বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

  1. ক)

    মামলুক কারা?

    (1)
  2. খ)

    বাংলায় নীল বিদ্রোহের অবসান ঘটে কীভাবে ? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    চিত্র-ক-এ উল্লেখিত মহীয়সী নারী- নারী শিক্ষায় কী ভূমিকা রেখেছিলেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    চিত্র-খ-এ উল্লেখিত ব্যক্তি "আধুনিক সমাজ গঠনে সস্মরণীয়-বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    আরবি ভাষায় দাসদের 'মামলুক' বলা হয়। বাংলায় ইওয়াজ খলজির মৃত্যুর পর ১২৮৭ সাল পর্যন্ত দিল্লির যেসব দাস শাসনকর্তা বাংলা শাসন করেন, তাঁদেরও মামলুক বলা হয়।

  2. খ)

    নীল চাষে বাধ্য করা ও নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে ১৮৫৯ সালে বাংলার কৃষকরা বিদ্রোহ করে। কৃষকরা নীল চাষ না করার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয়। শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণিও তাদের পাশে দাঁড়ায়। বিভিন্ন পত্রিকায় নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনি প্রকাশিত হয় এবং দীনবন্ধু মিত্রের 'নীলদর্পণ' নাটক ব্যাপক সাড়া ফেলে। এই সম্মিলিত চাপে সরকার নীলকরদের অত্যাচার তদন্তে নীল কমিশন গঠন করে এবং নীল চাষ বাধ্যতামূলক না রাখার ব্যবস্থা নেয়। এভাবে নীল বিদ্রোহের অবসান ঘটে।

  3. গ)

    চিত্র-ক-এ উল্লেখিত মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। নারীশিক্ষায় তাঁর ভূমিকা অসামান্য।

    ১. লেখনীর মাধ্যমে সচেতনতা: বিশ শতকের শুরুতে মুসলমান মেয়েরা শিক্ষা ও সব অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। রোকেয়া 'অবরোধবাসিনী', 'পদ্মরাগ', 'মতিচুর', 'সুলতানার স্বপ্ন' প্রভৃতি গ্রন্থে নারীদের করুণ দশা তুলে ধরেন।
    ২. স্কুল প্রতিষ্ঠা: স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি ভাগলপুরে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। ১৯১১ সালে কলকাতায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল প্রাইমারি স্কুল স্থাপন করেন, যা ১৯৩১ সালে উচ্চ ইংরেজি গার্লস স্কুলে উন্নীত হয়। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এর প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন।
    ৩. সংগঠন: ১৯১৬ সালে 'আঞ্জুমান খাওয়াতিনে ইসলাম' প্রতিষ্ঠা করে নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আইনগত অধিকারের জন্য কাজ করেন।

  4. ঘ)

    চিত্র-খ-এ উল্লেখিত ব্যক্তি রাজা রামমোহন রায়। আধুনিক সমাজ গঠনে তিনি স্মরণীয়, এ বক্তব্য যথার্থ।

    ১. সমাজ সংস্কার: তিনি সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন। তাঁর প্রচেষ্টায় ১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা আইন করে বন্ধ করা হয়।
    ২. ধর্ম সংস্কার: তিনি কুসংস্কার ও মূর্তিপূজার বিরোধিতা করে একেশ্বরবাদী ধর্মচিন্তা প্রচার করেন এবং ব্রাহ্ম সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন।
    ৩. শিক্ষা ও সাংবাদিকতা: তিনি আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে উদ্যোগ নেন। 'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকা প্রকাশ করে জনমত গঠন করেন।
    ৪. নবজাগরণের পথপ্রদর্শক: তাঁর সংস্কার প্রচেষ্টা বাংলার নবজাগরণের ভিত্তি তৈরি করে।

    সুতরাং, কুসংস্কার দূর করে আধুনিক ও যুক্তিনির্ভর সমাজ গঠনে রামমোহন রায়ের অবদান চিরস্মরণীয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন