যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
যুক্তি-১কিছু মানুষ নয় সৎ।∴ \therefore কিছু মানুষ হয় অসৎ।যুক্তি-২সকল বাংলাদেশি হয় দেশপ্রেমিক।রোজিনা হয় বাংলাদেশি।∴ \therefore রোজিনা হয় দেশপ্রেমিক ।
- ক)(1)
আবর্তন কাকে বলে?
- খ)(2)
'I' -যুক্তিবাক্যের প্রতি-আবর্তন সম্ভব নয় কেন?
- গ)(3)
যুক্তি-১ কোন অনুমানকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের অনুমানের আলোকে যুক্তি-১ ও যুক্তি-২ এর মধ্যকার পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে অমাধ্যম অবরোহ অনুমানে প্রদত্ত যুক্তিবাক্যের গুণ অপরিবর্তিত রেখে উদ্দেশ্য ও বিধেয়র স্থান আইনসঙ্গতভাবে পরিবর্তন করে নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তাকে আবর্তন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'I' যুক্তিবাক্যের (বিশেষ সদর্থক) প্রতি-আবর্তন সম্ভব নয়, কারণ প্রতি-আবর্তনের নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে বাক্যটির প্রতিবর্তন করতে হয় এবং পরে প্রতিবর্তিত রূপটির আবর্তন করতে হয়।
'I' যুক্তিবাক্যের প্রতিবর্তন করলে একটি 'O' যুক্তিবাক্য (বিশেষ নঞর্থক) পাওয়া যায়। কিন্তু যুক্তিবিদ্যার নিয়ম অনুযায়ী 'O' যুক্তিবাক্যের আবর্তন সম্ভব নয়; কারণ 'O' বাক্যকে আবর্তন করতে গেলে অব্যাপ্ত পদকে সিদ্ধান্তে ব্যাপ্ত করার নিয়ম লঙ্ঘিত হয় (অবৈধ বিধেয় অনুপপত্তি ঘটে)। সুতরাং, মধ্যবর্তী ধাপ হিসেবে 'O' যুক্তিবাক্যের আবর্তন সম্ভব না হওয়ায় মূল 'I' যুক্তিবাক্যের প্রতি-আবর্তনও সম্ভব নয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তি-১ অমাধ্যম অবরোহ অনুমানের অন্তর্গত 'প্রতিবর্তন' (Obversion)-কে নির্দেশ করে।
যে অমাধ্যম অবরোহ অনুমানে প্রদত্ত যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য সিদ্ধান্তে উদ্দেশ্য হিসেবেই থাকে, কিন্তু বিধেয় পদের বিরুদ্ধ পদটি সিদ্ধান্তের বিধেয় হয় এবং আশ্রয়বাক্যের গুণের পরিবর্তন ঘটে অথচ পরিমাণের পরিবর্তন হয় না, তাকে প্রতিবর্তন বলে।
যুক্তি-১ এ:
আশ্রয়বাক্য: কিছু মানুষ নয় সৎ (O বাক্য)
সিদ্ধান্ত: কিছু মানুষ হয় অসৎ (I বাক্য)
এখানে উভয় বাক্যের উদ্দেশ্য এক ('মানুষ'), পরিমাণের পরিবর্তন হয়নি (উভয়েই বিশেষ), গুণের পরিবর্তন হয়েছে ('নয়' থেকে 'হয়') এবং মূল বিধেয় 'সৎ'-এর বিরুদ্ধ পদ 'অসৎ' সিদ্ধান্তে বিধেয় হিসেবে বসেছে। তাই এটি যথাযথভাবে প্রতিবর্তনকে নির্দেশ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে যুক্তি-১ হলো একটি 'অমাধ্যম অনুমান' (প্রতিবর্তন) এবং যুক্তি-২ হলো একটি 'মাধ্যম অনুমান' (অবরোহ নিরপেক্ষ সহানুমান)। এদের মধ্যকার পার্থক্য পাঠ্যবইয়ের আলোকে নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. আশ্রয়বাক্যের সংখ্যা: যুক্তি-১ এ একটিমাত্র আশ্রয়বাক্য ('কিছু মানুষ নয় সৎ') থেকে সরাসরি সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে। পক্ষান্তরে, যুক্তি-২ এ দুটি আশ্রয়বাক্য ('সকল বাংলাদেশি হয় দেশপ্রেমিক' এবং 'রোজিনা হয় বাংলাদেশি') থেকে সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে।
২. মধ্যপদের উপস্থিতি: যুক্তি-১ এ কোনো মধ্যপদ (Middle Term) নেই; উদ্দেশ্য ও বিধেয় সরাসরি সম্পর্কিত। কিন্তু যুক্তি-২ এ 'বাংলাদেশি' পদটি মধ্যপদ হিসেবে দুটি আশ্রয়বাক্যের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করেছে এবং সিদ্ধান্তে অনুপস্থিত রয়েছে।
৩. প্রক্রিয়া ও জটিলতা: যুক্তি-১ একটি অমাধ্যম প্রক্রিয়া হওয়ায় এটি অপেক্ষাকৃত সরল ও প্রত্যক্ষ। অপরদিকে, যুক্তি-২ একটি মাধ্যম অবরোহ সহানুমান হওয়ায় এটি তুলনামূলক জটিল এবং নিয়মতান্ত্রিক সমন্বয়ের মাধ্যমে গঠিত।
৪. সিদ্ধান্তের উৎস: যুক্তি-১ এর সিদ্ধান্ত সরাসরি মূল আশ্রয়বাক্যের অর্থগত রূপান্তর মাত্র। পক্ষান্তরে, যুক্তি-২ এর সিদ্ধান্ত দুটি আশ্রয়বাক্যের যৌথ অনিবার্য ফল।
অতএব, যুক্তি-১ এবং যুক্তি-২ মূলত অবরোহ অনুমানের প্রধান দুটি শাখা— অমাধ্যম ও মাধ্যম অনুমানের স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও