জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

নমুনা- X : ঝিল্লিবিহীন এবং প্রোটিন তৈরির কারখানা হিসেবে পরিচিত।
নমুনা- Y : একক ঝিল্লিবেষ্টিত, আক্রমণকারী জীব এবং অকেজো কোষ ধ্বংস করে।

  1. ক)

    ইউনিট মেমব্রেন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    প্রোটোপ্লাজমকে জীবনের ভৌত ভিত্তি বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    নমুনা-X তে উল্লিখিত অঙ্গাণুর গঠন বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    নমুনা-Y তে উল্লিখিত অঙ্গাণুর গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিজ্ঞানী রবার্টসনের (Robertson) মতে, সব ধরনের জৈব ঝিল্লি মূলত প্রোটিন-লিপিড-প্রোটিন (P-L-P) এই তিনটি স্তর নিয়ে গঠিত একটি সাধারণ বা সার্বজনীন ঝিল্লি, যাকে ইউনিট মেমব্রেন (Unit membrane) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জীবনের সকল মৌলিক জৈবিক ও শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি—যেমন বিপাক, শ্বসন, পুষ্টি গ্রহণ, প্রজনন এবং উদ্দীপনায় সাড়া দেওয়া—প্রোটোপ্লাজমের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক উপাদানের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার ফলেই সম্পন্ন হয়। প্রোটোপ্লাজম নষ্ট বা মৃত হয়ে গেলে জীবের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়। একারণে বিজ্ঞানী থমাস হাক্সলি (Thomas Huxley) প্রোটোপ্লাজমকে 'জীবনের ভৌত ভিত্তি' (Physical basis of life) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত নমুনা-X অঙ্গাণুটি হলো রাইবোসোম। এর ভৌত ও রাসায়নিক গঠন নিচে বর্ণনা করা হলো:

    ১. ভৌত গঠন:
    (ক) উপ-একক (Subunits): প্রতিটি রাইবোসোম দুটি ভিন্ন আকারের উপ-একক বা সাব-ইউনিট নিয়ে গঠিত—একটি বড় এবং অন্যটি ছোট। প্রোক্যারিওটিক কোষে ৭০S রাইবোসোম থাকে, যা ৫০S ও ৩০S সাব-ইউনিট নিয়ে গঠিত। ইউক্যারিওটিক কোষে ৮০S রাইবোসোম থাকে, যা ৬০S ও ৪০S সাব-ইউনিট নিয়ে গঠিত।
    (খ) বন্ধন তল: প্রোটিন সংশ্লেষণের সময় দুটি সাব-ইউনিট ম্যাগনেসিয়াম আয়ন (Mg2+Mg^{2+}) এর নির্দিষ্ট ঘনমাত্রায় একত্রিত হয়। এদের মাঝে mRNA যুক্ত হওয়ার স্থান এবং চারটি কার্যকর স্থান থাকে—A স্থান (অ্যামাইনোঅ্যাসাইল সাইট), P স্থান (পেপটাইডিল সাইট), E স্থান (এক্সিট সাইট) এবং T স্থান (শনাক্তকারী স্থান)।

    ২. রাসায়নিক গঠন:
    রাইবোসোমের প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো রাইবোসোমাল আরএনএ (rRNA) এবং প্রোটিন। সাধারণত এতে rRNA এবং প্রোটিনের অনুপাত প্রায় ১:১। ৭০S রাইবোসোমে ৩ ধরনের rRNA (২৩S, ১৬S, ৫S) এবং প্রায় ৫৫ ধরনের প্রোটিন থাকে। ৮০S রাইবোসোমে ৪ ধরনের rRNA (২৮S, ১৮S, ৫.৮S, ৫S) এবং প্রায় ৮০ ধরনের প্রোটিন থাকে। এছাড়া এতে সামান্য পরিমাণে Mg2+Mg^{2+}, Ca2+Ca^{2+} ইত্যাদি ধাতব আয়ন উপস্থিত থাকে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নমুনা-Y তে উল্লিখিত অঙ্গাণুটি হলো লাইসোজোম। জীবদেহে লাইসোজোমের গুরুত্ব অপরিসীম, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ফ্যাগোসাইটোসিস ও জীবাণু ধ্বংস: লাইসোজোম ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় কোষে প্রবেশকারী ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং অন্যান্য বহিরাগত ক্ষতিকর জীবাণুকে এর মধ্যকার হাইড্রোলাইটিক এনজাইমের সাহায্যে ধ্বংস করে দেহকে রোগমুক্ত রাখে।

    ২. স্বগ্রাস বা অটোফ্যাগি (Autophagy): কোষের খাদ্যভাবের সময় বা জরুরি প্রয়োজনে এটি কোষের নিজস্ব পুরাতন বা অপ্রয়োজনীয় অঙ্গাণুগুলোকে পরিপাক করে কোষে শক্তি ও উপাদানের জোগান দেয়।

    ৩. অটোলাইসিস (Autolysis): কোষের বয়স বেশি হলে কিংবা কোনো কোষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে লাইসোজোমের ঝিল্লি ফেটে যায় এবং এনজাইমগুলো বের হয়ে সমগ্র কোষটিকে পরিপাক করে ধ্বংস করে দেয়। এ জন্য একে 'আত্মঘাতী থলিকা' বা 'সুইসাইডাল স্কোয়াড' বলা হয়।

    ৪. টিস্যু রূপান্তর ও পুনর্গঠন: ব্যাঙাচির রূপান্তরের সময় লেজ বিলুপ্তিকরণে লাইসোজোমের উৎসেচক কাজ করে। এছাড়া বিভিন্ন টিস্যুর স্বাভাবিক পুনর্গঠনে এটি অংশ নেয়।

    ৫. শুক্রাণুর ডিম্বাণু প্রবেশে সহায়তা: শুক্রাণুর এক্রোজোম মূলত বিশেষায়িত লাইসোজোম, যা থেকে নিঃসৃত এনজাইম ডিম্বাণুর বহিঃআবরণ গলিয়ে শুক্রাণুকে ভেতরে প্রবেশ করতে সাহায্য করে।

    অতএব, কোষের প্রতিরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাভাবিক জীবনচক্র পরিচালনায় লাইসোজোমের ভূমিকা অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন