বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
ইচ্ছা পূরণের জন্য মানুষ অনেক কিছুই করে। যেমনটি করেছিলেন সকিনা বেগম। বিশ বছরের বিবাহিত জীবনে যখন কোনো সন্তানের মা হতে পারেননি, তখন একদিন স্বামীর কাছে তার ইচ্ছার কথা বলেন—তিনি একটি সন্তান দত্তক নিতে চান। তার স্বামী আফাজ আলী স্ত্রী হিসেবে তাকে যথেষ্ট সম্মান করেন। সন্তান লাভের আশায় আফাজ আলী তার স্ত্রীর প্রস্তাবে রাজি হন এবং একটি অনাথ শিশুকে দত্তক নেন। এভাবে তিনি স্ত্রীর ইচ্ছা পূরণ করে তার মর্যাদা দান করেন।
- ক)(1)
লালসালু উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদের নাম কী?
- খ)(2)
“বিশ্বাসের পাথরে যেন খোদাই সে চোখ।”-ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সকিনা বেগমের ভাবনার সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের রহিমার ভাবনার সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আফাজ আলী যেভাবে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছেন মজিদ সেভাবে পারেনি। —উক্তিটি মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদের নাম 'Tree Without Roots'।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি দ্বারা মজিদের প্রতি রহিমার অচঞ্চল, অটল ও গভীর অন্ধবিশ্বাসের স্বরূপ প্রকাশ করা হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশ করে তথাকথিত মোদাচ্ছের পীরের মাজারকে কেন্দ্র করে যে ধর্মীয় প্রভাব বিস্তার করে, রহিমা তাকে মনেপ্রাণে সত্য বলে মেনে নেয়। রহিমার মনে কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব বা সংশয় নেই; তার মজিদের ওপর বিশ্বাস পাথরের মতো শক্ত ও অপরিবর্তনীয়। রহিমার এই চোখ ও দৃষ্টি ভণ্ড মজিদের তৈরি মিথ্যাকেও নির্বিচারে সত্য মেনে পাথরে খোদাই করা প্রতিকৃতির মতো স্থির ও আস্থাশীল হয়ে থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সকিনা বেগমের ভাবনার সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের রহিমার নিঃসন্তান হওয়ার বেদনায় সাদৃশ্য থাকলেও সন্তান লাভের সমাধানের ক্ষেত্রে স্পষ্ট বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
'লালসালু' উপন্যাসে রহিমা দীর্ঘদিন ধরে নিঃসন্তান থাকার কারণে মনে মনে প্রচণ্ড অপরাধবোধ ও মানসিক যন্ত্রণায় ভুগত। সে বিশ্বাস করত নিঃসন্তান হওয়া যেন এক ধরনের অভিশাপ। তাই নিজের কোল খালি দেখে সে মজিদের দ্বিতীয় বিয়ের বন্দোবস্ত করতে আগ্রহী হয় এবং অল্পবয়সী জমিলাকে নিজের ঘরে সতীন হিসেবে মেনে নিতেও কুণ্ঠাবোধ করেনি, যাতে মজিদের বংশরক্ষা হয়।
অন্যদিকে, উদ্দীপকের সকিনা বেগমও দীর্ঘ বিশ বছর ধরে নিঃসন্তান থাকার বেদনায় কাতর ছিলেন। তবে তিনি রহিমার মতো স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের কথা ভাবেননি; বরং তিনি বাস্তবসম্মত ও মানবিক সমাধানের পথে হেঁটে একটি অনাথ শিশুকে দত্তক নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এভাবে মাতৃত্বের আকুলতায় উভয় চরিত্রের মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান থাকলেও, সন্তান লাভের উপায় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিক থেকে রহিমা ও সকিনা বেগমের মধ্যে সুস্পষ্ট বৈসাদৃশ্য দেখা যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আফাজ আলী যেভাবে স্ত্রীর মর্যাদাকে প্রাধান্য দিয়ে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন, 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ তার কোনোটিই করতে পারেনি—উক্তিটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের আফাজ আলী স্ত্রীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্ববান একজন স্বামী। বিশ বছরের দাম্পত্য জীবনে নিঃসন্তান থাকা সত্ত্বেও তিনি স্ত্রীকে অমর্যাদা করেননি, বরং স্ত্রীর সন্তান দত্তক নেওয়ার ইচ্ছাকে সানন্দে গ্রহণ করে তাঁর আত্মমর্যাদা ও মতামতকে সম্মান জানিয়েছেন।
বিপরীতে, 'লালসালু' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদ এক চরম সুবিধাবাদী ও পুরুষতান্ত্রিক কর্তৃত্বপরায়ণ পুরুষ। মজিদের কাছে তার প্রথম স্ত্রী রহিমা ছিল কেবল একজন আজ্ঞাবহ সেবিকা এবং তার ধর্মব্যবসার সহযোগী এক নির্বাক অস্তিত্ব। রহিমাকে সে কখনো ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ হিসেবে মর্যাদা দেয়নি, বরং নিজের কর্তৃত্ব ও ভয় দ্বারা তাকে প্রতিনিয়ত শাসন করেছে। পরবর্তীতে সন্তান লাভের আকাঙ্ক্ষায় মজিদ রহিমার আবেগকে তোয়াক্কা না করে অল্পবয়সী চঞ্চল জমিলাকে বিয়ে করে নিয়ে আসে। এমনকি জমিলা তার ভণ্ডামির বশ্যতা স্বীকার না করায় তাকে মাজারে বেঁধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। স্ত্রীদের মানুষ হিসেবে যথাযথ সম্মান ও অধিকার দেওয়ার মানসিকতা মজিদের ছিল না।
অতএব, দেখা যায় যে আফাজ আলী যেখানে স্ত্রীর ইচ্ছা ও অনুভূতির মর্যাদা দিয়ে সহানুভূতিশীল আচরণ করেছেন, মজিদ সেখানে নিজের স্বার্থ, আধিপত্য ও পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতার কাছে স্ত্রীর সম্মান ও অনুভূতিকে পদদলিত করেছে। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও