যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
আরোহের প্রাণ কী?
- খ)(2)
সাধু সাদৃশ্যানুমান বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে (খ) চিহ্নিত স্থানে কোনটি বসবে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের 'ক' এবং 'গ' এর সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আরোহমূলক লম্ফ বা আরোহাত্মক উল্লম্ফন হলো আরোহের প্রাণ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে সাদৃশ্যানুমানে দুটি বস্তুর মধ্যে কেবল গুরুত্বপূর্ণ, মৌলিক ও অপরিহার্য বিষয়ে সাদৃশ্য দেখিয়ে তাদের কোনো একটির বিশেষ গুণের ভিত্তিতে অপরটিতেও সেই গুণের অস্তিত্ব অনুমান করা হয়, তাকে সাধু সাদৃশ্যানুমান বলে।
যেমন—মানুষ ও উদ্ভিদের মধ্যে জীবন, জন্ম, বৃদ্ধি, মৃত্যু প্রভৃতি মৌলিক বিষয়ে মিল রয়েছে। যেহেতু মানুষের খাদ্য গ্রহণের প্রয়োজন হয়, তাই অনুমান করা হয় উদ্ভিদেরও খাদ্য গ্রহণের প্রয়োজন হয়। এটি একটি সাধু সাদৃশ্যানুমান।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে (খ) চিহ্নিত স্থানে 'অবেজ্ঞানিক আরোহ' বসবে।
যুক্তিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিল আরোহ অনুমানকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করেছেন: প্রকৃত আরোহ ও অপ্রকৃত আরোহ। যে আরোহ অনুমানে আরোহের প্রধান বৈশিষ্ট্য বা প্রাণ 'আরোহমূলক লম্ফ' উপস্থিত থাকে, তাকে প্রকৃত আরোহ বলে। প্রকৃত আরোহকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
১. বৈজ্ঞানিক আরোহ (উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত অংশে নির্দেশিত),
২. অবৈজ্ঞানিক আরোহ, এবং
৩. সাদৃশ্যানুমান।উদ্দীপকের ছকে দেখা যাচ্ছে 'প্রকৃত আরোহ' থেকে তিনটি শাখা বের হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমটি 'বৈজ্ঞানিক' আরোহ। সুতরাং অবশিষ্ট দুটি শাখার মধ্যে একটি অবৈজ্ঞানিক আরোহ এবং অপরটি সাদৃশ্যানুমান। সাধারণ শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী ক্রমানুসারে (খ) চিহ্নিত স্থানে 'অবৈজ্ঞানিক আরোহ' বসবে। অনুকূল অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কোনো বিপরীত দৃষ্টান্ত না দেখে এবং কার্যকারণ সম্বন্ধ নির্ণয় না করে একটি সার্বিক সংশ্লেষক বাক্য প্রতিষ্ঠা করার প্রক্রিয়াকেই অবৈজ্ঞানিক আরোহ বলা হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'ক' হলো 'বৈজ্ঞানিক আরোহ' এবং 'গ' হলো 'সাদৃশ্যানুমান'। এদের মধ্যকার সম্পর্ক নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
উভয়ই প্রকৃত আরোহের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এদের মধ্যে যেমন গভীর সাদৃশ্য রয়েছে, তেমনি কিছু মৌলিক বৈসাদৃশ্যও বিদ্যমান।
সাদৃশ্য:
১. আরোহমূলক লম্ফ: বৈজ্ঞানিক আরোহ ও সাদৃশ্যানুমান উভয়ের মধ্যেই আরোহমূলক লম্ফ বিদ্যমান, অর্থাৎ উভয় অনুমানেই জানা থেকে অজানায় গমন করা হয়।
২. বাস্তব সত্যতা: উভয় প্রকার আরোহই বস্তুগত বা বাস্তব সত্যতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হয়।
৩. দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ: উভয় ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।বৈসাদৃশ্য:
১. সিদ্ধান্তের প্রকৃতি: বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য। কিন্তু সাদৃশ্যানুমানের সিদ্ধান্ত সার্বিক নয়, বরং একটি বিশেষ যুক্তিবাক্য।
২. ভিত্তির ভিন্নতা: বৈজ্ঞানিক আরোহ প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত। অপরদিকে সাদৃশ্যানুমান কার্যকারণ সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়, বরং কেবল কিছু সাদৃশ্যের ওপর নির্ভরশীল।
৩. নিশ্চিত ও সম্ভাব্য সত্যতা: বৈজ্ঞানিক আরোহের মাধ্যমে গৃহীত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয়। কিন্তু সাদৃশ্যানুমানের সিদ্ধান্ত কখনোই নিশ্চিত হয় না, এটি সবসময় সম্ভাব্য থাকে।পরিশেষে বলা যায়, বৈজ্ঞানিক আরোহ ও সাদৃশ্যানুমান একই শ্রেণিভুক্ত হলেও প্রকৃতির ভিন্নতার কারণে এদের সিদ্ধান্তের মান ও রূপ পরস্পর স্বতন্ত্র।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও