কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

- ক)(1)
বকনা কী?
- খ)(2)
সংকর জাতের গরুর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
চিত্র 'ক' এ উল্লিখিত প্রাণীটির বৈশিষ্ট্যসমূহ ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
চিত্র 'ক' এবং চিত্র: 'খ' এ উল্লিখিত প্রাণীদ্বয়ের মধ্যে কোনটি পালন করা অর্থনৈতিকভাবে অধিক লাভজনক? তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্ত্রী বাছুর বা প্রাপ্তবয়স্ক কিন্তু এখনো বাচ্চা প্রসব করেনি এমন অপ্রসূত গাভীকে বকনা (Heifer) বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দুইটি ভিন্ন জাতের স্ত্রী ও পুরুষ গরুর মিলনের ফলে সৃষ্ট সংকর গরুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
১. এরা দেশি জাতের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে দুধ ও মাংস উৎপাদন করতে সক্ষম।
২. এদের শারীরিক বৃদ্ধি দ্রুত ঘটে এবং অপেক্ষাকৃত কম বয়সে প্রজননক্ষম হয়।
৩. এগুলো উন্নত জাতের উৎপাদনশীলতা এবং দেশি জাতের প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীলতা ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার সমন্বয়ে গঠিত হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র 'ক' এ উল্লিখিত প্রাণীটি হলো বাংলাদেশের বিখ্যাত জাত 'ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল'। এর শারীরিক ও উৎপাদনগত বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. শারীরিক গঠন: এদের দেহ তুলনামূলকভাবে ছোট, আঁটসাঁট ও কম উচ্চতাবিশিষ্ট। পা ছোট এবং কান খাড়া ও ছোট আকারের হয়।
২. বর্ণ: এদের গায়ের রং সাধারণত কালো হয়, তবে বাদামি, ধূসর বা সাদা বর্ণের ছাগলও দেখা যায়। এদের লোম মসৃণ ও চকচকে।
৩. বাচ্চা উৎপাদন ক্ষমতা: এরা বছরে দুইবার এবং প্রতিবারে সাধারণত ২ থেকে ৪টি বাচ্চা প্রসব করে। এদের উর্বরতা শক্তি অত্যন্ত বেশি।
৪. মাংস ও চামড়ার মান: এদের মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু এবং এদের চামড়া বিশ্বখ্যাত উন্নতমানের চামড়া হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে সমাদৃত।
৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: আমাদের দেশের আবহাওয়ার সাথে এরা চমৎকারভাবে মানিয়ে নেয় এবং অন্যান্য জাতের তুলনায় এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র 'ক' হলো 'ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল' এবং চিত্র 'খ' হলো দীর্ঘদেহী ও ঝুলন্ত কানবিশিষ্ট 'যমুনাপারি ছাগল'। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সামগ্রিক বিবেচনায় চিত্র 'ক' এর 'ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল' পালন করা অর্থনৈতিকভাবে অধিক লাভজনক। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো:
১. অধিক প্রজনন ক্ষমতা ও বাচ্চার সংখ্যা: ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বছরে দুইবার বাচ্চা দেয় এবং প্রতিবারে গড়ে ২ থেকে ৩টি (কখনও ৪টি) বাচ্চা প্রসব করে। পক্ষান্তরে যমুনাপারি ছাগল বছরে একবার বা দুই বছরে তিনবার বাচ্চা দেয় এবং বাচ্চার সংখ্যা সাধারণত ১-২টির বেশি হয় না। ফলে সংখ্যা বৃদ্ধির দিক দিয়ে ব্ল্যাক বেঙ্গল অনেক এগিয়ে।
২. লালন-পালন খরচ ও বাসস্থান: ব্ল্যাক বেঙ্গল দেশি জাত হওয়ায় সহজে সাধারণ প্রাকৃতিক ঘাস-পাতা খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে। এদের পেছনে বাড়তি কোনো ব্যয়বহুল খাবার বা শেড তৈরির প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে যমুনাপারি আকারে বড় হওয়ায় খাদ্য ও বিশেষ পরিচর্যার ব্যয় অনেক বেশি।
৩. রোগবালাই ও জলবায়ু উপযোগিতা: বাংলাদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি, ফলে চিকিৎসা খরচ ও মৃত্যুঝুঁকি খুবই কম। যমুনাপারি আমাদের আবহাওয়ায় খাপ খাওয়াতে গিয়ে প্রায়শই অসুস্থ হয়।
৪. বিশ্বখ্যাত চামড়া ও সুস্বাদু মাংস: ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মাংসের স্বাদ অতুলনীয় এবং দেশের বাজারে এর মাংসের চাহিদা ও মূল্য অনেক বেশি। এছাড়া এর নরম ও মসৃণ চামড়া আন্তর্জাতিক বাজারে 'কুষ্টিয়া গ্রেড' হিসেবে অত্যন্ত উচ্চ মূল্যে বিক্রি হয়।যদিও যমুনাপারি ছাগল দুধ উৎপাদনের জন্য বেশ ভালো, কিন্তু বাংলাদেশের সার্বিক বাজারব্যবস্থা, স্বল্প পুঁজির সুবিধা, সহজ ব্যবস্থাপনা এবং মাংস ও চামড়ার উচ্চ চাহিদার কারণে চিত্র 'ক' এর 'ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল' পালন করাই অর্থনৈতিকভাবে অধিক লাভজনক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও