জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    ATP এর পূর্ণরূপ কী?

    (1)
  2. খ)

    নিউক্লিওটাইড বলতে কী বোঝ ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক চক্রটিতে উৎপন্ন শক্তির পরিমাণ ছকের সাহায্যে দেখাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে চক্রটির উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির ভিত্তিতে শ্বসনের দু'টি ধরনের মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ATP-এর পূর্ণরূপ হলো Adenosine Triphosphate (অ্যাডেনোসিন ট্রাইফসফেট)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    এক অণু পেন্টোজ শ্যুগার, এক অণু নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক (নাইট্রোজেনাস বেস) এবং এক অণু অজৈব ফসফেট যুক্ত হয়ে যে যৌগ গঠিত হয়, তাকে নিউক্লিওটাইড বলে। নিউক্লিওটাইড হলো নিউক্লিক অ্যাসিডের (DNA ও RNA) গঠনগত একক। এক অণু নিউক্লিওসাইডের সাথে ফসফরিক অ্যাসিড এস্টার বন্ধন দ্বারা যুক্ত হয়ে নিউক্লিওটাইড গঠন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রদর্শিত চক্রটি হলো শ্বসনের তৃতীয় পর্যায় বা ক্রেবস চক্র (Krebs Cycle)।

    গ্লাইকোলাইসিসে উৎপন্ন দুই অণু পাইরুভিক অ্যাসিড থেকে অ্যাসিটাইল কো-এ তৈরি হওয়ার পর প্রতিটি অ্যাসিটাইল কো-এ এক এক করে ক্রেবস চক্রে প্রবেশ করে। ফলে প্রতি অণু গ্লুকোজ জারণের জন্য ক্রেবস চক্রটি দুইবার আবর্তিত হয়।

    ক্রেবস চক্রে মোট শক্তি উৎপাদনের হিসাব ছকের মাধ্যমে দেখানো হলো:

    উৎপন্ন উপাদানসংখ্যা (প্রতি অণু গ্লুকোজে ক্রেবস চক্রে)ATP-তে রূপান্তরমোট ATP
    NADH+H+NADH + H^+৬ অণু৬×৩৬ \times ৩ ATP১৮ ATP
    FADH2FADH_2২ অণু২×২২ \times ২ ATP৪ ATP
    GTP২ অণু২×১২ \times ১ ATP২ ATP
    সর্বমোট২৪ ATP

    সুতরাং, ক্রেবস চক্রে এক অণু গ্লুকোজের সম্পূর্ণ জারণ প্রক্রিয়ার ফলে মোট ২৪ অণু ATP উৎপন্ন হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত চক্রটি হলো ক্রেবস চক্র। শ্বসন প্রক্রিয়ায় এই চক্রটির উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে শ্বসন দুই প্রকার— সবাত শ্বসন (Aerobic respiration) এবং অবাত শ্বসন (Anaerobic respiration)। ক্রেবস চক্রটি সবাত শ্বসনে উপস্থিত থাকে কিন্তু অবাত শ্বসনে অনুপস্থিত থাকে।

    নিচে সবাত ও অবাত শ্বসনের তুলনামূলক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো:

    ১. অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা: সবাত শ্বসনে মুক্ত অক্সিজেনের উপস্থিতি অপরিহার্য; অপরদিকে অবাত শ্বসন অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়।

    ২. ক্রেবস চক্রের উপস্থিতি: সবাত শ্বসনে গ্লাইকোলাইসিস, অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি, ক্রেবস চক্র ও ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র— এই চারটি ধাপই ঘটে। কিন্তু অবাত শ্বসনে ক্রেবস চক্র ও ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র ঘটে না; কেবল গ্লাইকোলাইসিস ও পাইরুভিক অ্যাসিডের অসম্পূর্ণ বিজারণ ঘটে।

    ৩. বিক্রিয়াস্থল: সবাত শ্বসনের ক্রেবস চক্র এবং ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র মাইটোকন্ড্রিয়ায় সংঘটিত হয়। অবাত শ্বসনের সকল বিক্রিয়া কেবল সাইটোপ্লাজমেই সীমাবদ্ধ থাকে।

    ৪. শ্বসনিক বস্তুর জারণ: সবাত শ্বসনে শ্বসনিক বস্তু (যেমন— গ্লুকোজ) সম্পূর্ণরূপে জারিত হয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানিতে পরিণত হয়। অবাত শ্বসনে শ্বসনিক বস্তু আংশিক জারিত হয়ে ইথাইল অ্যালকোহল বা ল্যাকটিক অ্যাসিড এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে।

    ৫. উৎপন্ন শক্তি: ক্রেবস চক্র কার্যকর থাকার ফলে সবাত শ্বসনে প্রতি অণু গ্লুকোজ থেকে বিপুল পরিমাণ শক্তি (৩৮ অণু বা বর্তমান গণনা অনুযায়ী ৩৬/৩২ অণু ATP বা প্রায় ৬৮৬ কিলোক্যালরি) উৎপন্ন হয়। অন্যদিকে ক্রেবস চক্রের অনুপস্থিতির কারণে অবাত শ্বসনে অতি সামান্য শক্তি (মাত্র ২ অণু ATP বা প্রায় ৫০-৫৬ কিলোক্যালরি) উৎপন্ন হয়।

    অতএব, ক্রেবস চক্রের উপস্থিতির কারণেই সবাত শ্বসন শক্তি উৎপাদনের দিক থেকে অবাত শ্বসনের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর ও উন্নত পর্যায়ের প্রক্রিয়া।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন