পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টের গঠন উল্লেখ কর।
- খ)(2)
কীভাবে মৌলিক অধিকার বলবৎ করা যায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের কোন স্তরের প্রতিফলন হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানে জনগণের অংশগ্রহণ যত বৃদ্ধি পাবে গণতন্ত্রের ভিত তত শক্তিশালী হবে— তুমি কি একমত? তোমার সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি (যিনি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নামে অভিহিত) এবং আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ সমন্বয়ে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট গঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সংবিধানে বর্ণিত কোনো মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন বা লঙ্ঘিত হলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন (যেমন: বন্দি-প্রত্যক্ষীকরণ, পরমাদেশ, প্রতিষেধ, অধিকার পৃচ্ছা ইত্যাদি) দায়ের করার মাধ্যমে তা বলবৎ করতে পারেন। এছাড়া সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগ প্রয়োজনীয় নির্দেশ বা আদেশ জারি করে মৌলিক অধিকার কার্যকর করে থাকেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের গ্রামীণ স্তরের সর্বাপেক্ষা সক্রিয় ও তৃণমূল পর্যায় অর্থাৎ 'ইউনিয়ন পরিষদ'-এর প্রতিফলন ঘটেছে।
বাংলাদেশে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের গ্রামীণ কাঠামোর তিনটি স্তর রয়েছে— জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদ। এর মধ্যে তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান হলো ইউনিয়ন পরিষদ।
উদ্দীপকের ছকে দেখা যাচ্ছে, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একজন চেয়ারম্যান, সাধারণ ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত ৯ জন সদস্য এবং সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত ৩ জন (উদ্দীপকে ৩ জনের স্থলে মুদ্রণপ্রমাদবশত ৬ জন লেখা হয়েছে) মহিলা সদস্য এবং তাদের প্রশাসনিক সহায়তার জন্য একজন সচিবের উল্লেখ রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয় ১ জন চেয়ারম্যান, ৯টি ওয়ার্ডের ৯ জন সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের ৩ জন মহিলা সদস্য সমন্বয়ে। সুতরাং, উদ্দীপকের ছকটি বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের অন্যতম মূল স্তর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কাঠামোকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি হলো ইউনিয়ন পরিষদ। প্রশ্নোক্ত বক্তব্যের সাথে আমি সম্পূর্ণরূপে একমত। ইউনিয়ন পরিষদে জনগণের অংশগ্রহণ যত বৃদ্ধি পাবে, গণতন্ত্রের ভিত তত বেশি শক্তিশালী ও টেকসই হবে।
গণতন্ত্রের মূল কথাই হলো জনগণের শাসন ও সর্বস্তরে তাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ। ইউনিয়ন পরিষদ হলো স্থানীয় পর্যায়ের সবচেয়ে নিকটের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, যেখানে সাধারণ নাগরিকরা সরাসরি প্রশাসনের সংস্পর্শে আসতে পারে।
প্রথমত, স্থানীয় নির্বাচনে সক্রিয় ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নাগরিকরা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ত, ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাজেট ঘোষণা ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের মতবিনিময় জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। তৃতীয়ত, উন্মুক্ত ওয়ার্ড সভা বা গ্রামীণ পর্যায়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কমিটির মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের নেতৃত্ব বিকশিত হয়, যা জাতীয় পর্যায়ের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করে।
স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ না থাকলে গণতন্ত্র কেবল কেন্দ্রভিত্তিক আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। সুতরাং, ইউনিয়ন পরিষদের মতো তৃণমূল প্রতিষ্ঠানে জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাওয়া গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করার অন্যতম প্রধান শর্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও