বাংলা ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই বন্ধু রমজানের ছুটিতে গ্রামে গেল। শুক্রবার মসজিদে খুতবায় খতিব বললেন, "রমজানে দান খয়রাতে ছওয়াব বহুগুণ বেশি। এ সুযোগ আমাদের হাতছাড়া করা উচিত নয়।" একথা শুনে সগীর নিজের জমানো টাকা দিয়ে দশটি পরিবারকে ইফতার সামগ্রী কিনে দিল। অন্যদিকে তার বন্ধু তামিল ঈদের পরে জমা টাকা দিয়ে অসহায় ভিক্ষুককে ভ্যান কিনে দিল। তামিল লোকটিকে বললো, "হাতপাতার চেয়ে নিজে কর্ম করে খেলে বেশি ভালো থাকা যায়।" লোকটি এখন ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে।
- ক)(1)
কে বলেছেন ওপরের হাত সব সময় নিচের হাত থেকে শ্রেষ্ঠ?
- খ)(2)
প্রাবন্ধিক আবুল ফজল মানব-কল্যাণ বলতে কী বুঝিয়েছেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের খতিব ও সগীরের মধ্যে 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের কোন দিক রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের তামিলের মধ্যে 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের মূলভাবনা প্রতিফলিত রয়েছে।"—মন্তব্যটির যৌক্তিকতা নিরূপণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন যে, ওপরের হাত সব সময় নিচের হাত থেকে শ্রেষ্ঠ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাবন্ধিক আবুল ফজল মানব-কল্যাণ বলতে স্রেফ দান-খয়রাত বা অনুগ্রহ প্রদর্শনকে না বুঝিয়ে মানুষের সামগ্রিক মুক্তি, আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং স্বাবলম্বী করে তোলাকে বুঝিয়েছেন।
তাঁর মতে, প্রচলিত অর্থে দান-দক্ষিণা গ্রহীতাকে পরমুখাপেক্ষী ও হীনম্মন্য করে তোলে, যা মানবমর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে। সত্যিকারের মানব-কল্যাণ হলো মানুষের সুপ্ত মানবিক সম্ভাবনাকে বিকশিত করা এবং এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা যেখানে মানুষ কারো করুণার পাত্র না হয়ে স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাপূর্ণভাবে বাঁচতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের খতিব ও সগীরের মধ্যে 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে বর্ণিত মানব-কল্যাণ সম্পর্কে সমাজের প্রচলিত বা সংকীর্ণ ধারণাটি প্রতিফলিত হয়েছে।
'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে লেখক উল্লেখ করেছেন যে, আমাদের সমাজে তথাকথিত মানব-কল্যাণ বলতে সাধারণত পুণ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে দান-খয়রাত, ভিক্ষা দান বা উপরিপাওনা বিলানোকে বোঝায়। এই ধরনের দান গ্রহীতাকে কোনো স্থায়ী মুক্তি বা মর্যাদা দেয় না, বরং তাকে চিরদিনের জন্য পরনির্ভরশীল করে তোলে।
উদ্দীপকে খতিব সাহেব বেশি সওয়াব বা পরকালীন লাভের আশায় রমজানে দান-খয়রাত করার আহ্বান জানান এবং তা শুনে সগীর পরিবারগুলোকে কেবল ইফতার সামগ্রী কিনে দেয়। এটি তাৎক্ষণিক ক্ষুধা নিবারণ ও ব্যক্তিগত সওয়াব অর্জনের উপায় হলেও মানুষের টেকসই আত্মবিকাশের পথ নয়। তাই তাদের চিন্তা 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে উল্লেখিত দান-খয়রাতকেন্দ্রিক সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির সাথে মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকের তামিলের মধ্যে 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের মূলভাবনা প্রতিফলিত রয়েছে"—মন্তব্যটি পুরোপুরি যথার্থ ও যৌক্তিক।
আবুল ফজলের 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের মূল প্রতিপাদ্য হলো মানবমর্যাদা রক্ষা এবং মানুষকে স্বাবলম্বী করে কর্মক্ষম হিসেবে গড়ে তোলা। লেখক স্পষ্ট করেছেন যে, কেবল দান বা রিলিফ বিতরণের মাধ্যমে প্রকৃত কল্যাণ সাধিত হয় না; বরং এতে মানুষের মর্যাদাহানি ঘটে। সত্যিকারের কল্যাণ হলো মানুষকে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়ে পরমুখাপেক্ষিতা ও ভিক্ষাবৃত্তি থেকে চিরতরে মুক্তি দেওয়া।
উদ্দীপকে তামিল সেই মহৎ চেতনারই প্রতিফলন ঘটিয়েছে। সে সাময়িক সাহায্যের বদলে এক দরিদ্র ভিক্ষুককে একটি ভ্যানগাড়ি কিনে দেয়, যেন সে স্বাবলম্বী হতে পারে। সেই সাথে তামিল তাকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে হাত পাতার চেয়ে নিজে কাজ করে খাওয়া অনেক বেশি সম্মানের। তামিলের এই উদ্যোগে লোকটি ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে সম্মানজনকভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে সমর্থ হয়।
তামিলের এই কর্মপন্থা মানুষের মনুষ্যত্ব, আত্মমর্যাদা এবং উৎপাদনশীল জীবনের বিকাশ ঘটায়, যা 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের মূল লক্ষ্য ও দর্শনের সাথে একাত্ম। সুতরাং মন্তব্যটি সর্বাংশে সত্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও