সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়সমূহ • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
বিনোদ রায় একজন সচেতন ব্যক্তি। সমাজে তিনি দয়া সাগর নামে পরিচিত। তিনি সমাজের প্রচলিত বিধিকে সমালোচনা করে বিধবা সম্পা রায় কে তার ছেলের সাথে বিয়ে দেন।
- ক)(1)
সতীদাহ আইন কত সালে পাশ হয়?
- খ)(2)
রাজা রামমোহন রায় বিখ্যাত কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে কোন সমাজ সংস্কার আন্দোলনের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা দাও।
- ঘ)(4)
উক্ত আন্দোলনের গুরুত্ব আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ আইন পাশ হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাজা রামমোহন রায় ছিলেন উনিশ শতকের একজন মহান সমাজ সংস্কারক এবং আধুনিক ভারতের প্রবক্তা। তিনি হিন্দু সমাজের বহুবিবাহ, বাল্যবিবাহ ও বিশেষ করে অমানবিক 'সতীদাহ প্রথা' বিলোপে ঐতিহাসিক আন্দোলন গড়ে তোলেন এবং ১৮২৯ সালে সতীদাহ নিবারণ আইন পাসে প্রধান ভূমিকা পালন করেন। এ ছাড়া তিনি ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা ও শিক্ষাবিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা রাখার জন্য বিখ্যাত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের 'বিধবাবিবাহ আন্দোলন'-এর মিল রয়েছে।
হিন্দু সমাজে একসময় বাল্যবিবাহের কারণে অগণিত মেয়ে অল্প বয়সে বিধবা হতো এবং তাদের চরম দুঃখ-কষ্ট ও লাঞ্ছনাময় জীবনযাপন করতে হতো। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এ অমানবিক প্রথার বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলেন এবং ১৮৫৬ সালে বিধবাবিবাহ আইন পাস করাতে সক্ষম হন। এমনকি তিনি নিজ পুত্র নারায়ণচন্দ্রের সাথে এক বিধবার বিয়ে দিয়ে সমাজে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
উদ্দীপকের বিনোদ রায় সমাজে প্রচলিত বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে বিধবা সম্পা রায়কে তাঁর নিজের ছেলের সাথে বিয়ে দিয়েছেন। বিদ্যাসাগরের বিধবাবিবাহ আন্দোলন ও তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগের সাথে উদ্দীপকের বিনোদ রায়ের এই কাজের প্রত্যক্ষ সাদৃশ্য প্রকাশ পায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আন্দোলনটি হলো ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পরিচালিত 'বিধবাবিবাহ আন্দোলন'। তৎকালীন কুসংস্কারাচ্ছন্ন হিন্দু সমাজের অগ্রগতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় এই আন্দোলনের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।
১. নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা: উনিশ শতকে বাল্যবিবাহের ফলে সমাজে বিপুলসংখ্যক নিষ্পাপ বালিকা বিধবা হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করত। বিধবাবিবাহ আন্দোলন তাদের সমাজে পুনর্বাসিত হতে এবং স্বাভাবিক মানবিক জীবন ফিরে পেতে সুযোগ করে দেয়।
২. সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণ: হিন্দু রক্ষণশীল সমাজের গোঁড়ামি ও কুসংস্কারের মূলে আঘাত হানে এ আন্দোলন, যা সমাজে যুক্তিবাদী চিন্তাধারার সূচনা করে।
৩. আইনগত স্বীকৃতি: বিদ্যাসাগরের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ১৮৫৬ সালের ২৬ জুলাই ব্রিটিশ সরকার 'হিন্দু বিধবাবিবাহ আইন' (Hindu Widows' Remarriage Act, 1856) পাস করে বিধবাদের পুনর্বিবাহকে বৈধতা দেয়।
৪. নারীশিক্ষা ও নারীমুক্তির পথ সুগম: এ আন্দোলন নারীজাতির অধিকার সচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং সমাজে নারীদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখে।অতএব, তৎকালীন সমাজের নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠনে বিধবাবিবাহ আন্দোলনের গুরুত্ব ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও