গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২২

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    পরিপাকতন্ত্র কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    যকৃৎ কীভাবে চর্বি পরিপাকে ভূমিকা রাখে?

    (2)
  3. গ)

    মানবদেহে 'A' এর ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মানবদেহে 'B' ও 'C' অংশে প্রোটিনের পরিপাক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে তন্ত্রের সাহায্যে খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ, পরিপাক, শোষণ এবং অপাচ্য অংশের নিষ্কাশন সম্পন্ন হয়, তাকে পরিপাকতন্ত্র (Digestive System) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যকৃৎ থেকে নিঃসৃত পিত্তরস বা পিত্তলবণ (যেমন- সোডিয়াম গ্লাইকোকোলেট ও সোডিয়াম টারোকোলেট) চর্বি পরিপাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পিত্তরসে কোনো পরিপাককারী এনজাইম না থাকলেও এর পিত্তলবণ স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় ভেঙে পানিতে দ্রবীভূত ইমালশনে পরিণত করে। এই প্রক্রিয়াকে ইমালসিফিকেশন বলে। এর ফলে চর্বির পৃষ্ঠতল বৃদ্ধি পায় এবং লাইপেজ এনজাইমের কার্যকারিতা সহজতর হয়, যা চর্বিকে ভেঙে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র 'A' হলো অগ্ন্যাশয় (Pancreas)। অগ্ন্যাশয় একটি মিশ্র গ্রন্থি যা মানবদেহের পরিপাক ও বিপাকীয় নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে:
    ১. বহিঃক্ষরা ভূমিকা (এনজাইম ক্ষরণ): অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয় রস নিঃসৃত হয়, যাতে ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন (প্রোটিন পরিপাককারী), অ্যামাইলেজ (শর্করা পরিপাককারী) এবং লাইপেজ (চর্বি পরিপাককারী) এনজাইম থাকে। এগুলো ক্ষুদ্রান্ত্রে খাদ্য পরিপাকে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
    ২. অন্তঃক্ষরা ভূমিকা (হরমোন ক্ষরণ): অগ্ন্যাশয়ের 'আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স' থেকে ইনসুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন নিঃসৃত হয়। ইনসুলিন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমায় এবং গ্লুকাগন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি করে, যার ফলে রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় থাকে।
    অতএব, খাদ্য পরিপাক এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে অগ্ন্যাশয় মানবদেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত চিত্র 'B' হলো পাকস্থলী (Stomach) এবং চিত্র 'C' হলো অন্ত্র (বিশেষত ক্ষুদ্রান্ত্র)। মানবদেহে এ দুটি অংশে প্রোটিন পরিপাকের প্রক্রিয়া নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. পাকস্থলীতে ('B' অংশে) প্রোটিনের পরিপাক:
    পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেনকে সক্রিয় পেপসিনে পরিণত করে। পেপসিন প্রোটিনকে আর্দ্র-বিশ্লেষিত করে প্রোটিওজ ও পেপটনে পরিণত করে। শিশুদের ক্ষেত্রে রেনিন এনজাইম দুধের প্রোটিন কেসিনকে প্যারাকেসিনে রূপান্তর করে।

    • পেপসিনোজেন + HCl →\rightarrow পেপসিন
    • প্রোটিন + পানি →পেপসিন\xrightarrow{\text{পেপসিন}} প্রোটিওজ + পেপটন

    ২. ক্ষুদ্রান্ত্রে ('C' অংশে) প্রোটিনের পরিপাক:
    পাকস্থলী থেকে অর্ধপাচিত খাদ্য ক্ষুদ্রান্ত্রে পৌঁছালে অগ্ন্যাশয় রস ও অন্ত্ররসের বিভিন্ন প্রোটিওলাইটিক এনজাইম প্রোটিন পরিপাক সম্পন্ন করে:

    • অগ্ন্যাশয় রসের ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন প্রোটিওজ ও পেপটনকে ভেঙে পলিপেপটাইড ও ক্ষুদ্র পেপটাইডে পরিণত করে।
    • কার্বোক্সিপেপটাইডেজ ও অ্যামাইনোপেপটাইডেজ পেপটাইড শৃঙ্খলকে ভেঙে সরল পেপটাইড ও অ্যামিনো অ্যাসিড তৈরি করে।
    • অন্ত্ররসের ডাইপেপটাইডেজ ডাইপেপটাইডকে ভেঙে সম্পূর্ণভাবে অ্যামিনো অ্যাসিডে পরিণত করে।
    • জটিল পেপটাইড →এনজাইমসমূহ\xrightarrow{\text{এনজাইমসমূহ}} অ্যামিনো অ্যাসিড

    পরিশেষে, খাদ্যস্থিত জটিল প্রোটিন পাকস্থলীতে আংশিক ভেঙে পেপটনে এবং পরবর্তীতে ক্ষুদ্রান্ত্রে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেহে শোষণযোগ্য অ্যামিনো অ্যাসিডে পরিণত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন