জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    সারফ্যাকট্যান্ট কী?

    (1)
  2. খ)

    মূত্রের উপাদানগুলোর নাম লিখ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের গঠনটি কীভাবে অণুজীবের বিরুদ্ধে ক্রিয়াশীল হয়- ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    স্মৃতিকোষ উদ্দীপকের গঠনটিকে আরও ক্রিয়াশীল হতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। স্বপক্ষে যুক্তি দেখাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের প্রাচীরের বিশেষ কোষ থেকে ক্ষরিত ফসফোলিপিড ও প্রোটিন সমৃদ্ধ ডিটারজেন্ট-সদৃশ রাসায়নিক পদার্থ, যা অ্যালভিওলাসের পৃষ্ঠটান কমিয়ে এটিকে চুপসে যাওয়া থেকে রক্ষা করে, তাকে সারফ্যাকট্যান্ট বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মূত্রের প্রধান উপাদানসমূহকে প্রধানত পানি ও কঠিন পদার্থ—এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
    ১. পানি: মূত্রের প্রায় ৯৫% অংশই পানি।
    ২. কঠিন পদার্থ: মূত্রের অবশিষ্ট প্রায় ৫% কঠিন উপাদান, যা আবার দুটি ভাগে বিভক্ত:
    ক. জৈব উপাদান: ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড, ক্রিয়েটিনিন, হিপিউরিক অ্যাসিড ইত্যাদি।
    খ. অজৈব উপাদান: সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্লোরাইড, সালফেট, ফসফেট ইত্যাদি লবণ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রদর্শিত 'Y' আকৃতির গঠনটি হলো অ্যান্টিবডি (অ্যান্টিবডি বা ইমিউনোগ্লোবুলিন)।

    অ্যান্টিবডি মানবদেহে বিভিন্ন উপায়ে অণুজীব তথা অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে ক্রিয়াশীল হয়ে দেহকে সুরক্ষা দেয়:
    ১. প্রসাধন বা নিরপেক্ষকরণ (Neutralization): অ্যান্টিবডি ভাইরাসের উপরিভাগ বা ব্যাকটেরিয়ার বিষাক্ত টক্সিনের সাথে যুক্ত হয়ে সেগুলোকে নিষ্ক্রিয় বা অকার্যকর করে দেয়। ফলে এগুলো আর কোষকে আক্রমণ করতে পারে না।
    ২. পুঞ্জীভবন বা অ্যাগ্লুটিনেশন (Agglutination): অ্যান্টিবডি একাধিক অ্যান্টিজেন বা অণুজীবকে একসাথে আঠার মতো আটকে ফেলে একটি বড় পিণ্ড তৈরি করে, যার ফলে অণুজীবের সচলতা নষ্ট হয় এবং ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়া সহজ হয়।
    ৩. থিতানায়ন বা প্রিসিপিটেশন (Precipitation): অ্যান্টিবডি দ্রবণীয় অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অদ্রবণীয় জটিল যৌগ গঠন করে নিচে তলানি আকারে থিতিয়ে ফেলে।
    ৪. অপসোনাইজেশন (Opsonization): অ্যান্টিবডি ব্যাকটেরিয়ার প্রাচীরে সংযুক্ত হয়ে একটি বিশেষ আস্তরণ তৈরি করে, যা ম্যাক্রোফেজ ও নিউট্রোফিল দ্বারা ব্যাকটেরিয়াকে দ্রুত ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় ভক্ষণ করতে সাহায্য করে।
    ৫. কমপ্লিমেন্ট সক্রিয়করণ (Complement Activation): অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি কমপ্লেক্স রক্তরসের কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমকে সক্রিয় করে ব্যাকটেরিয়ার প্রাচীর বিদীর্ণ (lysis) করে ধ্বংস করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের গঠনটি হলো অ্যান্টিবডি এবং উল্লিখিত স্মৃতিকোষ হলো মেমরি বি-কোষ (Memory B-cell)। স্মৃতিকোষ অ্যান্টিবডির উৎপাদন ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। নিচে এর স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো:

    ১. প্রাথমিক প্রতিরক্ষা সাড়া (Primary Immune Response): দেহে যখন কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেন বা অণুজীব প্রথমবার প্রবেশ করে, তখন বি-লিম্ফোসাইট কোষ সক্রিয় হয়ে প্লাজমা কোষ ও মেমরি কোষে রূপান্তরিত হয়। প্লাজমা কোষ অ্যান্টিবডি তৈরি করে অণুজীবকে ধ্বংস করে। তবে এই প্রক্রিয়ায় অ্যান্টিবডি তৈরি হতে বেশ সময় লাগে এবং অ্যান্টিবডির পরিমাণও তুলনামূলকভাবে কম হয়। এই সংক্রমণের সময় কিছু মেমরি কোষ তৈরি হয়ে দেহে দীর্ঘদিন সুপ্তাবস্থায় থাকে এবং অ্যান্টিজেনটির গঠন মনে রাখে।

    ২. দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা সাড়া (Secondary Immune Response): পরবর্তীতে একই অণুজীব বা অ্যান্টিজেন যখন পুনরায় দেহে প্রবেশ করে, তখন সুপ্ত স্মৃতিকোষগুলো (মেমরি বি-কোষ) অত্যন্ত দ্রুত ওই অ্যান্টিজেনকে চিনে ফেলে। এরা দীর্ঘ প্রস্তুতিমূলক ধাপ ছাড়াই অতি দ্রুত বিভাজিত হয়ে বিপুল সংখ্যক প্লাজমা কোষ সৃষ্টি করে।

    ৩. দ্রুত ও অধিক অ্যান্টিবডি উৎপাদন: স্মৃতিকোষের সহায়তায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিপুল পরিমাণ উচ্চ কার্যক্ষমতাসম্পন্ন অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। এতে রক্তের অ্যান্টিবডির ঘনত্ব খুব দ্রুত শিখরে পৌঁছায় এবং অণুজীবটি শরীরে রোগ সৃষ্টি করার পূর্বেই পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।

    সুতরাং, স্মৃতিকোষ দেহের প্রতিরক্ষায় অ্যান্টিবডিকে তাৎক্ষণিকভাবে এবং বহুগুণে ক্রিয়াশীল করতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন