সাহিত্য পাঠ • জুলাই অভ্যুত্থানের গ্রাফিতিতে সাহিত্য, গান ও স্লোগান • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেন বাঙালি জাতিকে মুক্তির কবিতা শোনালেন। বাঙালি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য, শোষণ-বঞ্চনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাঙলার ইতিহাস এদেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস।” তিনি এক পর্যায়ে বাঙালি জাতিকে প্রতিবাদী আর সংগ্রামী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইন্শা-আল্লাহ্।” প্রধানত, বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি ছিল বাঙালি জাতির কাছে ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মারক আর মুক্তির কবিতা।
- ক)(1)
ভালোবাসা দিলে কে মরে যায়?
- খ)(2)
‘তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার কোন দিকটির প্রতিফলিত হয়েছে? বিচার কর।
- ঘ)(4)
“বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ৭ই মার্চের ভাষণটি ছিল বাঙালি জাতির কাছে ইতিহাসঐতিহ্যের স্মারক আর মুক্তির কবিতা।”- মন্তব্যটি ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভালোবাসা দিলে যুদ্ধাপরাধী বা ঘাতক মরে যায় (আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতা অনুযায়ী: “ভালোবাসা দিলে যুদ্ধাপরাধী মরে যায়”)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল’ বলতে বাঙালি পূর্বপুরুষদের ওপর ঔপনিবেশিক শাসক ও শোষকগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের অমানুষিক অত্যাচার ও দাসত্বের নির্মম ইতিহাসকে বোঝানো হয়েছে। কবির পূর্বপুরুষরা অধিকারহীন ক্রীতদাস হিসেবে জীবনযাপন করতে গিয়ে চাবুকের আঘাতে রক্তাক্ত হয়েছিলেন। সেই আঘাতের চিহ্নই রক্তজবার মতো ক্ষতর প্রতীকী রূপ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার বাঙালি জাতির ঐতিহাসিক সংগ্রাম, রক্তদান ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের উল্লেখ রয়েছে, যেখানে বাঙালির শোষণ-বঞ্চনার ইতিহাস এবং রাজপথ রক্তে রঞ্জিত করে মুক্তির চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামার আহ্বান ফুটে উঠেছে।
‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতাতেও কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ বাঙালির হাজার বছরের পরাধীনতা, শোষণ এবং সেখান থেকে মুক্তির জন্য রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরেছেন। কবিতায় পূর্বপুরুষদের কষ্টগাথা যেমন বর্ণিত হয়েছে, তেমনি মুক্তির জন্য কবিতা ও সশস্ত্র সংগ্রামের অপরিহার্যতা ঘোষিত হয়েছে। উদ্দীপকের ৭ই মার্চের ভাষণের রক্ত দিয়ে দেশ মুক্ত করার প্রত্যয়ের সাথে কবিতার মুক্তির জন্য লড়াইয়ের চেতনা সরাসরি সংগতিপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ৭ই মার্চের ভাষণটি ছিল বাঙালি জাতির কাছে ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মারক আর মুক্তির কবিতা।”— মন্তব্যটি ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার মূল চেতনার আলোকে সম্পূর্ণরূপে যথার্থ।
‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতায় কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ‘কবিতা’কে দেখেছেন কেবল ছন্দবদ্ধ চরণ হিসেবে নয়, বরং মানুষের মুক্তি, অধিকার এবং সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে। যে কবিতা শুনতে জানে না, সে আজীবন ক্রীতদাস থেকে যায়। কবি দেখিয়েছেন, বাঙালির ইতিহাস বঞ্চনা ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে রক্ত দিয়ে মুক্তির ইতিহাস রচনা করার ইতিহাস।
উদ্দীপকে বর্ণিত ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির শত বছরের শোষণ, অত্যাচার ও আত্মত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরে মুক্তির জন্য জাতিকে প্রস্তুত করেন। তাঁর সেই অমর ভাষণ কোনো সাধারণ বক্তব্য ছিল না; তা ছিল কোটি কোটি বাঙালির মুক্তির আকাঙ্ক্ষার এক মহাকাব্য বা মুক্তির কবিতা। কবির কবিতায় যেমন মুক্তির কথা বলা ব্যক্তিই প্রকৃত কবি এবং সেই উচ্চারণই মুক্তির কবিতা, তেমনি ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিলেন।
অতএব, ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার সংগ্রামী দর্শন ও মুক্তির চেতনার বিচারে ৭ই মার্চের ভাষণটি প্রকৃত অর্থেই ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মারক এবং বাঙালির মুক্তির অমর কবিতা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও