যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্য-১: সুবর্ষণ হলে → \rightarrow ফলন ভালো হয় → \rightarrow ফসলের ভালো দাম পাওয়া যায় → \rightarrow কৃষকের সমৃদ্ধি আসে।দৃশ্য-২: মুছা সাহেব পুকুরে মাছ চাষ করেন। এ বছর বন্যায় পুকুরের পাড় ভেঙে মাছ ভেসে যায়। এতে তিনি ক্ষতির সম্মুখীন হন। তাঁর মা বললেন, "অশুভ দৃষ্টির প্রভাবে এ অবস্থা হয়েছে। ঝাড়-ফুঁক করনো তা কেটে যাবে।" তখন মুছা সাহেব বললেন, "অতি বৃষ্টি ও বন্যার তীব্র স্রোতে পুকুরের পাড় ভেঙে যাওয়াতে মাছ ভেসে গেছে।"
- ক)(1)
ব্যাখ্যা কী?
- খ)(2)
অন্তর্ভুক্তি বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
দৃশ্য-১ এ নির্দেশিত বিষয়টি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্য-২ এ মা এবং মুছা সাহেবের উক্তি দৃটিতে যে ধরনের ব্যাখ্যা নির্দেশিত হয়েছে তাদের মধ্যকার পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো দুর্বোধ্য, জটিল ও অস্পষ্ট বিষয়কে সহজ, বোধগম্য ও সুস্পষ্ট করার প্রক্রিয়াকে যুক্তিবিদ্যায় ব্যাখ্যা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার একটি রূপ হলো অন্তর্ভুক্তি (Subsumption)। কোনো একটি অপেক্ষাকৃত কম ব্যাপক নিয়মকে যখন একটি অপেক্ষাকৃত বেশি ব্যাপক বা সাধারণ নিয়মের অধীনে এনে ব্যাখ্যা করা হয়, তখন তাকে অন্তর্ভুক্তি বলে। যেমন— জোয়ার-ভাটার নিয়মকে তুলনামূলকভাবে ব্যাপক মহাকর্ষ নিয়মের অধীনে অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাখ্যা করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্য-১ এ নির্দেশিত বিষয়টি হলো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার অন্যতম রূপ 'শৃঙ্খলযোজন' (Colligation or Concatenation of laws / Chain of causation)।
কার্যকারণ সম্পর্কের শৃঙ্খলে কোনো দূরবর্তী কারণ এবং মূল কার্যের মধ্যবর্তী অন্তর্বর্তী ধাপগুলোকে পর্যায়ক্রমে আবিষ্কার করে ব্যাখ্যা করাই হলো শৃঙ্খলযোজন। দৃশ্য-১ এ দেখানো হয়েছে: সুবর্ষণ হলে → ফলন ভালো হয় → ফসলের ভালো দাম পাওয়া যায় → কৃষকের সমৃদ্ধি আসে।
এখানে 'সুবর্ষণ' এবং 'কৃষকের সমৃদ্ধি'—এই দুটি ঘটনার মধ্যে সরাসরি কার্যকারণ সম্পর্ক স্পষ্ট ছিল না। কিন্তু মধ্যবর্তী কারণ বা ধাপগুলোর (ফলন ভালো হওয়া এবং ভালো দাম পাওয়া) একটি শৃঙ্খল বা ধারাবাহিক যোগসূত্র উন্মোচন করে সুবর্ষণের সাথে কৃষকের সমৃদ্ধির সম্পর্কটিকে বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অতএব, এটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার শৃঙ্খলযোজন রূপকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্য-২ এ মুছা সাহেবের মায়ের উক্তিতে 'লৌকিক ব্যাখ্যা' এবং মুছা সাহেবের উক্তিতে 'বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা' নির্দেশিত হয়েছে। এদের মধ্যকার পার্থক্য নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. কার্যকারণ সম্পর্ক: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রাকৃতিক কার্যকারণ সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত। মুছা সাহেব বাস্তব কারণ (অতিবৃষ্টি ও বন্যার স্রোত) দিয়ে পুকুরের পাড় ভাঙার ঘটনা ব্যাখ্যা করেছেন। অপরদিকে লৌকিক ব্যাখ্যা কাল্পনিক ও অতিপ্রাকৃতিক ধারণার ওপর নির্ভরশীল, যেমন মা 'অশুভ দৃষ্টি'কে দায়ী করেছেন।
২. পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণ: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বস্তুনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ ও প্রমাণের ভিত্তিতে গৃহীত হয়। কিন্তু লৌকিক ব্যাখ্যায় কোনো বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ থাকে না, এটি অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারপ্রসূত।
৩. গ্রহণযোগ্যতা ও সার্বজনীনতা: মুছা সাহেবের ব্যাখ্যাটি বিজ্ঞানসম্মত, যুক্তিসঙ্গত এবং সার্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য। কিন্তু তাঁর মায়ের ঝাড়-ফুঁকের মতো কুসংস্কারমূলক ব্যাখ্যা কোনো বৈজ্ঞানিক মানদণ্ডে গ্রহণযোগ্য নয়।
৪. ব্যাখ্যার প্রকৃতি: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কোনো ঘটনার বাস্তব ও অন্তর্নিহিত কারণ নির্ণয় করে বিষয়টিকে বোধগম্য করে। পক্ষান্তরে লৌকিক ব্যাখ্যা আপাতদৃষ্টিতে একটি অতিপ্রাকৃতিক কারণ আরোপ করে প্রকৃত সত্যকে আড়াল করে।
সুতরাং, দৃশ্য-২ এর উক্তি দুটির একটি হলো অযৌক্তিক লৌকিক ব্যাখ্যা এবং অন্যটি হলো যুক্তিসঙ্গত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও