জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
পলিস্যাকারাইডের একটি প্রাণীদেহের যকৃত ও পেশিকোষে জমা থাকে। যার গাঠনিক একক হলো ′α−D′'\alpha-D' গ্লুকোজ।
- ক)(1)
লাইকেন কী?
- খ)(2)
জনুক্রম বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত পলিস্যাকারাইড অণুর গাঠনিক এককের নামকরণের কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের পলিস্যাকরাইড এর সাথে উদ্ভিদদেহে সঞ্চিত পলিস্যাকারাইডের মিল ও অমিল রয়েছে- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লাইকেন হলো শৈবাল ও ছত্রাকের ঘনিষ্ঠ সহাবস্থানে গঠিত একটি মিথোজীবী বা মিথোস্ক্রিয় জীবগোষ্ঠী।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জীবের জীবনচক্রে ডিপ্লয়েড (স্পোরোফাইটিক বা অযৌন) জনু এবং হ্যাপ্লয়েড (গ্যামিটোফাইটিক বা যৌন) জনুর পর্যায়ক্রমিক আবর্তনকে জনুক্রম (Alternation of generations) বলে। উদাহরণস্বরূপ, ফার্ন ও মসজাতীয় উদ্ভিদের জীবনচক্রে সুস্পষ্ট জনুক্রম দেখা যায়, যেখানে স্পোরোফাইট ও গ্যামিটোফাইট দশা দুটি একের পর এক চক্রাকারে আবর্তিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত পলিস্যাকারাইডটি হলো গ্লাইকোজেন, যার গাঠনিক একক হলো 'α-D-গ্লুকোজ'।
এর নামকরণের পেছনের কারণসমূহ নিম্নরূপ:
১. 'D' বিন্যাস: গ্লুকোজের ফিশার প্রক্ষেপণ সংকেতে সবচেয়ে দূরবর্তী অপ্রতিসম কার্বন অর্থাৎ ৫ নম্বর কার্বনে অবস্থিত হাইড্রোক্সিল (-OH) মূলকটি ডানপাশে বিদ্যমান থাকে বলে একে D-গ্লুকোজ বলা হয়।
২. 'α' রূপ: গ্লুকোজ যখন বলয় বা রিং গঠন করে (গ্লুকোপাইরানোজ বলয়), তখন এর ১ নম্বর অ্যানোমেরিক কার্বনে যুক্ত হাইড্রোক্সিল (-OH) মূলকটি বলয়ের তলের নিচে (বা ফিশার মডেলে ডানপাশে) অবস্থান করে। এ ধরনের অ্যানোমারকে 'α' (আলফা) রূপ বলা হয়।সুতরাং, ৫ নম্বর কার্বনে -OH মূলক ডানপাশে থাকায় 'D' এবং বলয় গঠনে ১ নম্বর কার্বনে -OH মূলক নিচে থাকায় 'α' রূপ নির্দিষ্ট করে অণুটির নামকরণ করা হয়েছে 'α-D-গ্লুকোজ' বা 'α-D-গ্লুকোপাইরানোজ'।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীদেহে সঞ্চিত পলিস্যাকারাইডটি হলো গ্লাইকোজেন এবং উদ্ভিদদেহে সঞ্চিত প্রধান পলিস্যাকারাইডটি হলো স্টার্চ। এদের মধ্যে বিদ্যমান মিল ও অমিল নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
মিলসমূহ:
১. উভয়েই গ্লুকোজের পলিমার অর্থাৎ এদের মৌলিক গাঠনিক একক হলো α-D-গ্লুকোজ।
২. উভয়েই দেহে সঞ্চয়ী খাদ্য হিসেবে শক্তি সঞ্চয় ও সরবরাহ করে।
৩. এদের গঠনে গ্লুকোজের অণুগুলো প্রধানত α-১,৪ এবং শাখাবিন্যাসে α-১,৬ গ্লাইকোসিডিক বন্ধন দ্বারা যুক্ত থাকে।
৪. উভয় পলিস্যাকারাইডই জলীয় দ্রবণে অদ্রবণীয় অথবা কোলয়েডীয় দ্রবণ তৈরি করে এবং স্বাদহীন ও গন্ধহীন।অমিলসমূহ:
১. উৎস: গ্লাইকোজেন প্রধানত প্রাণীদেহের যকৃত ও পেশিতে (এবং ছত্রাকে) পাওয়া যায়, একে প্রাণিজ স্টার্চও বলা হয়। পক্ষান্তরে, স্টার্চ কেবল উদ্ভিদদেহে (যেমন: আলু, ধান, গম ইত্যাদি) সঞ্চিত থাকে।
২. উপাদান ও গঠন: স্টার্চ মূলত অ্যামাইলোজ (শাখাহীন) ও অ্যামাইলোপেকটিন (শাখাযুক্ত) নামক দুটি ভিন্ন উপাদানের মিশ্রণ। কিন্তু গ্লাইকোজেন শুধুমাত্র একটি শাখাযুক্ত পলিমার দ্বারা গঠিত।
৩. শাখার প্রাচুর্য: গ্লাইকোজেনে অ্যামাইলোপেকটিনের চেয়ে অনেক বেশি ঘন ও সংক্ষিপ্ত শাখাবিন্যাস থাকে (প্রতি ৮-১২টি গ্লুকোজ পরপর শাখা তৈরি হয়)। স্টার্চের অ্যামাইলোপেকটিনে প্রতি ২৪-৩০টি গ্লুকোজ পরপর শাখা থাকে।
৪. আয়োডিন দ্রবণ পরীক্ষা: স্টার্চে আয়োডিন যোগ করলে গাঢ় নীল বা নীলচে-কালো বর্ণ ধারণ করে; পক্ষান্তরে, গ্লাইকোজেনে আয়োডিন যোগ করলে লালচে-বাদামি বা বেগুনি বর্ণ দেয়।অতএব, দেখা যায় যে মৌলিক গঠন ও সঞ্চয়ী কাজের দিক থেকে উভয়ের গভীর মিল থাকলেও উৎস, রাসায়নিক বিন্যাস ও আয়োডিন বিক্রিয়ায় সুস্পষ্ট অমিল বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও