বাংলা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের যেকোনো ১ টি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ
10.1.
সারমর্ম লেখো:
জোটে যদি মোটে একটি পয়সা
খাদ্য কিনিও ক্ষুধার লাগি
দুটি যদি জোটে তবে অর্ধেকে
ফুল কিনে নিও, হে অনুরাগী।
বাজারে বিকায় ফল তন্দুল;
যে শুধু মিটায় দেহের ক্ষুধা
হৃদয় প্রাণের ক্ষুধা নাশে ফুল
দুনিয়ার মাঝে সেই তো সুধা।
10.2.
ভাবসম্প্রসারণ করো:
পথ পথিকের সৃষ্টি করে না, পথিকই পথের সৃষ্টি করে।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১০.১. সারমর্ম:
বেঁচে থাকার জন্য খাদ্যের প্রয়োজন অনস্বীকার্য, কারণ খাদ্য আমাদের দৈহিক চাহিদা মেটায়। কিন্তু কেবল জৈবিক অস্তিত্ব রক্ষা করাই মানুষের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য নয়। মানুষের রয়েছে একটি মননশীল ও অনুভূতিশীল হৃদয়। মানসিক বিকাশ ও আত্মিক আনন্দের জন্য সৌন্দর্যচর্চা অত্যন্ত জরুরি। পার্থিব ক্ষুধা নিবৃত্তির পাশাপাশি মনের ক্ষুধা নিবারণে ফুলের মতো সৌন্দর্যের উপাদান মানবজীবনে অমৃতের ভূমিকা পালন করে।
১০.২. ভাবসম্প্রসারণ:
পথ পথিকের সৃষ্টি করে না, পথিকই পথের সৃষ্টি করে।
মূলভাব: মানবসমাজ ও সভ্যতার অগ্রযাত্রায় পূর্বনির্দিষ্ট পথ কোনো মানুষকে বড় করে না, বরং মানুষের দৃঢ় সংকল্প, শ্রম ও উদ্ভাবনী শক্তিই নতুন নতুন পথ তৈরি করে সমাজ ও ইতিহাসকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
সম্প্রসারিত ভাব: অরণ্যসংকুল পৃথিবীতে মানুষ যখন প্রথম যাত্রা শুরু করেছিল, তখন কোনো নির্দিষ্ট রাজপথ ছিল না। মানুষ তার চলার তাগিদেই পায়ে চলা পথ তৈরি করেছে। একইভাবে দেশ, সমাজ ও জীবনের সার্বিক ক্ষেত্রে মানুষই নিয়ামক শক্তি। পথিক না থাকলে পথের কোনো উপযোগিতা বা অস্তিত্ব থাকে না। যে মানুষ কর্মদ্যোগী, আত্মপ্রত্যয়ী এবং প্রতিভাবান, সে প্রতিকূল পরিবেশ বা পূর্বপ্রস্তুত পথের অপেক্ষায় অলস বসে থাকে না। সে নিজের মেধা, প্রজ্ঞা ও কর্মতৎপরতা দিয়ে নিজের চলার পথ নিজেই তৈরি করে নেয়।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিশ্বের সকল যুগান্তকারী আবিষ্কার, সামাজিক সংস্কার ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে যুগস্রষ্টা ব্যক্তিদের হাত ধরে। কলম্বাস যদি আটলান্টিক পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকি না নিতেন, তবে আমেরিকার সন্ধান মিলত না। কোনো নির্দিষ্ট পথ কাউকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গন্তব্যে পৌঁছে দেয় না; বরং পথিকই লক্ষ্য স্থির করে পথ নির্ধারণ করে। অন্যদিকে কাপুরুষ ও নিষ্ক্রিয় ব্যক্তিরা প্রতিকূলতার অজুহাত দেখিয়ে চলার পথ খুঁজে পায় না।
মন্তব্য: অতএব, পরনির্ভরশীল হয়ে তৈরি করা পথের ওপর নির্ভর না করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নতুন সৃষ্টির পথে অগ্রসর হওয়াই সার্থক জীবনের লক্ষণ। মানুষের ইচ্ছাশক্তি ও অবিচল কর্মপ্রেরণাই সকল অগ্রগতির মূল ভিত্তি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও