অর্থনীতি ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. রউফ একটি মোটরসাইকেল কারখানার মালিক। ২০১৫ সালে তার প্রাথমিক মূলধনের পরিমাণ ছিল ৫০০ কোটি টাকা। মোটরসাইকেল উৎপাদন লাভজনক হওয়ায় ২০১৬ সালে তিনি মূলধনের পরিমাণ ৬০০ কোটি টাকায় উন্নীত করলেন। উক্ত সময়ে তার মূলধনের ক্ষয়ক্ষতিজনিত ব্যয় ছিল ৫ কোটি টাকা। সম্প্রতি সরকার মূলধনের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য সুদের হার কমানো, সঠিক মুদ্রানীতি গ্রহণ, দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রভৃতি বিভিন্নধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
- ক)(1)
স্থায়ী মূলধন কাকে বলে?
- খ)(2)
মূলধন কি একটি নিস্ক্রিয় উপাদান? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
মি. রউফ-এর নিট মূলধনের পরিমাণ নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
মূলধনের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য সরকারের পদক্ষেপ যথেষ্ট কি না? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব মূলধন সামগ্রী উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বারবার বা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা যায়, সেগুলোকে স্থায়ী মূলধন বলে (যেমন- কারখানা ভবন, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, মূলধন উৎপাদনের একটি নিষ্ক্রিয় উপাদান। মানুষের শ্রম ও উদ্যোগ ছাড়া মূলধন একা একা নিজে কোনো উৎপাদন কাজ পরিচালনা করতে পারে না। শ্রমিকের সংস্পর্শ এবং সংগঠকের নির্দেশনা পেলেই কেবল মূলধন উৎপাদনশীল ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়; অন্যথায় এটি জড় ও নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পড়ে থাকে। তাই মূলধনকে উৎপাদনের নিষ্ক্রিয় বা পরোক্ষ উপাদান বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের তথ্য অনুসারে:
২০১৫ সালে প্রাথমিক মূলধন () = ৫০০ কোটি টাকা
২০১৬ সালে মোট মূলধন () = ৬০০ কোটি টাকা
সুতরাং, ২০১৬ সালে মোট মূলধন বৃদ্ধি বা মোট বিনিয়োগ () = কোটি টাকা।মূলধনের ক্ষয়ক্ষতিজনিত ব্যয় বা অপচয় ব্যয় () = ৫ কোটি টাকা।
আমরা জানি,
নিট মূলধন বৃদ্ধি বা নিট বিনিয়োগ () = মোট বিনিয়োগ () - ক্ষয়ক্ষতিজনিত ব্যয় ()
= ১০০ কোটি টাকা - ৫ কোটি টাকা
= ৯৫ কোটি টাকা।অতএব, মি. রউফের ২০১৬ সালের নিট মূলধনের বৃদ্ধি তথা নিট বিনিয়োগের পরিমাণ ৯৫ কোটি টাকা। আর তাঁর ২০১৬ সালের ক্ষয়ক্ষতি পরবর্তী প্রকৃত মোট নিট মূলধনের স্থিতি দাঁড়ায় () = ৫৯৫ কোটি টাকা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মূলধনের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য উদ্দীপকে উল্লেখিত সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত সময়োপযোগী হলেও তা এককভাবে যথেষ্ট নয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মূলধনের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য সরকার সুদের হার হ্রাস, উপযুক্ত মুদ্রানীতি গ্রহণ, দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মতো ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সুদের হার কমলে বিনিয়োগ খরচ হ্রাস পায় এবং ঋণপ্রবাহ বাড়ে। সঠিক মুদ্রানীতি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে এবং অবকাঠামো ও জ্বালানি সুবিধা উৎপাদন ব্যয় কমাতে সাহায্য করে।
তবে দেশে মূলধন গঠনের ভিত্তি হলো সঞ্চয়। মূলধনের টেকসই বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, সঞ্চয় প্রবণতা বাড়ানো, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও সুশাসন নিশ্চিতকরণ। এ ছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রশাসনিক জটিলতা বা আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা হ্রাস, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং উপযুক্ত কর অবকাশ (tax holiday) সুবিধা ছাড়া বিনিয়োগকারীরা পর্যাপ্ত মূলধন বিনিয়োগে উৎসাহিত হন না।
সুতরাং, সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো প্রশংসনীয় হলেও মূলধনের সার্বিক ও স্থায়ী বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত সঞ্চয় সৃষ্টি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করা আবশ্যক। তাই কেবল উদ্দীপকের পদক্ষেপগুলোকে সম্পূর্ণ যথেষ্ট বলা চলে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও