ভূগোল ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

উদ্দীপকটি লক্ষ্য কর এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

  1. ক)

    সমতাপ রেখা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    কালবৈশাখীর প্রভাব ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত চিত্র ২ এর বৃষ্টিপাতের বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত চিত্র ১ এর বৃষ্টিপাতের 'ক' ও 'খ' চিহ্নিত অঞ্চলের আবহাওয়াগত পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানচিত্রে সমান তাপমাত্রা বিশিষ্ট স্থানসমূহকে যে কাল্পনিক রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয়, তাকে সমতাপ রেখা (Isotherm) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে হঠাৎ ধেয়ে আসা প্রবল ঝড় ও বজ্রবৃষ্টিকে কালবৈশাখী বলে। এর প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী:
    ১. ইতিবাচক প্রভাব: কালবৈশাখীর ফলে বায়ুমণ্ডলের তীব্র উত্তাপ হ্রাস পায় এবং প্রকৃতিতে শীতল আবহাওয়া ফিরে আসে। এছাড়া এই বৃষ্টির ফলে আউশ ধান, পাট ও গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি চাষে উপকার হয়।
    ২. নেতিবাচক প্রভাব: কালবৈশাখীর সাথে তীব্র ঝড়ো হাওয়া এবং প্রায়ই শিলাবৃষ্টি হয়, যা ঘরবাড়ি, গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি ধ্বংস করে এবং পাকা ধান ও মৌসুমি ফলের (যেমন আম, লিচু) ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। নদীপথে প্রায়ই নৌকা বা লঞ্চডুবির মতো প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত চিত্র-২ এ 'পরিচলন বৃষ্টিপাত' (Convectional Rainfall) দেখানো হয়েছে।

    পরিচলন বৃষ্টির বর্ণনা:
    ১. উৎপত্তি প্রক্রিয়া: দিনের বেলায় প্রখর সূর্যকিরণে ভূ-পৃষ্ঠ প্রচণ্ড উত্তপ্ত হয়। ভূ-পৃষ্ঠের সংলগ্ন বায়ু উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে উল্লম্বভাবে ওপরে উঠে যায়। বায়ুতে পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্প থাকলে তা ওপরে উঠে শীতল ও প্রসারিত হয়।
    ২. মেঘের সৃষ্টি ও বৃষ্টিপাত: ঊর্ধ্বাকাশের শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে কিউমুলোনিম্বাস (Cumulonimbus) মেঘের সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে এই মেঘ থেকে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়।
    ৩. বৈশিষ্ট্য ও অঞ্চল: নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারা বছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং প্রচুর জলভাগ থাকায় সেখানে প্রায় প্রতিদিন অপরাহ্ণে পরিচলন বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়। বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালেও স্থানীয়ভাবে এ ধরনের বৃষ্টিপাত দেখা যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র-১ এ শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত (Orographic Rainfall) নির্দেশ করা হয়েছে, যার মধ্যে 'ক' চিহ্নিত অঞ্চলটি প্রতিবাদ ঢাল (Windward side) এবং 'খ' চিহ্নিত অঞ্চলটি অনুবাদ ঢাল (Leeward side) বা বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল।

    উভয় অঞ্চলের আবহাওয়াগত পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. বৃষ্টিপাতের পরিমাণ: জলীয় বাষ্পপূর্ণ আর্দ্র বায়ু পর্বতের 'ক' বা প্রতিবাদ ঢালে বাধা পেয়ে ওপরে উঠে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত ঘটায়। অন্যদিকে বায়ু পর্বত অতিক্রম করে বিপরীত পার্শ্বের 'খ' বা অনুবাদ ঢালে পৌঁছালে তাতে জলীয় বাষ্পের অভাব ঘটে, ফলে সেখানে বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না বললেই চলে।
    ২. বায়ুর আর্দ্রতা: 'ক' অঞ্চলের বায়ুতে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প থাকে, ফলে সেখানকার বায়ুমণ্ডলের আপেক্ষিক আর্দ্রতা অত্যন্ত বেশি থাকে। কিন্তু 'খ' অঞ্চলে পৌঁছানো বায়ু শুষ্ক হওয়ায় সেখানে আর্দ্রতা খুবই কম থাকে।
    ৩. বায়ুর তাপমাত্রা: 'ক' অঞ্চলে ঘন মেঘের আচ্ছাদন এবং নিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কম ও মনোরম থাকে। পক্ষান্তরে, 'খ' অঞ্চলে বায়ু নিচের দিকে নামতে থাকায় সংকুচিত হয়ে উষ্ণ হতে থাকে, যার ফলে সেখানকার বায়ুর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
    ৪. উদ্ভিজ্জ ও পরিবেশগত প্রভাব: প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে 'ক' অঞ্চলে আর্দ্র ও নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া বিদ্যমান থাকে এবং ঘন অরণ্য বা সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য গড়ে ওঠে। কিন্তু 'খ' অঞ্চল শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন হওয়ায় সেখানে শুষ্ক আবহাওয়া তৈরি হয় এবং বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলের প্রভাবে অনেক সময় খরা বা আধা-মরুময় পরিবেশ পরিলক্ষিত হয়।

    অতএব, শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে পর্বতের বাধার কারণে 'ক' (প্রতিবাদ ঢাল) ও 'খ' (অনুবাদ ঢাল) অঞ্চলের আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে সুস্পষ্ট বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন