‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

কৃষক প্রজাদের স্বার্থ সংরক্ষণে 'ক' অঞ্চলের নেতা মি. X ঋণ শালিশি বোর্ড গঠন করেন। ১৯৩৭ সালে তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হন। মুসলমানদের উন্নত রাজনৈতিক ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের অধিবেশনে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব উত্থাপন করেন।

  1. ক)

    গণতন্ত্রের মানসপুত্র বলা হয় কাকে?

    (1)
  2. খ)

    বারাসাত বিদ্রোহ কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে যে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কথা বলা হয়েছে, তার অবদান বিশ্লেষণ কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের যে প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে, তার গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে ব্রিটিশ নীলকর এবং অত্যাচারী স্থানীয় জমিদারদের অন্যায় কর ও শোষণের বিরুদ্ধে তিতুমীরের (সৈয়দ মীর নিসার আলী) নেতৃত্বে চব্বিশ পরগনার বারাসাত অঞ্চলে যে কৃষক ও গণবিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল, তাকে 'বারাসাত বিদ্রোহ' বলা হয়। তিতুমীর সেখানে বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক। অবিভক্ত বাংলা তথা সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের কৃষক-প্রজা ও বাঙালি মুসলমানদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান ছিল অবিস্মরণীয়।

    তিনি ১৯৩৬ সালে 'কৃষক প্রজা পার্টি' (কেপিপি) গঠন করেন এবং বাংলার দরিদ্র কৃষকদের অধিকার রক্ষায় ভূমিকা রাখেন। ১৯৩৭ সালে তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী (তৎকালীন পদবি মুখ্যমন্ত্রী) নির্বাচিত হন। ক্ষমতায় এসে তিনি মহাজনি শোষণ থেকে প্রান্তিক কৃষকদের রক্ষা করতে 'বঙ্গীয় ঋণ মওকুফ আইন' এবং কৃষকদের ঋণের বোঝা কমাতে 'ঋণ সালিশি বোর্ড' প্রতিষ্ঠা করেন, যা বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিল। এ ছাড়া প্রজাস্বত্ব সংশোধনী আইন পাসের মাধ্যমে তিনি কৃষকদের ভূমির ওপর অধিকার নিশ্চিত করেন। শিক্ষা বিস্তারে তিনি কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজ (বর্তমান মৌলানা আজাদ কলেজ), লেডি ব্র্যাবোর্ন কলেজ, ফজলুল হক মুসলিম হলসহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও বিস্তারে অনন্য অবদান রাখেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রস্তাবটি হলো ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব', যা ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক উত্থাপন করেছিলেন। ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এবং বিশেষ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতায় এই প্রস্তাবের গুরুত্ব অপরিসীম।

    লাহোর প্রস্তাবের মূল বক্তব্য ছিল ভারতের উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোকে নিয়ে 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' (Independent States) গঠন করা হবে এবং এই রাষ্ট্রগুলোর অধীনস্থ ইউনিট বা প্রদেশগুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম। এই প্রস্তাবে প্রথমবারের মতো উপমহাদেশের মুসলমানদের জন্য পৃথক আবাসভূমি ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরা হয়।

    পরবর্তীতে ১৯৪৬ সালে মুসলিম লীগ দিল্লি কনভেনশনে মূল লাহোর প্রস্তাবের 'States' শব্দটির বিকৃতি ঘটিয়ে একটি একক পাকিস্তান রাষ্ট্রের পরিকল্পনা করে, যার ফলে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। কিন্তু লাহোর প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন ও সার্বভৌমত্বের ধারণাকে ধারণ করেই বাঙালিরা পরবর্তীকালে তাদের স্বাধিকার আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬-এর ছয় দফা দাবি এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল চেতনা নিহিত ছিল এই লাহোর প্রস্তাবের স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল ভাবনায়। সুতরাং, লাহোর প্রস্তাব ছিল বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার ও ভবিষ্যৎ স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রথম তাত্ত্বিক ভিত্তি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন