পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
'ক' রাষ্ট্রের স্বাধীনতার প্রায় সাত বছর পর অনুষ্ঠিত একটি প্রদেশের প্রথম নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে কয়েকটি রাজনৈতিক। দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়।
- ক)(1)
লাহোর প্রস্তাব কী?
- খ)(2)
বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোনো প্রাদেশিক নির্বাচনের। সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত নির্বাচর্ন স্বাধিকার আন্দোলনকে গতিশীল করে- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে এ. কে. ফজলুল হক কর্তৃক উত্থাপিত যে প্রস্তাবে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলো নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ গঠনের দাবি জানানো হয়, তাকে লাহোর প্রস্তাব বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ ও রক্ষা করার জন্য যে নীতি, কৌশল ও কর্মপন্থা অনুসরণ করে, তাকে বৈদেশিক নীতি বলে। বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির মূল ভিত্তি হলো সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী "সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে শত্রুতা নয়"।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের স্বাধীনতার প্রায় সাত বছর পর অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে কয়েকটি রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জয়লাভ করে।
বাস্তবে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রায় সাত বছর পর ১৯৫৪ সালে তৎকালীন পূর্ব বাংলায় প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল মিলে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠন করে এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন পেয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয় অর্জন করে। তাই উদ্দীপকের ঘটনাটি ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয় বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনকে ত্বরান্বিত ও গতিশীল করেছিল—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বাঙালি জাতি একুশ দফার সমর্থনে ঐক্যবদ্ধ রায় প্রদান করে। এই নির্বাচন ছিল পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির রাজনৈতিক প্রতিবাদের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ। এর ফলে তৎকালীন ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের রাজনৈতিক আধিপত্যের পতন ঘটে এবং বাঙালিদের মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের চেতনা দৃঢ় হয়।
যদিও পাকিস্তানি শাসকচক্র ষড়যন্ত্র করে অল্প দিনের মধ্যেই যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দেয়, তবুও এই নির্বাচন বাঙালিদের শিখিয়েছিল যে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসকদের পরাজিত করা সম্ভব। এই বিজয়ের আত্মবিশ্বাস পরবর্তীতে ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা দাবি, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ভিত তৈরি করে।
সুতরাং বলা যায়, ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের বিজয় ও চেতনা বাঙালির জাতীয় স্বাধিকার আন্দোলনকে চূড়ান্ত স্বাধীনতার পথে আরো বেগবান ও গতিশীল করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও