ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন

বিটা লি."-এ কর্মীদের জন্য ক্লাব ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে যেখানে কর্মীরা অবসর সময়ে পেপার দেখেন, টিভি দেখেন এবং গল্প করেন। কর্মীরা এ সময় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও আলোচনা করেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অধস্তন কর্মীদের সাথে খোলামেলা আলোচনা করেন। অধস্তনগণও নির্ভয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন। প্রতিষ্ঠানটিতে এরূপ যোগাযোগের ক্ষেত্রে কর্তৃত্ব প্রবাহের দিক থেকে কে কার অধীন তাবিবেচনা করা হয় না।

  1. ক)

    যোগাযোগ কী?

    (1)
  2. খ)

    ফলাবর্তন কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনার কোন নীতিটি লঙ্ঘিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জনে উদ্দীপকে উল্লিখিত যোগাযোগ পদ্ধতির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দুই বা ততোধিক ব্যক্তি বা পক্ষের মধ্যে তথ্য, সংবাদ, ভাব বা মতামতের বিনিময় প্রক্রিয়াকে যোগাযোগ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যোগাযোগ প্রক্রিয়ায় প্রাপক সংবাদ পাওয়ার পর তার প্রতিক্রিয়াস্বরূপ প্রেরককে যে উত্তর বা বার্তা পাঠায়, তাকে ফলাবর্তন (Feedback) বলে।

    ফলাবর্তন হলো যোগাযোগ প্রক্রিয়ার সর্বশেষ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ফলাবর্তনের মাধ্যমেই প্রেরক জানতে পারেন যে প্রাপক বার্তাটি সঠিকভাবে গ্রহণ ও অনুধাবন করতে পেরেছেন কি না। কার্যকর ফলাবর্তন না থাকলে যোগাযোগ প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থেকে যায় এবং দ্বিমুখী যোগাযোগের উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনার 'জোড়ামই শিকল নীতি' (Scalar Chain Principle) লঙ্ঘিত হয়েছে।

    ব্যবস্থাপনার জোড়ামই শিকল নীতি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন স্তর পর্যন্ত কর্তৃত্ব ও দায়িত্বের প্রবাহ একটি অবিচ্ছিন্ন শিকলের মতো ধারাবাহিকভাবে উপর থেকে নিচের দিকে নেমে আসে। প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগও এই নির্ধারিত স্তর অনুসরণ করে হওয়া বাঞ্ছনীয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বিটা লি.-এর কর্মীরা ক্লাবে অবসর সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অধস্তনদের সাথে আলোচনা করেন এবং কর্তৃত্ব প্রবাহের দিক থেকে কে কার অধীন তা বিবেচনা করা হয় না। অর্থাৎ, প্রাতিষ্ঠানিক পদমর্যাদা বা কর্তৃত্বের স্বাভাবিক স্তরবিন্যাস এখানে মানা হয়নি। পদসোপানের ধারাবাহিকতা বজায় না রেখে সরাসরি যে কারো সাথে যে কোনো স্তরে যোগাযোগ করার ফলে এখানে জোড়ামই শিকল নীতি লঙ্ঘিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জনে উদ্দীপকে উল্লিখিত যোগাযোগ পদ্ধতি (অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ) অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে, তবে এর কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।

    উদ্দীপকে বিটা লি.-এ যে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে তা মূলত অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ। এতে কর্মীরা কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়া স্বাধীনভাবে ও নির্ভয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করতে পারছেন। এর ফলে কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি পায় এবং ঊর্ধ্বতন ও অধস্তনদের মধ্যে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

    প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জনে এই পদ্ধতির বহু ইতিবাচক দিক রয়েছে। খোলামেলা আলোচনার সুযোগ থাকায় প্রতিষ্ঠানের জটিল সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করা যায় এবং কর্মীরা প্রতিষ্ঠানকে নিজের মনে করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা পায়। এছাড়া ভয়হীন পরিবেশে অধস্তনদের সৃজনশীল চিন্তা ও নতুন ধারণা সহজে কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে যায়, যা গতিশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক।

    তবে এই পদ্ধতির কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। কর্তৃত্বের স্তর বিবেচনা না করায় প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে, এবং অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে অনেক সময় গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার ঘটতে পারে। তবে সার্বিক বিবেচনায়, প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কাঠামোর পাশাপাশি এ ধরনের যোগাযোগ কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য সৃষ্টি করে ও কর্মপরিবেশ উন্নত করে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন