সমাজকর্ম ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    ওয়াক্‌ফ কী?

    (1)
  2. খ)

    ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর বিখ্যাত কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক ছবি-১ দ্বারা কোন সমাজসংস্কার আন্দোলনকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপক ছবি-২ এর সমাজসংস্কার আন্দোলনটি চিহ্নিতকরণপূর্বক তৎকালীন সমাজে উক্ত আন্দোলন এর প্রভাব আলোচনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী কোনো মুসলমান কর্তৃক ধর্মীয়, জনহিতকর বা সমাজকল্যাণমূলক স্থায়ী কাজের উদ্দেশ্যে নিজস্ব স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি চিরতরে আল্লাহর নামে উৎসর্গ করাকে ওয়াক্‌ফ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর পাণ্ডিত্য, সমাজসংস্কার এবং মানবহিতৈষী কর্মকাণ্ডের জন্য বিখ্যাত। বিশেষ করে উনিশ শতকের তৎকালীন রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের চরম বিরোধিতার মুখে দাঁড়িয়ে ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন পাস করানোর ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল অসামান্য। এছাড়া বহুবিবাহ রোধ, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং নারীশিক্ষা বিস্তারে তাঁর আজীবন সংগ্রামের কারণে তিনি বাঙালি সমাজে প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে আছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছবি-১ দ্বারা অমানবিক ও কুখ্যাত 'সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ আন্দোলন'-কে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    তৎকালীন হিন্দু সমাজে প্রচলিত একটি কুপ্রথা ছিল সতীদাহ প্রথা, যেখানে মৃত স্বামীর চিতায় জীবিত বিধবা স্ত্রীকে জোরপূর্বক আগুনে পুড়িয়ে মারা হতো। এই নির্মম প্রথার বিরুদ্ধে রাজা রামমোহন রায় বলিষ্ঠ সমাজসংস্কার আন্দোলন গড়ে তোলেন। তিনি বিভিন্ন হিন্দু শাস্ত্র ও যুক্তি উপস্থাপন করে প্রমাণ করেন যে, সতীদাহ কোনো ধর্মীয় বিধান নয় বরং এক নির্মম হত্যাকাণ্ড। তাঁর দীর্ঘ ও অবিরাম প্রচেষ্টার ফলে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ১৮২৯ সালের ৪ ডিসেম্বর সপ্তদশ আইনের (Regulation XVII) মাধ্যমে সতীদাহ প্রথাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ও বেআইনি ঘোষণা করে। উদ্দীপকের প্রথম চিত্রে দেখা যায় চিতায় একজন নারীকে দাহ করা হচ্ছে, যা সুস্পষ্টভাবে সতীদাহ প্রথা এবং এর বিরুদ্ধে পরিচালিত আন্দোলনকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছবি-২ দ্বারা বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের পরিচালিত 'মুসলিম নারীশিক্ষা ও নারীজাগরণ আন্দোলন'-কে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    তৎকালীন সমাজে এই আন্দোলনের প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী:
    ১. নারীশিক্ষার ভিত্তি স্থাপন: বেগম রোকেয়া ১৯০৯ সালে ভাগলপুরে এবং পরবর্তীতে ১৯১১ সালে কলকাতায় 'সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মুসলিম পরিবারের মেয়েদের স্কুলে আনার চেষ্টা চালান, যার ফলে অবরুদ্ধ মুসলিম সমাজে নারীশিক্ষার দ্বার উন্মোচিত হয়।
    ২. কুসংস্কার ও অবরোধপ্রথার বিরুদ্ধে সচেতনতা: তৎকালীন সমাজে নারীদের জন্য কঠোর ও ক্ষতিকর পর্দা বা অবরোধপ্রথা চালু ছিল। তাঁর লেখা প্রবন্ধ, উপন্যাস এবং কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি সমাজের এ ধরনের অন্ধ কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড আঘাত হানেন এবং যৌক্তিক পর্দার পক্ষে অবস্থান নিয়ে নারীদের ঘর থেকে বের হওয়ার প্রেরণা জোগান।
    ৩. নারী অধিকার ও সংগঠনের বিকাশ: ১৯১৬ সালে তিনি 'আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম' (নিখিল ভারত মুসলিম মহিলা সমিতি) প্রতিষ্ঠা করেন। এর মাধ্যমে তিনি দরিদ্র, দুস্থ নারীদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন।
    ৪. মানসিক জাগরণ: তাঁর লেখনী ও আন্দোলনের ফলে তৎকালীন পশ্চাৎপদ মুসলিম সমাজে এক নবজাগরণের সৃষ্টি হয় এবং নারীরা তাদের অধিকার ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে।

    সুতরাং, ছবি-২ এর আন্দোলনটি তৎকালীন সমাজে নারীদের অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করে তাদের স্বাবলম্বী ও শিক্ষিত করার মাধ্যমে এক যুগান্তকারী প্রভাব বিস্তার করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন