‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

এক সময় সুদান একটি অখণ্ড রাষ্ট্র ছিল। তখন সেখানকার দক্ষিণাঞ্চল থেকে অর্জিত অর্থ উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে ব্যয় করা হতো। ফলে সুদানের উভয় অঞ্চলের জনগণের মধ্যে হিংসা ও অবিশ্বাসের জন্ম হয়। এই প্রেক্ষিতে দুই অঞ্চলের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। অবশেষে দক্ষিণ সুদান নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

  1. ক)

    পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান কত সালে কার্যকর হয়?

    (1)
  2. খ)

    যুক্তফ্রন্ট বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    দক্ষিণ সুদানের সাথে স্বাধীন বাংলাদেশের কোন দিকটির সাদৃশ্য তুমি খুঁজে পাও? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “দক্ষিণ সুদানের চাইতে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীনতার পটভূমি ব্যাপক”– বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ কার্যকর হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তফ্রন্ট হলো ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করার লক্ষ্যে গঠিত প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর একটি সম্মিলিত নির্বাচনী জোট। আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম এবং খেলাফতে রব্বানী পার্টির সমন্বয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর এই জোট গঠিত হয় এবং নির্বাচনে ২১ দফার ভিত্তিতে তারা নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দক্ষিণ সুদানের সাথে স্বাধীন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক বৈষম্যের শিকার হয়ে স্বাধীনতা অর্জনের দিকটির সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়।

    উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে, অখণ্ড সুদানের দক্ষিণাঞ্চলের অর্থ উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে ব্যয় করা হতো, যার ফলে তীব্র ক্ষোভ ও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীতে দক্ষিণ সুদান পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

    একইভাবে, অবিভক্ত পাকিস্তানের মোট বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ অর্জিত হতো তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে উৎপাদিত পাট ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে। কিন্তু সেই রাজস্ব ব্যয় করা হতো পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও প্রতিরক্ষা খাতে। পূর্ব পাকিস্তানের এই অর্থনৈতিক শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধেই মূলত বাঙালি জাতি ধাপে ধাপে স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনে লিপ্ত হয় এবং ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। সুতরাং, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও শোষণ থেকে মুক্তির দিকটি উভয় ক্ষেত্রে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “দক্ষিণ সুদানের চাইতে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীনতার পটভূমি ব্যাপক”– উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।

    দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতার মূল কারণ ছিল আঞ্চলিক বৈষম্য, ধর্মীয় বিভেদ ও গৃহযুদ্ধ। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতার পটভূমি ছিল ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং সার্বিক জাতীয়তাবাদী চেতনার এক সুদীর্ঘ ও বহুমাত্রিক রাজনৈতিক সংগ্রাম।

    বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো আকস্মিক ঘটনা বা কেবল অর্থনৈতিক দ্বন্দ্বের ফল ছিল না। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালির মাতৃভাষার ওপর আঘাত হানে, যার প্রতিবাদে ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন সংঘটিত হয় এবং এর মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে। পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের বাঙালির মুক্তিসনদ ঐতিহাসিক ৬-দফা এবং ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই আন্দোলন এক অপ্রতিরোধ্য গণজাগরণে রূপ নেয়।

    ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পাকিস্তানি শাসকচক্র ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে নির্বিচার গণহত্যার মুখে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। ত্রিশ লক্ষ শহীদ এবং দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম হয় স্বাধীন বাংলাদেশের।

    অতএব, দক্ষিণ সুদানের তুলনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার পটভূমি ছিল অনেক বেশি রক্তস্নাত, সুসংগঠিত, দীর্ঘমেয়াদি ও আদর্শিকভাবে সমৃদ্ধ। তাই প্রশ্নোক্ত বক্তব্যটি সম্পূর্ণভাবে সত্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন