অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
'ক' একটি কৃষিপ্রধান দেশ। দেশটিতে প্রচুর খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয়, যা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। মানুষের আয় বেশি কিন্তু শিক্ষার হার কম। খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে মানুষ পুষ্টির বিষয়টি বিবেচনা করে না। পারিবারিক পর্যায় থেকে শুরু করে অনেক হোটেল রেস্তোরাঁয়ও বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করা হয় না।
- ক)(1)
নিরাপদ খাদ্য কী?
- খ)(2)
দ্রুত শিল্পায়নের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তার কোন দিকটি অর্জন সম্ভব? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
'ক' দেশে খাদ্য নিরাপত্তার কোন কোন দিক বিদ্যমান? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'ক' দেশে পূর্ণমাত্রায় খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের ক্ষেত্রে সরকার ও জনসাধারণের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত বলে তুমি মনে কর?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে খাদ্য মানুষের সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিমান সম্পন্ন এবং মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর যেকোনো উপাদান (যেমন—জীবাণু, রাসায়নিক বিষাক্ত পদার্থ, ভেজাল ইত্যাদি) মুক্ত থাকে, তাকে নিরাপদ খাদ্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দ্রুত শিল্পায়নের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তার 'খাদ্যের ক্রয়ক্ষমতা' (Food Access) বা খাদ্যের অর্থনৈতিক প্রবেশাধিকার অর্জন সম্ভব।
শিল্পায়নের ফলে অর্থনীতিতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং মানুষের আয় ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। আয় বৃদ্ধির ফলে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে, যার মাধ্যমে তারা বাজার থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য সহজেই ক্রয় ও সংগ্রহ করতে পারে। ফলে খাদ্য নিরাপত্তার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অর্থাৎ খাদ্যে অভিগম্যতা বা প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' দেশে খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান তিনটি দিকের মধ্যে প্রথম দুটি দিক অর্থাৎ 'খাদ্যের পর্যাপ্ত প্রাপ্যতা' (Food Availability) এবং 'খাদ্যের প্রবেশাধিকার বা ক্রয়ক্ষমতা' (Food Access) বিদ্যমান রয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তার ধারণা অনুযায়ী, দেশের সকল নাগরিকের সক্রিয় ও স্বাস্থ্যবান জীবনের জন্য সার্বক্ষণিক পর্যাপ্ত, পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা প্রয়োজন। এর প্রথম দিকটি হলো খাদ্যের প্রাপ্যতা, যা দেশীয় উৎপাদন ও মজুতের ওপর নির্ভর করে। উদ্দীপকের 'ক' দেশটি কৃষিপ্রধান এবং এখানে প্রচুর খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয়, যা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। এটি খাদ্যের পর্যাপ্ত প্রাপ্যতা নিশ্চিত করে।
দ্বিতীয় দিকটি হলো খাদ্যের ক্রয়ক্ষমতা বা খাদ্যপ্রাপ্তির সক্ষমতা। উদ্দীপকে উল্লেখ আছে, 'ক' দেশের মানুষের আয় বেশি। আয় বেশি হওয়ার কারণে জনগণের বাজার থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য কেনার আর্থিক সামর্থ্য বা ক্রয়ক্ষমতা রয়েছে। সুতরাং, 'ক' দেশে খাদ্যের প্রাপ্যতা ও খাদ্যের অর্থনৈতিক প্রবেশাধিকার—এই দুটি দিক স্পষ্টভাবে বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ক' দেশে পূর্ণমাত্রায় খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের ক্ষেত্রে সরকার ও জনসাধারণ উভয়েরই গুরুত্বপূর্ণ ও সমন্বিত ভূমিকা পালন করা উচিত।
উদ্দীপকের 'ক' দেশে খাদ্যের প্রাপ্যতা এবং মানুষের উচ্চ আয়ের কারণে খাদ্যের ক্রয়ক্ষমতা নিশ্চিত হলেও খাদ্য নিরাপত্তার তৃতীয় দিক অর্থাৎ 'খাদ্যের পুষ্টিগত সদ্ব্যবহার' (Food Utilization) এবং নিরাপদ খাদ্যের অভাব রয়েছে। সেখানে শিক্ষার হার কম, মানুষ খাদ্যের পুষ্টিমান সম্পর্কে সচেতন নয় এবং গৃহস্থালি ও রেস্তোরাঁয় বিশুদ্ধ পানির অভাব রয়েছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য নিম্নোক্ত ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন:
১. সরকারের ভূমিকা:
ক. পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি: দেশের সার্বিক শিক্ষার হার বৃদ্ধির পাশাপাশি সুষম খাদ্য ও পুষ্টি সম্পর্কিত গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
খ. নিরাপদ পানি সরবরাহ: সকল নাগরিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্য পাইপলাইনের মাধ্যমে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
গ. হোটেল ও খাদ্য নজরদারি: হোটেল-রেস্তোরাঁয় স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ও নিরাপদ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিয়মিত খাদ্য পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা।২. জনসাধারণের ভূমিকা:
ক. পুষ্টি সচেতনতা: খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু পেট ভরানো নয়, বরং খাদ্যের পুষ্টিমান ও সুষম খাদ্যের ভারসাম্যের দিকে নজর দেওয়া।
খ. স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা: পারিবারিক ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে খাবার তৈরি, সংরক্ষণ ও গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা।
গ. বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার: পরিবারে ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পানি ফুটিয়ে বা ফিল্টারিংয়ের মাধ্যমে নিরাপদ করে পান ও রান্নায় ব্যবহার করা।পরিশেষে বলা যায়, খাদ্যের পুষ্টিগত ব্যবহার ও নিরাপদ পানি নিশ্চিত করার মাধ্যমে সরকার ও জনগণের সম্মিলিত প্রয়াসেই 'ক' দেশে পূর্ণাঙ্গ খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও