যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

মজিদ ও রঞ্জিত পাশাপাশি বসে পরীক্ষা দিল। পরীক্ষক দেখলেন যে, মজিদ পাঁচটি প্রশ্নের মধ্যে চারটির নির্ভুল উত্তর দিয়েছে, কিন্তু একটি প্রশ্নের উত্তরে অনেক ভুল করেছে। পরীক্ষক আরো দেখলেন যে, এ চারটি উত্তর রঞ্জিতের উত্তরের সাথে হুবহু মিলে যায়। তখন পরীক্ষক সিদ্ধান্ত নিলেন যে, এ পঞ্চম প্রশ্নের উত্তর মজিদের নিজ বুদ্ধিপ্রসূত।

  1. ক)

    পরিশেষ পদ্ধতি কী?

    (1)
  2. খ)

    পরিশেষ পদ্ধতির দুটি অসুবিধা লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে পরীক্ষক কোন পদ্ধতি ব্যবহার করে পঞ্চম প্রশ্নের উত্তর সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?

    (3)
  4. ঘ)

    পরীক্ষক যে পদ্ধতি প্রয়োগ করে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছাতে পেরেছেন সে পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো ঘটনার যে অংশটি পূর্ববর্তী কোনো জানা আরোহের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়, সে অংশটি বাদ দিলে অবশিষ্ট যে অংশ থাকে, তা অবশিষ্ট পূর্ববর্তী ঘটনার কার্য বা কারণ—এই নিয়মটিই হলো মিলের পরিশেষ পদ্ধতি (Method of Residues)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরিশেষ পদ্ধতির দুটি অসুবিধা হলো:
    ১. এই পদ্ধতিকে স্বাধীন বা মৌলিক পদ্ধতি বলা যায় না, কারণ এটি প্রয়োগ করার জন্য পূর্বেই অন্য কোনো পদ্ধতি দ্বারা কিছু অংশের কার্যকারণ সম্পর্ক জানা থাকতে হয়।
    ২. ঘটনাটি যদি মিশ্র বা জটিল হয় এবং উপাদানগুলোকে সঠিকভাবে পৃথক করা না যায়, তবে এই পদ্ধতি প্রয়োগে ভুল সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে পরীক্ষক যুক্তিবিদ মিলের পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতির অন্তর্গত 'পরিশেষ পদ্ধতি' (Method of Residues) ব্যবহার করে পঞ্চম প্রশ্নের উত্তর সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    পরিশেষ পদ্ধতির মূল কথা হলো: কোনো জটিল ঘটনার জানা কারণগুলোর জানা কার্য বাদ দিলে যা অবশিষ্ট থাকে, তা অবশিষ্ট কারণের কার্য।
    উদ্দীপকে মজিদ ও রঞ্জিতের পাশাপাশি পরীক্ষা দেওয়ার ঘটনায় মজিদের পাঁচটি উত্তরের মধ্যে চারটি উত্তর রঞ্জিতের সাথে হুবহু মিলে যায়, যা রঞ্জিতের খাতা থেকে অনুকরণ বা প্রভাবের ফল হিসেবে চিহ্নিত। মোট উত্তরের থেকে জানা চারটির মিল বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট রইল পঞ্চম ভুল উত্তরটি। পরীক্ষক এই অবশিষ্ট অংশটিকে মজিদের নিজস্ব চেষ্টার ফল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সুতরাং পরীক্ষক এখানে পরিশেষ পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে পরীক্ষক 'পরিশেষ পদ্ধতি' প্রয়োগ করে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান এবং জটিল কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কারে পরিশেষ পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. জটিল ঘটনার বিশ্লেষণ: প্রকৃতির বহু ঘটনা একাধিক কারণের সংমিশ্রণে ঘটে। পরিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে জ্ঞাত অংশগুলোকে বাদ দিয়ে অজ্ঞাত অবশিষ্ট অংশের রহস্য উদঘাটন করা সহজ হয়।
    ২. নতুন আবিষ্কারের পথ উন্মোচন: বিজ্ঞানের ইতিহাসে বহু গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার এই পদ্ধতির ফসল। যেমন—ইউরেনাস গ্রহের কক্ষপথের বিচ্যুতি থেকে জানা গ্রহগুলোর প্রভাব বাদ দিয়ে পরিশেষ পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমেই নেপচুন গ্রহ আবিষ্কৃত হয়েছিল। আর্গন গ্যাস আবিষ্কারও এর একটি বড় উদাহরণ।
    ৩. ব্যবহারিক জীবনে প্রয়োগ: দৈনন্দিন হিসাব-নিকাশ, অপরাধ তদন্ত এবং চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিভিন্ন জ্ঞাত লক্ষণ দূর করে অজানা রোগ নির্ণয়ে এ পদ্ধতি অপরিসীম ভূমিকা রাখে।

    পরিশেষ পদ্ধতি অন্যান্য পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল হলেও জটিল সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে এবং নতুন সত্য আবিষ্কারের দিকনির্দেশক হিসেবে এর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন