গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ • বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
নীরব ঘাতক রোগ কোনটি?
- খ)(2)
প্রজনন স্বাস্থ্য বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
ছকে ‘?’ কোন রোগকে নির্দেশ করেছে? এ রোগের ঝুঁকিসমূহ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত রোগের ঝুঁকি প্রতিরোধে করণীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে লেখো। বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উচ্চ রক্তচাপকে (Hypertension) সাধারণত নীরব ঘাতক বা Silent Killer বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রজনন স্বাস্থ্য বলতে কেবল প্রজনন প্রক্রিয়ায় কোনো রোগ বা অক্ষমতার অনুপস্থিতি বোঝায় না; বরং প্রজনন ব্যবস্থা, এর কার্যাবলি এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াসমূহের সার্বিক শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক সুস্থতার অবস্থাকে বোঝায়। এর মধ্যে নিরাপদ মাতৃত্ব, পরিবার পরিকল্পনা ও প্রজননতন্ত্র সম্পর্কিত যেকোনো স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্ত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছকে ‘?’ চিহ্নিত স্থানে এইডস (AIDS) রোগকে নির্দেশ করা হয়েছে। এইচআইভি (HIV) সংক্রমণের চূড়ান্ত পর্যায়ে শুকনো কাশি, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর বা অনিদ্রা জ্বর এবং স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত হওয়ার কারণে মস্তিষ্কের প্রদাহসহ নানা জটিল উপসর্গ দেখা দেয়।
এইডস রোগের প্রধান ঝুঁকিসমূহ নিম্নরূপ:
১. অনিরাপদ বা ঝুঁকিপূর্ণ শারীরিক মিলন: এইচআইভি পজিটিভ কোনো ব্যক্তির সাথে কনডমবিহীন বা অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে সংক্রমণের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়।
২. সংক্রমিত রক্ত বা রক্তজাত পদার্থ গ্রহণ: পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত বা অঙ্গ গ্রহণ করলে সরাসরি এ রোগ ছড়ায়।
৩. ব্যবহৃত সুচ ও সিরিঞ্জের পুনঃব্যবহার: বিশেষ করে শিরায় মাদক গ্রহণকারীরা একই সুচ ও সিরিঞ্জ একাধিকবার বা ভাগাভাগি করে ব্যবহার করলে অত্যন্ত সহজে এ ভাইরাস ছড়ায়।
৪. আক্রান্ত মা থেকে সন্তানে স্থানান্তর: এইচআইভি পজিটিভ গর্ভবতী মায়ের থেকে গর্ভকালীন সময়ে, প্রসবের সময় অথবা বুকের দুধ পানের মাধ্যমে নবজাতকের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকি থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত এইডস (AIDS) রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ ও করণীয় বিষয়সমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসন মেনে চলা: বৈবাহিক ও পারিবারিক জীবনে বিশ্বস্ত থাকা এবং যেকোনো প্রকার অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্ক পরিহার করা এইডস প্রতিরোধের প্রধানতম উপায়।
২. নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন নিশ্চিত করা: শরীরে রক্ত বা অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পূর্বে রক্তে এইচআইভি ভাইরাস রয়েছে কি না, তা সঠিকভাবে ল্যাবরেটরিতে স্ক্রিনিং ও পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে।
৩. নতুন ও জীবাণুমুক্ত সুচ-সিরিঞ্জ ব্যবহার: ইনজেকশন গ্রহণ, রক্তদান বা যেকোনো চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রতিবার নতুন ও জীবাণুমুক্ত (ডিসপোজেবল) সুচ-সিরিঞ্জ ব্যবহার করতে হবে। শিরায় মাদকাসক্তদের কোনোভাবেই সুচ ভাগাভাগি করা যাবে না।
৪. মা ও শিশুর বিশেষ চিকিৎসা: এইচআইভি পজিটিভ গর্ভবতী মাকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপির আওতায় এনে চিকিৎসার মাধ্যমে গর্ভস্থ সন্তানকে সংক্রমণমুক্ত রাখার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে হবে।
৫. জনসচেতনতা বৃদ্ধি: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সামাজিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এইডস রোগের কারণ, ক্ষতিকর প্রভাব এবং এর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করতে হবে।যেহেতু এইডস একটি মরণব্যাধি এবং এর কোনো নিরাময়যোগ্য চিকিৎসা এখনো আবিষ্কৃত হয়নি, তাই প্রতিকারের চেয়ে সতর্কতামূলক প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনাই হলো এই রোগ নিয়ন্ত্রণের একমাত্র কার্যকর পথ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও