অর্থনীতি ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
'A' দেশ তার নিজস্ব সম্পদ কাজে লাগিয়ে দ্রব্য উৎপাদন করে এবং দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রয়-বিক্রয় করে। 'B' দেশ তার উৎপাদিত পণ্য নিজ দেশ ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশের বাজারে বিক্রয় করে এবং অন্য দেশের পণ্য নিজ দেশের জন্য ক্রয় করে। ফলে 'B' দেশে সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার হয় এবং ভোক্তারাও বিভিন্নভাবে উপকৃত হয়।
- ক)(1)
বিশ্বায়ন কী?
- খ)(2)
তৈরি পোশাক, হিমায়িত খাদ্য, টাটকা ফল ইত্যাদি বাংলাদেশের কোন ধরনের রপ্তানি পণ্য এবং কেন?
- গ)(3)
A ও B দেশের বাণিজ্যের মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কি?- উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
- ঘ)(4)
অর্থনৈতিক উন্নয়নে 'B' দেশের বাণিজ্যের গুরুত্ব কতটুকু বলে তুমি মনে কর?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিশ্বায়ন হলো এমন একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সংস্কৃতির অবাধ প্রবাহ ঘটিয়ে সমগ্র বিশ্বকে একটি একক অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থায় বা 'গ্লোবাল ভিলেজে' রূপান্তর করা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তৈরি পোশাক, হিমায়িত খাদ্য, টাটকা ফল ইত্যাদি বাংলাদেশের অপ্রচলিত (non-traditional) রপ্তানি পণ্য।
যেসব পণ্য অতীতে বাংলাদেশে নিয়মিতভাবে রপ্তানি হতো না, কিন্তু সাম্প্রতিক দশকগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচুর চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে এবং দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে রপ্তানি হয়ে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে, সেগুলোকে অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য বলা হয়। পূর্বে বাংলাদেশ মূলত কাঁচাপাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানি করত; কিন্তু বর্তমানে তৈরি পোশাক, হিমায়িত চিংড়ি ও ফলমূল রপ্তানি বাণিজ্যে শীর্ষস্থান দখল করায় এগুলোকে অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য হিসেবে গণ্য করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, উদ্দীপকে বর্ণিত 'A' ও 'B' দেশের বাণিজ্যের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। উদ্দীপকে 'A' দেশের বাণিজ্যটি হলো অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য (Internal Trade) এবং 'B' দেশের বাণিজ্যটি হলো আন্তর্জাতিক বা বৈদেশিক বাণিজ্য (International Trade)।
'A' দেশ তার নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্য কেবল দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রয়-বিক্রয় করে। একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে দেশের নাগরিকদের মধ্যে যে লেনদেন হয়, তা-ই অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য। এতে একই জাতীয় মুদ্রা ব্যবহৃত হয়, কোনো বৈদেশিক শুল্ক বা বিধিনিষেধ থাকে না এবং অভ্যন্তরীণ নীতিমালার আওতায় পরিচালিত হয়।
অন্যদিকে, 'B' দেশ তার উৎপাদিত পণ্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের বাজারে বিক্রি করে এবং অন্য দেশ থেকে পণ্য আমদানি করে। দুটি বা ততোধিক সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত এই বাণিজ্যিক কার্যক্রম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। এতে ভিন্ন ভিন্ন দেশের মুদ্রা, বিনিময় হার, শুল্ক ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রযোজ্য হয়। ফলে তুলনামূলক ব্যয় সুবিধার কারণে সম্পদের কাম্য ব্যবহার নিশ্চিত হয়। অতএব, ভৌগোলিক সীমা, মুদ্রাব্যবস্থা এবং কার্যপরিধির দিক থেকে উভয় দেশের বাণিজ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনৈতিক উন্নয়নে 'B' দেশের বাণিজ্য অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। আমি মনে করি, কোনো দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'B' দেশ বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বৃত্ত পণ্য রপ্তানি করে এবং প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করে। এর ফলে দেশে প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদের পূর্ণ সদ্ব্যবহার ঘটছে এবং ভোক্তারা কম খরচে উন্নতমানের বৈচিত্র্যময় পণ্য ভোগ করতে পারছে।
একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্ব নিম্নরূপ:
১. প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার: কোনো দেশ যে পণ্য উৎপাদনে তুলনামূলক দক্ষ, সে পণ্য বেশি উৎপাদন ও রপ্তানি করে সম্পদের অপচয় রোধ করতে পারে।
২. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশের মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতে সহায়তা করে।
৩. কর্মসংস্থান ও শিল্পায়ন: বাজার সম্প্রসারিত হওয়ায় বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন সম্ভব হয়, যা শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করে ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।
৪. ভোক্তাদের কল্যাণ বৃদ্ধি: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ফলে ভোক্তারা প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে দেশি-বিদেশি মানসম্মত দ্রব্য সহজে পায়।সুতরাং, স্বয়ম্ভরতা অর্জন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও সামগ্রিক জাতীয় আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে 'B' দেশের অনুসৃত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অত্যন্ত কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও