ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৬
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
ভাসমান মুদ্রা কী?
- খ)(2)
বৈদেশিক বিনিময় হার নির্ধারণের আধুনিক তত্ত্ব কোনটি এবং কেন?
- গ)(3)
উপরোক্ত চিত্রে E বিন্দুতে কী নির্ধারিত হয়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
চিত্রে উল্লিখিত পদ্ধতিতে বিনিময় হার নির্ধারণ কতটুকু যৌক্তিক?তোমার যৌক্তিক মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে বিনিময় হার ব্যবস্থা সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার বাজার চাহিদা ও জোগানের ঘাত-প্রতিঘাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত ও পরিবর্তিত হয়, তাকে ভাসমান মুদ্রা বা ভাসমান বিনিময় হার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বৈদেশিক বিনিময় হার নির্ধারণের আধুনিক তত্ত্ব হলো 'চাহিদা ও জোগান তত্ত্ব' (Demand and Supply Theory) বা 'লেনদেন ভারসাম্য তত্ত্ব' (Balance of Payments Theory)।
কারণ, এই তত্ত্ব অনুযায়ী অন্যান্য সাধারণ পণ্যের মতোই বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার কোনো নির্দিষ্ট ধাতব মান বা কেবল অভ্যন্তরীণ ক্রয়ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না; বরং এটি মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার মোট চাহিদা ও মোট জোগানের পারস্পরিক ঘাত-প্রতিঘাত এবং কোনো দেশের লেনদেন ভারসাম্যের সামগ্রিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উপরোক্ত চিত্রে বিন্দুতে বৈদেশিক মুদ্রার 'ভারসাম্য বিনিময় হার' নির্ধারিত হয়েছে।
চিত্রে ভূমি অক্ষে () বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও জোগানের পরিমাণ এবং লম্ব অক্ষে () দেশীয় মুদ্রায় বিনিময় হার নির্দেশ করা হয়েছে। হলো বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা রেখা, যা বাম থেকে ডানে নিম্নগামী (বিনিময় হার কমলে চাহিদা বাড়ে এবং বাড়লে চাহিদা কমে)। অপরদিকে, হলো বৈদেশিক মুদ্রার জোগান রেখা, যা বাম থেকে ডানে ঊর্ধ্বগামী (বিনিময় হার বাড়লে জোগান বাড়ে এবং কমলে জোগান কমে)।
চিত্র অনুযায়ী, চাহিদা রেখা () এবং জোগান রেখা () পরস্পর বিন্দুতে ছেদ করেছে। ফলে বিন্দুটি হলো ভারসাম্য বিন্দু। এই বিন্দু অনুসারে ভারসাম্য বিনিময় হার নির্ধারিত হয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ভারসাম্য পরিমাণ নির্ধারিত হয়েছে । সুতরাং, চিত্রে বিন্দুতে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও জোগানের সমতার মাধ্যমে ভারসাম্য বিনিময় হার নির্ধারিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিত্রে উল্লিখিত পদ্ধতিটি হলো চাহিদা ও জোগানের মাধ্যমে 'ভাসমান বা পরিবর্তনশীল বিনিময় হার নির্ধারণ পদ্ধতি'। বর্তমান উন্মুক্ত বাজার অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে এই পদ্ধতিতে বিনিময় হার নির্ধারণ অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক।
যৌক্তিকতার সপক্ষে কারণসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. স্বয়ংক্রিয় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা: এই পদ্ধতিতে মুদ্রাবাজারের ওপর কৃত্রিম কোনো নিয়ন্ত্রণ বা চাপ থাকে না। বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি দেখা দিলে বিনিময় হার বৃদ্ধি পেয়ে জোগান বাড়ে এবং চাহিদা কমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমতা তৈরি হয়।
২. লেনদেন ভারসাম্যের ঘাটতি পূরণ: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে লেনদেন ভারসাম্যের যে কোনো ধরনের সাময়িক বা স্থায়ী ভারসাম্যহীনতা এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত নিরসন হয়।
৩. বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কম: স্থির বিনিময় হার ব্যবস্থা রক্ষা করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবহার করে বাজারে হস্তক্ষেপ করতে হয়। কিন্তু ভাসমান ব্যবস্থায় সরকারের সেই রিজার্ভ সংরক্ষণের ওপর অহেতুক চাপ পড়ে না।
৪. কালোবাজারি ও ফটকা কারবার হ্রাস: মুদ্রার প্রকৃত বাজারমূল্য প্রতিফলিত হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার অবৈধ লেনদেন বা হুন্ডি ব্যবসার প্রবণতা হ্রাস পায়।তবে উন্নয়নশীল ও আমদানিনির্ভর অর্থনীতির ক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত ভাসমান বিনিময় হারের কারণে মুদ্রার অতি-অবমূল্যায়ন ও মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিতে পারে। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় সময়ে মৃদু হস্তক্ষেপ (Managed Floating) করতে পারে। সামগ্রিক বিচারে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বাজার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষায় চিত্রে প্রদর্শিত আধুনিক চাহিদা-জোগান পদ্ধতিটি সর্বাপেক্ষা যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও