বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
মাত্র সতেরো জন সৈন্য নিয়ে বখতিয়ার খলজি সুদূর তুরস্ক থেকে এসে বাংলার সিংহাসন দখল করে নিয়েছিল। সামান্য কয়জন ছদ্মবেশী বণিক যুদ্ধে জয়লাভ করেছিল তাদের অসামান্য সাহস, শৃঙ্খলা ও চাতুর্য দিয়ে। পক্ষান্তরে লক্ষ্মণ সেনের রাজপ্রাসাদ ছিল নানা বিশৃঙ্খলায় পরিপূর্ণ ও অরক্ষিত। তার বিশাল বাহিনী যুদ্ধ না করে পালিয়ে গেল। লক্ষ্মণ সেনও রাজ্য ত্যাগ করতে বাধ্য হলেন। মূলত সেদিন যুদ্ধ হয়নি, হয়েছে যুদ্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতা।
- ক)(1)
ঐতিহাসিক পলাশি কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
- খ)(2)
ট্র্যাজেডি হিসেবে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ঘটনা কোন কোন ক্ষেত্রে তুলনীয়?
- ঘ)(4)
"মূলত সেদিন যুদ্ধ হয়নি, হয়েছে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা।"- এই উক্তি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য- কথাটির তাৎপর্য মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঐতিহাসিক পলাশি ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ট্র্যাজেডি হিসেবে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. বীরোচিত নায়কের করুণ পতন: নাটকের মূল চরিত্র নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন দেশপ্রেমিক ও বীর নায়ক। কিন্তু প্রতিকূল পারিপার্শ্বিকতা, বিশ্বাসঘাতকতা ও নিজস্ব কিছু ভুলের কারণে তাঁর স্বপ্নভঙ্গ ও নির্মম করুণ মৃত্যু ঘটে, যা খাঁটি ট্র্যাজেডির লক্ষণ।
২. তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্ব ও ভাগ্যলিপি (Fatality): নাটকে নায়ক সিরাজউদ্দৌলা একদিকে নিজের দেশ ও প্রজাদের রক্ষা করার তীব্র তাগিদ অনুভব করেছেন, অন্যদিকে চারপাশের ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতার জালে আটকা পড়ে এক অনিবার্য পরিণতির মুখোমুখি হয়েছেন, যা দর্শকের মনে গভীর করুণার (catharsis) উদ্রেক করে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ঘটনা প্রাসাদ ষড়যন্ত্র, অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা এবং নবাবের বিশাল বাহিনীর যুদ্ধ না করে পলায়ন বা নিষ্ক্রিয়তার দিক থেকে তুলনীয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মাত্র সতেরো জন সৈন্য নিয়ে বখতিয়ার খলজি বাংলা দখল করেন। কারণ লক্ষ্মণ সেনের রাজপ্রাসাদ নানা বিশৃঙ্খলা ও দুর্বলতায় পরিপূর্ণ ছিল এবং তাঁর বিশাল বাহিনী যুদ্ধ না করেই পালিয়ে যায়।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও দেখা যায়, পলাশির যুদ্ধে লর্ড ক্লাইভের নেতৃত্বাধীন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সৈন্যসংখ্যা নবাব সিরাজউদ্দৌলার সৈন্যসংখ্যার তুলনায় ছিল অত্যন্ত নগণ্য। নবাবের ছিল সুবিশাল সৈন্যবাহিনী। কিন্তু নবাবের দরবার ও সেনাপতিদের মধ্যে ছিল চরম বিশ্বাসঘাতকতা, ঈর্ষা ও বিশৃঙ্খলা। সেনাপতি মীর জাফর, ইয়ার লতিফ, রায় দুর্লভ প্রমুখের মতো বিশ্বাসঘাতকেরা বিশাল বাহিনী নিয়ে রণাঙ্গনে পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে ছিল এবং কার্যত যুদ্ধই করেনি। ফলে সামান্য ইংরেজ সেনার কাছে বিশাল নবাব বাহিনী পরাজিত হয়। অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসঘাতকতা এবং যুদ্ধ না করে বিশাল বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার দিক থেকে উদ্দীপক ও নাটকের ঘটনা সাদৃশ্যপূর্ণ বা তুলনীয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"মূলত সেদিন যুদ্ধ হয়নি, হয়েছে যুদ্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতা"—উক্তিটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের পলাশির প্রান্তরের ঘটনার ক্ষেত্রেও সম্পূর্ণ প্রযোজ্য ও যথার্থ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, লক্ষ্মণ সেনের বিশাল সৈন্যবাহিনী যুদ্ধ না করে পালিয়ে যাওয়ায় প্রকৃত যুদ্ধ ব্যতিরেকেই লক্ষণ সেনকে রাজ্য হারাতে হয়েছিল। ফলে তা যুদ্ধ ছিল না, ছিল একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও পলাশির প্রাঙ্গণে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন যে ঘটনা ঘটেছিল, তাকে কোনো সুষ্ঠু বা সামরিক যুদ্ধ বলা চলে না। নবাবের পক্ষে দেশপ্রেমিক মীর মদন ও মোহনলাল বীর বিক্রমে লড়াই শুরু করে ইংরেজ বাহিনীকে পরাস্ত করার উপক্রম করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ মীর মদনের মৃত্যুর পর মীর জাফর নবাবকে পবিত্র কুরআন ছুঁয়ে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে যুদ্ধ থামানোর পরামর্শ দেয়। অথচ মীর জাফরের কুচক্রী নির্দেশনায় নবাব বাহিনী যখন যুদ্ধ থামিয়ে শিবিরে ফিরছিল, তখন রবার্ট ক্লাইভের অপ্রস্তুত বাহিনীকে সাজিয়ে আক্রমণ চালানো হয়। মীর জাফরের বিশাল বাহিনী নিশ্চেষ্ট দাঁড়িয়ে থেকে নবাবের পরাজয় নিশ্চিত করে।
সুতরাং পলাশির প্রান্তরে দুই শক্তির মধ্যে কোনো সমকক্ষ বা বীরত্বপূর্ণ সমর যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়নি; বরং তা ছিল বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রহসনের এক চরম রূপ। সিরাজউদ্দৌলা ও দেশপ্রেমিক বাঙালিদের জন্য এটি ছিল এক গভীর মর্মন্তুদ ও তিক্ত অভিজ্ঞতা, যার পরিণামে বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হয়। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি নাটকের পটভূমির ক্ষেত্রে পুরোপুরি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও