় একবারই যে ব্যয় করতে হয়, তা স্থায়ী মূলধন। গাড়ি তৈরির কারখানার জমি, ভবন, যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র এর অন্তর্ভুক্ত। উদ্দীপকের 'প্রাথমিক ব্যয়' এ ধরনের মূলধনকে বোঝায়।
    ২. চলতি মূলধন: ব্যবসায় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সারা বছর যে ব্যয় হয়, তা চলতি মূলধন। কাঁচামাল ক্রয়, কর্মীদের বেতন ও বিদ্যুৎ খরচ এর উদাহরণ।

    প্রকল্পের মোট ব্যয় এ দুই ধরনের মূলধনের যোগফল। গাড়ি কোম্পানির মতো বড় শিল্পে দুই ধরনের মূলধনই বেশি লাগে।

  4. ঘ)

    মাইক্রোস্ক্রিনিং হলো বাজার চাহিদা, কারিগরি, বাণিজ্যিক, আর্থিক ও জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান ইত্যাদি দিক বিবেচনা করে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিস্তারিত প্রক্রিয়া। রায়না অটোমোবাইলসের মতো বড় প্রকল্পে এ উপাদানগুলো বিবেচনা করা জরুরি।

    ১. বাজার চাহিদা: বাজার জরিপ করে গাড়ির চাহিদা, ক্রেতার আগ্রহ ও প্রতিযোগীর সংখ্যা যাচাই করলে অবিক্রীত পণ্যের ঝুঁকি কমে। মেহেদীরা বাজার জরিপ করেছেন।
    ২. বাণিজ্যিক দিক: উৎপাদন খরচ, বিক্রয়মূল্য ও আনুমানিক লাভ বিবেচনা করে লাভজনকতা নির্ধারণ করা যায়। উদ্দীপকে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
    ৩. আর্থিক দিক: প্রকল্প ব্যয় নিরূপণ ও মূলধন সংগ্রহের উপায় ঠিক করা দরকার। মেহেদীরা বিকল্প উৎস নির্ধারণ করেছেন।
    ৪. কারিগরি দিক: উৎপাদন প্রক্রিয়া, প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি নির্বাচন করলে প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ হয়।
    ৫. জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান: কর্মসংস্থান ও সরকারকে কর প্রদানের মাধ্যমে প্রকল্প জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখে। উদ্দীপকে মেহেদীরা এর একটি ছক তৈরি করেছেন।

    মাঝারি ও বৃহৎ উৎপাদনমুখী প্রকল্পের ক্ষেত্রে ম্যাক্রো ও মাইক্রো উভয় স্ক্রিনিং জরুরি। সুতরাং, সফল ও লাভজনক প্রকল্প নির্বাচনে মাইক্রোস্ক্রিনিংয়ের উপাদানগুলো বিবেচনা করা অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন