বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে রতনপুর গ্রামের মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে পরিণত হয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক হাতেম আলী হয়ে ওঠেন হানাদার বাহিনীর আশ্রয়দাতা ও সাহায্যকারী। তিনি এ কাজে সহকর্মীদেরও বাধ্য করেন এবং কেউ সম্মত না হলে তার সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেন। অধিকাংশ শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের এ ধরনের কাজকে ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখেন কিন্তু ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পান না। সহকারী প্রধান শিক্ষক বাছেদ মিয়া ভীরু প্রকৃতির মানুষ হলেও তিনি ছিলেন মনে-প্রাণে একজন দেশপ্রেমিক মানুষ। তিনি গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করতেন। তাঁর পরামর্শে মুক্তিযোদ্ধারা রাতের অন্ধকারে হাতেম আলীকে ধরে নিয়ে বিচারের মুখোমুখি করেন।
- ক)(1)
'রেইনকোট' গল্পে পিয়নের নাম কী?
- খ)(2)
'ক্রাক-ডাউনের রাত' বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের হাতেম আলী 'রেইনকোট' গল্পের কোন চরিত্রের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং কেন?
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ঘটনার পরিণতি প্রত্যাশিত কিন্তু 'রেইনকোট' গল্পের পরিণতি থেকে ভিন্ন।” -উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'রেইনকোট' গল্পে পিয়নের নাম ইসহাক মিয়া।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ক্র্যাক-ডাউনের রাত' বলতে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত বাঙালিদের ওপর চালানো আকস্মিক ও বর্বরোচিত সামরিক গণহত্যাকে (অপারেশন সার্চলাইট) বোঝায়।
পাকিস্তানি জান্তা সরকার পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতাকামী নিরস্ত্র মানুষের কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই ভয়াল রাতে ট্যাংক, মেশিনগানসহ ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘুমন্ত নিরীহ জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। 'রেইনকোট' গল্পে এই ভয়াল রাতের কথাই নির্দেশ করা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের হাতেম আলী 'রেইনকোট' গল্পের কলেজের পাকিস্তানি দোসর প্রিন্সিপাল ড. আফাজ আহমদের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
'রেইনকোট' গল্পে প্রিন্সিপাল ড. আফাজ আহমদ ছিলেন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর একনিষ্ঠ দোসর। তিনি পাকিস্তানি সেনাদের সুবিধার্থে কলেজে নানা তৎপরতা চালাতেন, উর্দু ভাষার গুণগান করতেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের 'মিসক্রিয়ান্ট' আখ্যা দিয়ে শিক্ষকদেরও পাকিস্তানি বাহিনীর অনুগত থাকতে বাধ্য করতেন। তাঁর ভয়ে ও নির্দেশে শিক্ষকরা ভীতসন্ত্রস্ত থাকতেন।
উদ্দীপকের হাতেম আলীও একজন প্রধান শিক্ষক, যিনি মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে নিজের মাধ্যমিক বিদ্যালয়টিকে হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে পরিণত করেন। তিনি হানাদার বাহিনীর আশ্রয়দাতা ও প্রধান সহায়ক হয়ে ওঠেন এবং অন্য শিক্ষকদেরও এ কাজে বাধ্য করেন। ড. আফাজ আহমদের মতোই হাতেম আলী স্বদেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে হানাদার বাহিনীর সেবাদাসে পরিণত হয়েছেন। তাই দেশদ্রোহী ও হানাদারদের সহযোগীরূপী ভূমিকার কারণে হাতেম আলী 'রেইনকোট' গল্পের ড. আফাজ আহমদ চরিত্রের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনার পরিণতি প্রত্যাশিত কিন্তু 'রেইনকোট' গল্পের পরিণতি থেকে ভিন্ন— মন্তব্যটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রাজাকার প্রধান শিক্ষক হাতেম আলীর চরম বিশ্বাসঘাতকতা ও অত্যাচার মেনে নিতে না পেরে সহকারী প্রধান শিক্ষক বাছেদ মিয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করেন এবং তাঁর পরামর্শে মুক্তিযোদ্ধারা রাতে হাতেম আলীকে ধরে নিয়ে বিচারের মুখোমুখি করে। দেশদ্রোহী ও রাজাকারদের এমন পরিণতিই প্রত্যাশিত ছিল, কারণ স্বাধীনতা সংগ্রামে মুক্তিকামী জনতার হাতে রাজাকার-দালালদের পরাজয় ও বিচার নিশ্চিত পরিণতি হিসেবেই ধরা হয়।
অন্যদিকে, 'রেইনকোট' গল্পের পরিণতি ভিন্ন প্রেক্ষাপট ও মাত্রায় সমাপ্ত হয়েছে। গল্পে প্রিন্সিপাল বা রাজাকারদের কোনো বিচারের দৃশ্য দেখানো হয়নি; বরং নিরীহ ও সাধারণ শিক্ষক নুরুল হুদাকে মুক্তিযোদ্ধারা প্রিন্সিপালের বাসায় ও কলেজের আলমারি সরানোর সূত্রে সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহে হানাদার বাহিনী আটক করে। শ্যালক মুক্তিযোদ্ধার রেইনকোটটি গায়ে জড়ানোর পর সাধারণ নুরুল হুদার মধ্যে এক অভূতপূর্ব দেশপ্রেম, সাহস ও আত্মপ্রত্যয় জাগ্রত হয়। পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম অত্যাচারের মুখেও তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ঠিকানা প্রকাশ করেননি; বরং মুক্তিযোদ্ধাদের স্যালুটের কথা ভেবে মানসিক বিজয় ও আত্মতৃপ্তি লাভ করেন।
অতএব, উদ্দীপকে দেশদ্রোহীর শাস্তি ও বিচার পাওয়ার মতো স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত সমাপ্তি ঘটলেও 'রেইনকোট' গল্পে একটি সাধারণ মানুষের রূপান্তর, প্রতিরোধ ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয়তাবোধের মহিমান্বিত ভাবার্থ প্রতিফলিত হয়েছে, যা উদ্দীপকের পরিণতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই উক্তিটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও