সাহিত্য পাঠ • মাসি-পিসি • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
শৈশবে বাবা-মাকে হারিয়ে এক চাচার আশ্রয়ে থাকা আসমার জীবনে ঘটে যায় বাল্যবিবাহ। স্বামীর ঘরে অত্যাচার-নির্যাতন, পরে তালাক। চাচার সহযোগিতা না পেলেও দমে যায়নি সে। টিউশন করে লেখাপড়া চালিয়ে যায় সে। অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় লাভ করে ভালো ফল। আসমা এখন মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্রী।
- ক)(1)
'মাসি-পিসি' গল্পে চৌকিদারের নাম কী?
- খ)(2)
আহ্লাদিকে দেখে বুড়ো রহমানের চোখ ছলছল করে ওঠে কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের চাচা ও 'মাসি-পিসি' গল্পের মাসি-পিসি, চরিত্রের তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের আসমা এবং 'মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদি উভয়েই নির্যাতিত নারী সমাজের প্রতিনিধি।"- আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'মাসি-পিসি' গল্পে চৌকিদারের নাম কানাই।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আহ্লাদিকে দেখে বুড়ো রহমানের চোখ ছলছল করে ওঠে তার নিজের মৃত মেয়ের স্মৃতি ও বেদনার কারণে।
রহমানের একটি মেয়ে ছিল, যার নাম ছিল আহ্লাদি। কিন্তু মেয়েটি শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্মম অত্যাচারে অকালে মৃত্যুবরণ করে। গল্পের পিতৃমাতৃহীন নির্যাতিত আহ্লাদিকে দেখে রহমান তার নিজের মেয়ের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। সেই বাৎসল্যপ্রেম ও শোকের তীব্রতায় রহমানের চোখ ছলছল করে ওঠে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চাচা স্বার্থপর ও দায়িত্বহীন অভিভাবকত্বের প্রতীক, অন্যদিকে 'মাসি-পিসি' গল্পের মাসি-পিসি হলেন পরম স্নেহময়ী ও দায়িত্বশীল রক্ষক।
'মাসি-পিসি' গল্পে দেখা যায়, আহ্লাদি যখন বাবা-মা হারিয়ে এবং স্বামীর নির্যাতনে নিঃস্ব হয়ে পড়ে, তখন তার বিধবা মাসি ও পিসি তাকে পরম মমতায় আগলে রাখেন। আহ্লাদির নিরাপত্তার জন্য তারা নিজেদের জীবন বাজি রেখে সমাজের লোলুপ পুরুষ ও জোতদারদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। তারা আহ্লাদির কাছে শুধু আত্মীয় নন, বরং পরম আশ্রয় ও দুর্ভেদ্য প্রাচীরস্বরূপ।
বিপরীতে উদ্দীপকের চাচা ছিলেন সম্পূর্ণ নির্দয় ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। বাবা-মা হারানো ভাইঝি আসমাকে আশ্রয় দিলেও তিনি অল্প বয়সেই তাকে বিয়ে দেন। পরবর্তীতে আসমা স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে ফিরে এলেও চাচা তাকে কোনো সহযোগিতা করেননি।
সুতরাং, যেখানে 'মাসি-পিসি' আহ্লাদির সুরক্ষায় পরম মমতাময়ী ও প্রতিবাদী অভিভাবক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, সেখানে উদ্দীপকের চাচা ছিলেন দায়িত্বহীন, সংবেদনহীন ও স্বার্থপর—যা মাসি-পিসি চরিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকের আসমা এবং 'মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদি উভয়েই নির্যাতিত নারী সমাজের প্রতিনিধি"—বক্তব্যটি সম্পূর্ণ বাস্তব ও যথার্থ।
পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীরা প্রায়শই পারিবারিক ও সামাজিক নির্যাতনের শিকার হয়। 'মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদি এক নিঃস্ব তরুণী, যার জীবনের করুণ বাস্তবতা ফুটে উঠেছে শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনের মাধ্যমে। চরিত্রহীন ও অর্থলোভী স্বামী জগুর পাশবিক নির্যাতন সহ্য করে তাকে পিতৃগৃহে ফিরতে হয়েছে। আবার বাবার মৃত্যুর পর তার সহায়-সম্পত্তির ওপর সমাজের জোতদার ও গুন্ডাদের কুনজর পড়ে, ফলে সে প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতা ও শঙ্কার শিকার হয়।
উদ্দীপকের আসমাও একই পুরুষতান্ত্রিক নির্যাতনের শিকার। শৈশবে বাবা-মা হারানোর পর বাল্যবিবাহ এবং পরবর্তীতে স্বামীর নির্মম নির্যাতন ও তালাকের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। এমনকি রক্তের সম্পর্কের চাচাও তাকে সহায়তা করেনি।
সুতরাং, আসমা ও আহ্লাদি—উভয়েই অল্প বয়সে পিতৃহীনতা, বাল্যবিয়ে, পারিবারিক সহিংসতা এবং নিরাপত্তাহীনতার চরম শিকার হয়ে বাঙালি সমাজের লাঞ্ছিত ও নির্যাতিত নারী সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে। তবে আহ্লাদি মাসি-পিসির প্রতিরক্ষার ওপর নির্ভরশীল থাকলেও আসমা নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। কিন্তু নির্যাতনের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তারা উভয়েই সমাজের নির্যাতিত নারীজাতির সুস্পষ্ট প্রতীক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও