পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
‘ক’ রাষ্ট্রের স্বাধীনতার পর থেকেই এর সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়। ফলে জনমতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং জনগণ ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করে। এক পর্যায়ে জনগণের প্রিয় নেতা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দাবি সম্বলিত এক কর্মসূচি পেশ করেন।
- ক)(1)
মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
- খ)(2)
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান বলতে কী বোঝায় ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোনো কর্মসূচির সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কর্মসূচি ছিল 'বাঙালীর মুক্তির সনদ'— বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান বলতে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খানের স্বৈরশাসন, শোষণ ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে এবং ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা প্রত্যাহারসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র-জনতার যে তীব্র ও অপ্রতিরোধ্য গণআন্দোলন গড়ে উঠেছিল তাকে বোঝায়। এর ফলেই আইয়ুব খানের পতন ঘটে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত ঐতিহাসিক 'ছয় দফা কর্মসূচি'র সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে চরম বৈষম্যের শিকার করে রাখে। এর ফলে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়। এই প্রেক্ষাপটে ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে বাঙালি জাতির মুক্তি ও স্বায়ত্তশাসনের রূপরেখা হিসেবে ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচি পেশ করেন।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, ‘ক’ রাষ্ট্রের স্বাধীনতার পর সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ নানা বৈষম্যের শিকার হয়ে ক্ষোভে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং তাদের প্রিয় নেতা একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দাবি সম্বলিত কর্মসূচি পেশ করেন। সুতরাং, এই ঘটনাটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৬ দফা পেশের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কর্মসূচি অর্থাৎ ১৯৬৬ সালের 'ছয় দফা কর্মসূচি' ছিল প্রকৃত অর্থেই 'বাঙালির মুক্তির সনদ' বা 'ম্যাগনা কার্টা'।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই বাঙালি জাতি রাজনৈতিক অধিকারহীনতা, অর্থনৈতিক শোষণ এবং প্রশাসনিক বৈষম্যের শিকার হতে থাকে। এই দীর্ঘ শোষণ থেকে বাঙালিকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। এ দফায় পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন, নিজস্ব মুদ্রা বা পৃথক ব্যাংকিং ব্যবস্থা, কর ধার্যের ক্ষমতা, বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষমতা এবং আধা-সামরিক বাহিনী গঠনের দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ছয় দফা আন্দোলনই বাঙালির মধ্যে স্বাধিকার ও স্বাধীনতার বীজ গভীরভাবে প্রোথিত করে। এটি পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে স্বাধিকার আন্দোলন থেকে ক্রমান্বয়ে স্বাধীনতার আন্দোলনের দিকে ধাবিত করে। এ দাবির সূত্র ধরেই ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
অতএব, বলা যায় যে ছয় দফা কর্মসূচি বাঙালির জাতীয় সত্তা ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি ছিল বিধায় একে 'বাঙালির মুক্তির সনদ' বলা সম্পূর্ণ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও