জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
উপপর্যায় 'X': হোমোলোগাস ক্রোমোজোম জোড়া সৃষ্টি করে।উপপর্যায় 'Y': নন-সিস্টার ক্রোমাটিড অংশ বিনিময় করে।
- ক)(1)
সাইটোকাইনেসিস কী?
- খ)(2)
কোষচক্র বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে নির্দেশিত 'X' এর চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে নির্দেশিত 'Y' এ সংঘটিত প্রক্রিয়াটি জীবজগতে বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে-বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মায়োটিক বা মাইটোটিক কোষ বিভাজনের টেলোফেজ পর্যায়ের শেষে সাইটোপ্লাজমের বিভাজন সম্পন্ন হয়ে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে সাইটোকাইনেসিস বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি কোষ সৃষ্টি, তার বৃদ্ধি এবং পরবর্তীতে বিভাজিত হয়ে নতুন দুটি কোষ সৃষ্টির সম্পূর্ণ চক্রাকার প্রক্রিয়ার ধারাবাহিক পর্যায়ক্রমকে কোষচক্র (Cell cycle) বলে। হাওয়ার্ড ও পেল্ক (Howard and Pelc) ১৯৫৩ সালে কোষচক্রের প্রস্তাব করেন। এটি প্রধানত দুটি প্রধান পর্যায়ে বিভক্ত: ইন্টারফেজ বা প্রস্তুতিমূলক পর্যায় এবং এম-ফেজ বা বিভাজন পর্যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত উপপর্যায় 'X' হলো মায়োসিস-১ এর প্রফেজ-১ এর জাইগোটিন (Zygotene) উপপর্যায়, কারণ এ পর্যায়ে হোমোলোগাস ক্রোমোজোম জোড়া বাঁধে (যাকে সিন্যাপসিস এবং জোড়াকে বাইভ্যালেন্ট বলে)।
[চিত্র অঙ্কনের নির্দেশনা: জাইগোটিন উপপর্যায়ের একটি সুনির্দিষ্ট পরিষ্কার চিত্র অঙ্কন করে তাতে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন, নিউক্লিওলাস, সেন্ট্রিওল এবং সিন্যাপসিস প্রক্রিয়ায় জোড়া বাঁধা হোমোলোগাস ক্রোমোজোমসমূহ (বাইভ্যালেন্ট) লেবেল করতে হবে।] এর মাধ্যমে বাইভ্যালেন্ট গঠন ও জোড় বাঁধার প্রক্রিয়াটি স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করা যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত উপপর্যায় 'Y' হলো প্যাকাইটিন (Pachytene) উপপর্যায় এবং এখানে সংঘটিত প্রক্রিয়াটি হলো ক্রসিং ওভার (Crossing over)। ক্রসিং ওভারে হোমোলোগাস ক্রোমোজোমের দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে খণ্ডাংশের পারস্পরিক বিনিময় ঘটে।
জীবজগতে বৈচিত্র্য সৃষ্টিতে ক্রসিং ওভারের ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. জিনের পুনর্বিন্যাস (Genetic Recombination): ক্রসিং ওভারের মাধ্যমে নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে ডিএনএ অংশের বিনিময় ঘটে, যার ফলে ক্রোমোজোমে বিদ্যমান অ্যালিল বা জিনসমূহের নতুন বিন্যাস তৈরি হয়।
২. নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব: জিনের নতুন বিন্যাসের কারণে অপত্য কোষে মাতৃকোষের হুবহু বৈশিষ্ট্য বজায় না থেকে জিনগতভাবে নতুন বৈশিষ্ট্যের সংমিশ্রণ বা রিকম্বিনেশন সৃষ্টি হয়।
৩. জীবের প্রকরণ ও বৈচিত্র্য: ক্রসিং ওভারের মাধ্যমে সৃষ্ট বৈচিত্র্যময় গ্যামেট নিষিক্ত হয়ে যে অপত্য বংশধর তৈরি করে, তাদের মধ্যে রূপতাত্ত্বিক ও শরীরবৃত্তীয় প্রকরণ (variation) দেখা যায়। একই পিতামাতার সন্তান সন্ততিদের মধ্যেও পার্থক্য লক্ষ্য করা যায় মূলত ক্রসিং ওভারের কারণেই।
৪. বিবর্তন ও অভিযোজন: জীবের এই নতুন প্রকরণ পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে টিকে থাকতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘদিন ধরে এটি নতুন প্রজাতি সৃষ্টির মাধ্যমে জৈব বিবর্তনে প্রাথমিক কাঁচামাল হিসেবে কাজ করে।অতএব, প্যাকাইটিনে ঘটা ক্রসিং ওভার প্রক্রিয়াটি জীবজগতে বৈচিত্র্য সৃষ্টি ও নতুন প্রকরণের মূল নিয়ামক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও