ভূগোল ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

উদ্দীপকের চিত্রসমূহ লক্ষ্য কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

  1. ক)

    সমভূমি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    প্লাবন সমভূমি কিভাবে গঠিত হয়? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের চিত্র-১ এর উল্লিখিত পর্বতটির গঠন প্রক্রিয়া বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র-২ ও ৩ এর পর্বতদ্বয়ের তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অল্প উঁচু, মৃদু ঢালবিশিষ্ট সুবিস্তীর্ণ সমতল ভূভাগকে সমভূমি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বর্ষাকালে বা অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে নদীতে পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে নদী তীর উপচে আশপাশের অঞ্চল প্লাবিত হয়। নদীর এই অতিরিক্ত পানির সাথে প্রচুর পরিমাণে পলি, বালু ও কাদা বাহিত হয়ে প্লাবিত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। পানি নেমে যাওয়ার পর ওই পলি সঞ্চিত হতে থাকে। এভাবে বছরের পর বছর ধরে পলি সঞ্চয়ের ফলে নদীর উভয় তীরে যে উর্বর ও বিস্তৃত সমতল ভূমি গড়ে ওঠে, তাকে প্লাবন সমভূমি বলে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র-১ এ প্রদর্শিত পর্বতটি হলো ভঙ্গিল পর্বত (Fold Mountain)।

    গঠন প্রক্রিয়া:
    ভঙ্গিল পর্বত প্রধানত ভূ-আলোড়ন ও পার্শ্বচাপের ফলে গঠিত হয়। অগভীর সমুদ্রের তলদেশে কোটি কোটি বছর ধরে পলল স্তরে স্তরে জমা হয়ে পাললিক শিলার সৃষ্টি করে। ভূ-অভ্যন্তরে মহীভাবক বা গিরিজনি আলোড়নের ফলে টেকটোনিক পাতগুলোর পরস্পরের অভিমুখে চলন ঘটে। এই পার্শ্ববর্তী প্রবল চাপের (Lateral Compression) কারণে নরম পাললিক শিলাস্তরে ঢেউয়ের মতো ভাঁজের (Folds) সৃষ্টি হয়। ভাঁজের যে অংশটি উপরে উঠে যায় তাকে ঊর্ধভঙ্গ (Anticline) এবং নিচের অংশটিকে অধোভঙ্গ (Syncline) বলে। ভূ-আলোড়নের চাপ দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকলে এই ভাঁজগুলো ক্রমান্বয়ে উঁচু হয়ে পর্বতশ্রেণির রূপ নেয়। হিমালয়, রকি, আল্পস প্রভৃতি ভঙ্গিল পর্বত এ প্রক্রিয়ায় গঠিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র-২ এ প্রদর্শিত পর্বতটি হলো আগ্নেয় বা সঞ্চয়জাত পর্বত (Volcanic Mountain) এবং চিত্র-৩ এ প্রদর্শিত পর্বতটি হলো স্তূপ পর্বত (Block Mountain)। নিম্নে এ দুটির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. উৎপত্তিগত পার্থক্য:

    • আগ্নেয় পর্বত ভূ-অভ্যন্তরের উত্তপ্ত ম্যাগমা, লাভা, ছাই, ভস্ম ইত্যাদি আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ দিয়ে ভূপৃষ্ঠে বের হয়ে এসে এবং জ্বালামুখের চারপাশে জমাট বেঁধে শঙ্কু বা মোচাকৃতি ধারণ করে সৃষ্টি হয় (যেমন: ইতালির ভিসুভিয়াস, জাপানের ফুজিয়ামা)।
    • অন্যদিকে, স্তূপ পর্বত ভূ-আলোড়নের ফলে শিলাস্তরে টান বা সংকোচনের কারণে ফাটল বা চ্যুতির (Fault) সৃষ্টি হয়ে গঠিত হয়। চ্যুতিরেখা বরাবর ভূখণ্ডের কোনো অংশ উপরে উঠে গেলে বা দুই পাশের অংশ নিচে বসে গিয়ে মধ্যবর্তী অংশ পর্বতের মতো দাঁড়িয়ে থাকলে স্তূপ পর্বত গঠিত হয় (যেমন: ভারতের বিন্ধ্যা পর্বত, জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট)।

    ২. গঠন ও শিলার প্রকৃতি:

    • চিত্র-২ এর পর্বত মূলত লাভা ও পাইরোক্লাস্টিক উপাদান স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে গঠিত হওয়ায় এটি সঞ্চয়জাত প্রকৃতির এবং এতে রূপান্তরিত বা আগ্নেয় শিলার প্রাধান্য থাকে।
    • চিত্র-৩ এর পর্বতে ভূত্বকের মূল শিলাখণ্ড অক্ষত অবস্থায় ব্লক বা স্তূপের মতো অবস্থান করে।

    ৩. আকৃতি ও বৈশিষ্ট্য:

    • আগ্নেয় পর্বতের শিখরদেশে সাধারণত একটি জ্বালামুখ (Crater) থাকে এবং ঢাল খাড়া বা শঙ্কু আকারের হয়ে থাকে।
    • স্তূপ পর্বতের শীর্ষদেশ সাধারণত চ্যাপ্টা বা টেবিলের মতো সমতল হয় এবং এর পার্শ্বঢাল অত্যন্ত খাড়া চ্যুতিরেখা দ্বারা গঠিত হয়।

    সুতরাং, গঠন প্রক্রিয়া, আকৃতি এবং ভূতাত্ত্বিক দিক দিয়ে চিত্র-২ এর আগ্নেয় পর্বত এবং চিত্র-৩ এর স্তূপ পর্বত পরস্পর থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন