ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
রফিক পেশায় একজন রিকসা ভ্যান চালক। স্বল্প আয়ের লোক বিধায় সংসার চালাতে মহাজনের নিকট হতে ঋণ নিতে হয়। অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে কয়েকজন বন্ধু মিলে ভ্যানচালক সমবায় সমিতি গঠন করেন। তারা দৈনিক ভিত্তিক চাঁদা দিয়ে সঞ্চয় জমা করেন এবং জমাকৃত টাকা ব্যবসায়িক কাজে লাগিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হন। সমিতি অল্পদিনে ৩৫টি ভ্যান গাড়ি নিজস্ব অর্থায়নে ক্রয় করে। সমিতির সদস্য সংখ্যা এখন ৮৩ জন।
- ক)(1)
সমবায়ের মূল উদ্দেশ্য কী?
- খ)(2)
ভোক্তা সমবায় সমিতি বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত সমবায় সমিতি সদস্যদের প্রকৃতি বিচারে কোন ধরনের ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে জনাব রফিকের উদ্যোগ উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমবায়ের মূল উদ্দেশ্য হলো পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সদস্যদের অর্থনৈতিক কল্যাণ ও ভাগ্যোন্নয়ন সাধন করা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভোক্তা সমবায় সমিতি বলতে বোঝায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী মধ্যস্থ ব্যবসায়ীদের শোষণ ও উচ্চমূল্য এড়িয়ে সরাসরি উৎপাদক বা পাইকারি বাজার থেকে ন্যায্যমূল্যে ক্রয় করে সদস্যদের মাঝে বণ্টনের উদ্দেশ্যে গঠিত সমবায় সমিতি। এ ধরনের সমিতির ফলে ভোক্তারা সঠিক ওজনে, ভেজালমুক্ত এবং সুলভ মূল্যে পণ্য সংগ্রহ করতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সমবায় সমিতিটি সদস্যদের পেশাগত প্রকৃতি বিচারে একটি 'ভ্যানচালক বা পেশাভিত্তিক সমবায় সমিতি' (নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের সমবায় সমিতি)।
একই পেশা বা জীবিকার সাথে সংশ্লিষ্ট স্বল্প আয়ের ব্যক্তিবর্গ নিজেদের যৌথ স্বার্থরক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের জন্য পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে যে সমবায় সমিতি গঠন করে, তাকে পেশাভিত্তিক বা সমশ্রেণির সমবায় সমিতি বলে।
উদ্দীপকে রফিক পেশায় একজন রিকশা-ভ্যানচালক। তিনি মহাজনের শোষণ থেকে মুক্তি পেতে এবং নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে সমমনা বন্ধুদের নিয়ে একটি ভ্যানচালক সমবায় সমিতি গঠন করেন। সমিতির সকল সদস্যই ভ্যানচালক এবং তারা স্বল্প আয়ের একই পেশাজীবী মানুষ। তাই সদস্যদের অর্থনৈতিক ও পেশাগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে এটি একটি পেশাভিত্তিক সমবায় সমিতি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের দারিদ্র্য বিমোচন ও প্রান্তিক মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির ক্ষেত্রে উদ্দীপকের জনাব রফিকের উদ্যোগটি অত্যন্ত কার্যকর ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে।
বাংলাদেশে নিম্নআয়ের বহু শ্রমজীবী মানুষ চড়া সুদে মহাজনের নিকট থেকে ঋণ নিয়ে শোষণের শিকার হন। নিজের পুঁজি না থাকায় তারা স্বাধীনভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন না। সমবায়ের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় একত্রিত করে স্বনির্ভরতা অর্জন করা এই সমস্যার টেকসই সমাধান।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রফিক ও তার সহকর্মীরা মহাজনের ঋণের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তারা ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের মাধ্যমে তহবিল গঠন করেন এবং সেই অর্থ উৎপাদনশীল কাজে বিনিয়োগ করেন। এর ফলে সমিতি ৩৫টি নিজস্ব ভ্যান গাড়ি কিনতে সক্ষম হয় এবং সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৮৩ জনে উন্নীত হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে সদস্যরা মহাজনি ঋণের শোষণ থেকে মুক্ত হয়েছে, অন্যদিকে নিজস্ব সম্পদের মালিকানা লাভ করে স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, জনাব রফিকের মতো সাধারণ শ্রমজীবীদের এমন সমবায়ভিত্তিক উদ্যোগ দেশে পুঁজি গঠন, গ্রামীণ ও শহরতলীর বেকারত্ব হ্রাস, মহাজনি শোষণ রোধ এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আর্থসামাজিক অগ্রগতি নিশ্চিত করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও