পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
শাহীন “ক” রাষ্ট্রের নাগরিক। এই রাষ্ট্রের নারীরা অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ভোগ করলেও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে না। এমনকি স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগও এই রাষ্ট্রে নেই।
- ক)(1)
মূল্যবোধ কী?
- খ)(2)
নৈতিকতা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
“ক” রাষ্ট্রের নারীরা কোন ধরনের স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত স্বাধীনতা ছাড়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় — তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মূল্যবোধ হলো সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত এমন কিছু বিশ্বাস, মানদণ্ড ও আদর্শ, যা মানুষের আচার-আচরণকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে এবং ভালো-মন্দের পার্থক্য নির্দেশ করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নৈতিকতা বলতে মানুষের বিবেক, ন্যায়বোধ ও শুভ চেতনার ওপর প্রতিষ্ঠিত এমন মানসিক শক্তি বা অনুশাসনকে বোঝায়, যা মানুষকে ভালো কাজে উৎসাহিত করে এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।
নৈতিকতা মানুষের অভ্যন্তরীণ বিচারবুদ্ধির সাথে সম্পর্কিত। আইনের মতো এর পেছনে কোনো বাহ্যিক শাস্তির ভয় থাকে না; বরং এটি মানুষের বিবেক ও সামাজিক সমর্থন দ্বারা পরিচালিত হয়। ন্যায়-অন্যায়, সত্য-মিথ্যার বোধ থেকেই নৈতিকতার সৃষ্টি হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“ক” রাষ্ট্রের নারীরা মূলত 'রাজনৈতিক স্বাধীনতা' থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলতে কোনো রাষ্ট্রের শাসনকার্যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগকে বোঝায়। ভোটাধিকার প্রয়োগ, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা, সরকারি চাকরি লাভ এবং স্বাধীনভাবে গঠনমূলক মতামত বা রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা রাজনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, “ক” রাষ্ট্রের নারীরা অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারছে, কিন্তু তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে না এবং স্বাধীন মত প্রকাশের কোনো সুযোগ তাদের নেই। ভোটাধিকার ও স্বাধীন মত প্রকাশ মূলত রাজনৈতিক অধিকার বা স্বাধীনতার প্রধান শর্ত। নারীরা এই অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তারা স্পষ্টতই রাজনৈতিক স্বাধীনতা ভোগ করতে পারছে না।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত রাজনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন ব্যবস্থা, যেখানে সার্বভৌম ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে। আব্রাহাম লিংকনের মতে, "Democracy is the government of the people, by the people, for the people." এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল স্তম্ভই হলো রাজনৈতিক স্বাধীনতা।
নিম্নোক্ত কারণসমূহের ভিত্তিতে উক্তিটি সমর্থনযোগ্য:
১. ভোটাধিকারের গুরুত্ব: ভোটাধিকারের মাধ্যমেই নাগরিকরা তাদের পছন্দমতো প্রতিনিধি নির্বাচন করে সরকার গঠন করে। উদ্দীপকের "ক" রাষ্ট্রে অর্ধেক জনগোষ্ঠী অর্থাৎ নারীদের ভোটাধিকার নেই; ফলে সেখানে সর্বজনীন ভোটাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের পরিপন্থী।
২. স্বাধীন মত প্রকাশ: মত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে জনমত গঠিত হতে পারে না এবং সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা সম্ভব হয় না। উদ্দীপকে স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ রুদ্ধ থাকায় সরকারের স্বৈরাচারী রূপ ধারণের সম্ভাবনা প্রবল।
৩. সাম্য ও অন্তর্ভুক্তি: গণতন্ত্রে লিঙ্গ, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। উদ্দীপকে নারীদের রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রেখে কখনোই প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করা যায় না।পরিশেষে বলা যায়, ভোটাধিকার ও মত প্রকাশের মতো মৌলিক রাজনৈতিক স্বাধীনতা অনুপস্থিত থাকলে কোনো রাষ্ট্রই গণতান্ত্রিক হতে পারে না। তাই রাজনৈতিক স্বাধীনতা ব্যতীত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সর্বতোভাবে অসম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও