উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র প্রশ্ন
ইলিশের মৌসুমে চট্টগ্রামে প্রচুর ইলিশ মাছ ধরা পড়ে। স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরাজেলেদের নিকট থেকে গড়ে প্রতি কেজি ৩০০ টাকা দরে মাছ কিনে তা বড়, মাঝারি ও ছোট তিন ভাগে বিভক্ত করে। ছোট মাছগুলো স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা দরে বক্রি করে। বড় ও মাঝারি মাছগুলো ঢাকার পাইকারদের নিকট গড়ে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করে। ঢাকার অধিবাসীরা খুচরা ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে বড় মাছ ১২০০ টাকা এবং মাঝারি মাছ ১০০০ টাকা দরে ক্রয় করে।
- ক)(1)
বিক্রয় কী?
- খ)(2)
‘পরিবহন স্থানগত বাধা দূরে করে’ ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মাছ বিক্রির আগে বাজারজাতকরণের কোন কাজটি সম্পাদন করেছেন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
মধ্যস্থ ব্যবসায়ীদের কারণে ঢাকার অধিবাসীদের ৩০০ টাকার মাছ ১২০০ টাকায় ক্রয় করতে হয়। যথাযথ মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থ বা মূল্যের বিনিময়ে কোনো পণ্য বা সেবার মালিকানা বিক্রেতার নিকট থেকে ক্রেতার নিকট হস্তান্তর করার প্রক্রিয়াকে বিক্রয় বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদনকারী ও ভোক্তার ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়, তাকে স্থানগত বাধা বলে।
পণ্য যেখানে উৎপাদিত হয় ভোক্তা সাধারণত সেখানে অবস্থান নাও করতে পারে। পরিবহনের মাধ্যমে পণ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা হয়। ফলে দেশের যেকোনো প্রান্তের বা বিদেশের পণ্য দূরদূরান্তের ক্রেতারা সহজেই ভোগ করতে পারেন। এভাবে পরিবহন পণ্য স্থানান্তর করে স্থানগত উপযোগ সৃষ্টি ও বাধা দূর করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মাছ বিক্রির পূর্বে বাজারজাতকরণের ‘প্রমিতকরণ ও পর্যায়িতকরণ’ (প্রধানত পর্যায়িতকরণ) কাজটি সম্পাদন করেছেন।
পূর্বনির্ধারিত মান বা বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে পণ্যকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বা লটে বিভক্ত করার কাজকে পর্যায়িতকরণ (Grading) বলে। এর মাধ্যমে পণ্যের আকার, ওজন বা গুণাগুণের ভিত্তিতে আলাদা মূল্য নির্ধারণ ও বিক্রয় সহজ হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, চট্টগ্রামের স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা জেলেদের কাছ থেকে গড়ে প্রতি কেজি ৩০০ টাকা দরে মাছ কিনে তা 'বড়', 'মাঝারি' ও 'ছোট'—এই তিন ভাগে বিভক্ত করেন। আকার ও ওজনের ভিত্তিতে এভাবে পণ্যের বিভাজন করাই হলো পর্যায়িতকরণ। অতএব, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিক্রির পূর্বে পর্যায়িতকরণের কাজটি সম্পাদন করেছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত বক্তব্যটি যথার্থ; মধ্যস্থ ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন স্তর এবং অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের প্রবণতার কারণে মাছের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়।
বাজারজাতকরণ প্রণালিতে উৎপাদক বা জেলের কাছ থেকে পণ্য সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছায় না। মাঝে একাধিক মধ্যস্থ ব্যবসায়ী (যেমন: স্থানীয় পাইকার, ফড়িয়া, আড়তদার, দূরবর্তী পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ী) যুক্ত থাকে। প্রতিটি স্তরে পরিবহন, বরফ দেওয়া, সংরক্ষণ, অপচয় ইত্যাদি বাবদ খরচ যুক্ত হয় এবং প্রত্যেকে নিজস্ব মুনাফা যোগ করে। ফলে পণ্যের অন্তিম মূল্য অনেক বেড়ে যায়।
উদ্দীপকে জেলেরা গড়ে ৩০০ টাকা দরে মাছ বিক্রি করেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তা কিনে ঢাকায় এনে পাইকারদের কাছে ৫০০ টাকায় বিক্রি করে। পরবর্তীতে ঢাকার খুচরা ব্যবসায়ীরা বড় মাছ প্রতি কেজি ১২০০ টাকা এবং মাঝারি মাছ ১০০০ টাকায় বিক্রি করে। অর্থাৎ, ঢাকায় আসার প্রক্রিয়ায় একাধিক মধ্যস্থ ব্যবসায়ী যুক্ত থাকায় এবং বিশেষ করে খুচরা ব্যবসায়ীদের মাত্রাতিরিক্ত মুনাফা ও মধ্যবর্তী খরচের কারণে ৩০০ টাকার মাছ ভোক্তা পর্যায়ে ১২০০ টাকায় পৌঁছায়। মধ্যস্থ ব্যবসায়ীরা যদি কম মার্জিন রাখত বা সরাসরি বিপণন ব্যবস্থা থাকত, তবে ভোক্তারা তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে মাছ ক্রয় করতে পারত।
সুতরাং, মধ্যস্থ ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফার মনোভাব এবং দীর্ঘ মধ্যস্থ শৃঙ্খলের কারণেই ঢাকার অধিবাসীদের ৩০০ টাকার ইলিশ ১২০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে—উক্তিটি যুক্তিযুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও