সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
নগর ক্ষমতা কাঠামোর প্রধান উপাদান কোনটি?
- খ)(2)
যৌথ পরিবার ভাঙ্গনের সাথে শিল্পায়নের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃশ্যবল্প-১-এ গ্রামীণ সমাজের কোন প্রত্যয়টির প্রতি ইংগিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২-এ বর্ণিত সমাজের ক্ষমতা কাঠামো বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নগর ক্ষমতা কাঠামোর প্রধান উপাদান হলো অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তি (অথবা বিত্ত/সম্পদ ও রাজনৈতিক ক্ষমতা)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শিল্পায়নের ফলে কৃষিভিত্তিক যৌথ পরিবারগুলো ভেঙে একক পরিবারে রূপ নিচ্ছে। শিল্পায়নের ফলে নগরকেন্দ্রিক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়, যার কারণে মানুষ কাজের সন্ধানে গ্রাম ছেড়ে শহরে পাড়ি জমায়। নগরে জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় এবং সীমিত বাসস্থানের কারণে পরিবারের সকল সদস্যকে একসাথে রাখা সম্ভব হয় না। এছাড়া ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবোধ, ব্যক্তিকেন্দ্রিক আয় এবং আধুনিক জীবনধারার প্রভাবে যৌথ পরিবার দ্রুত ভেঙে একক বা অণু পরিবারে পরিণত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ গ্রামীণ সমাজের 'গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামো' (Rural Power Structure) প্রত্যয়টির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামো বলতে গ্রামীণ সমাজে ক্ষমতা, কর্তৃত্ব এবং প্রভাবের বিন্যাস ও প্রয়োগ পদ্ধতিকে বোঝায়। গ্রামীণ সমাজে কারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং কারা নেতৃত্ব প্রদান করেন তা নির্দিষ্ট কিছু উপাদানের ওপর নির্ভর করে। উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১-এ গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোর মূল উপাদানসমূহ দেখানো হয়েছে, যেমন— ভূমি মালিকানা, বংশীয় মর্যাদা, ইউনিয়ন পরিষদের নেতৃত্ব এবং সমাজের নেতৃত্ব। গ্রামীণ সমাজে যাদের ভূমির মালিকানা বেশি এবং যারা ঐতিহ্যগতভাবে উচ্চ বংশীয় মর্যাদার অধিকারী, তারা সামাজিকভাবে প্রভাবশালী হন। পাশাপাশি আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এবং অনানুষ্ঠানিক গ্রাম্য মাতব্বররা গ্রামীণ বিচার-সালিশ ও সমাজের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামো নিয়ন্ত্রণ করেন। সুতরাং দৃশ্যকল্প-১ এ গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোর ধারণাটিকেই সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ করা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২-এ আধুনিক নগর সমাজের ক্ষমতা কাঠামোকে নির্দেশ করা হয়েছে, যা মূলত রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক এলিট শ্রেণির সমন্বয়ে গঠিত। নিচে এটি বিশ্লেষণ করা হলো:
১. শাসক এলিট (Governing Elite): নগর ক্ষমতা কাঠামোর শীর্ষে অবস্থান করে শাসক এলিট। এরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রীয় বা স্থানীয় শাসনকার্যের সাথে জড়িত। রাজনৈতিক নেতা, সরকারের উচ্চপদস্থ আমলা এবং নীতিনির্ধারকেরা এই স্তরের অন্তর্ভুক্ত। তাদের হাতে আইন প্রণয়ন, নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা থাকে।
২. অশাসক এলিট (Non-governing Elite): এরা সরাসরি শাসনকার্যে যুক্ত না থাকলেও সমাজের অত্যন্ত প্রভাবশালী অংশ। এর মধ্যে রয়েছেন বৃহৎ শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, বুদ্ধিজীবী, শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পেশাজীবী এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। তাদের আর্থিক সামর্থ্য ও সামাজিক প্রতিপত্তি সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।
৩. সাধারণ চাপ সৃষ্টিকারী দলসমূহ (Pressure Groups): নগর সমাজে বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন, বণিক সমিতি (যেমন- এফবিসিসিআই), পেশাজীবী সংগঠন, ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজ চাপ সৃষ্টিকারী দল হিসেবে কাজ করে। এরা নিজস্ব স্বার্থ হাসিলের জন্য অথবা জনস্বার্থে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে থাকে।
পরিশেষে বলা যায়, দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত নগর ক্ষমতা কাঠামো মূলত একটি জটিল, বহুমুখী এবং এলিটভিত্তিক কাঠামো, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা এবং বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট দলের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা পরিচালিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও