বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
মোহনপুরে যখন নিপা ভাইরাস দেখা দিলো, তখন গ্রামবাসী আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় খুঁজছিল। এমন সময় তোতা কবিরাজ গ্রামটিকে রক্ষা করার জন্য সচেষ্ট হন। তিনি চিনি পড়া, পানি পড়া দিয়ে চিকিৎসা দেন এবং অনেক টাকা পয়সা হাতিয়ে নেন। কিছুদিন পর নিপা ভাইরাস বিদায় নেয়। অবশ্য ইতোমধ্যে অনেক মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হয়। তবুও গ্রামের মানুষ তোতা কবিরাজের অলৌকিক ক্ষমতায় মুগ্ধ হয়ে তাকে অর্থ-সম্পদ উপহার দেয় এবং ভয়ও করে।
- ক)(1)
"ও যেন ঘোর পাপী। পাপের জ্বালায় এখন ছটফট করছে।" এখানে কার কথা বলা হয়েছে?
- খ)(2)
"তাগো কথা হুনলে পুরুষ মানুষ আর পুরুষ থাকে না, মেয়ে মানুষের অধম হয়।” কেন? বুঝিয়ে দাও।
- গ)(3)
উদ্দীপকের তোতা কবিরাজের সঙ্গে লালসালু উপন্যাসের মজিদ চরিত্রের সাদৃশ্য আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
মোহনপুর গ্রামের মানুষগুলো যেন 'লালসালু' উপন্যাসে বর্ণিত মহব্বত নগর গ্রামের। মানুষেরই প্রতিচ্ছবি— মন্তব্যটি খাচাই কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ধৃত অংশে 'লালসালু' উপন্যাসের দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলার কথা বলা হয়েছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি দ্বারা তৎকালীন পুরুষতান্ত্রিক সমাজের দৃষ্টিতে নারীর স্বাধীন মতামত ও উপস্থিতিকে অবমূল্যায়ন করার মানসিকতা বোঝানো হয়েছে।
গ্রামের রক্ষণশীল মুরুব্বিরা মনে করত মেয়েমানুষের বুদ্ধি কম এবং তাদের কথা শুনলে বা তাদের কথায় পরিচালিত হলে পুরুষদের কর্তৃত্ব, পৌরুষ ও সামাজিক প্রভাব নষ্ট হয়ে যায়। মজিদ খালেক ব্যাপারীকে তার নিঃসন্তান প্রথম স্ত্রী আমেনা বিবিকে তালাক দেওয়ার জন্য পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করার সময় এই মন্তব্যটি করেছিল, যাতে খালেক নিজের পৌরুষ টিকিয়ে রাখার অজুহাতে স্ত্রীর প্রতি নির্মম সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাবোধ না করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের তোতা কবিরাজের সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ চরিত্রের মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে ধর্ম ও অন্ধবিশ্বাসের ব্যবসা করার ক্ষেত্রে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ এক অজ্ঞাত মোদাচ্ছের পীরের ভুয়া মাজার তৈরি করে মহব্বতনগর গ্রামের ধর্মভীরু ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষদের মনে পাপ ও দোযখের ভয় ঢুকিয়ে দেয়। সে পানি পড়া, তাবিজ-কবজ ও ধর্মীয় অনুশাসনের ভান করে গ্রামের মানুষের ওপর আধিপত্য কায়েম করে এবং নিজের ধন-সম্পদ বৃদ্ধি করে।
উদ্দীপকের তোতা কবিরাজও একইভাবে মোহনপুর গ্রামে নিপা ভাইরাসের মহামারি ও গ্রামবাসীর মৃত্যুভয়কে পুঁজি করে চিকিৎসার নামে পানি পড়া, চিনি পড়া দিয়ে প্রতারণা করে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নেয়। স্বাভাবিক নিয়মে ভাইরাস চলে গেলেও মানুষ তার অলৌকিক ক্ষমতা মনে করে তাকে আরও বেশি ভয় ও শ্রদ্ধা করতে থাকে। সুতরাং, মানুষের চরম সংকট ও দুর্বলতাকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে ব্যক্তিগত প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠার দিক থেকে তোতা কবিরাজ ও মজিদ চরিত্রটি এক সূত্রে গাঁথা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মোহনপুর গ্রামের মানুষগুলো যেন 'লালসালু' উপন্যাসে বর্ণিত মহব্বতনগর গ্রামের মানুষেরই প্রতিচ্ছবি—মন্তব্যটি যথার্থ।
'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামের মানুষগুলো ছিল অজ্ঞ, ধর্মভীরু ও অন্ধবিশ্বাসী। বাইরের দুনিয়া সম্পর্কে অজ্ঞ এই মানুষগুলো মজিদের সাজানো ভণ্ডামিকে সহজেই অলৌকিক সত্য বলে বিশ্বাস করে নিয়েছিল। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা মজিদের ভয় ও নির্দেশনায় চলত। নিজের জমিজমা, ফসল কিংবা অসুস্থতার মতো সংকটে তারা মজিদের দেওয়া ফুঁ, পানি পড়া ও মাজারের দোয়ার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখত এবং প্রতিবাদহীনভাবে শোষিত হতো।
উদ্দীপকের মোহনপুর গ্রামের মানুষের মধ্যেও একই অন্ধত্ব ও কুসংস্কারের প্রতিফলন দেখা যায়। নিপা ভাইরাসের মতো একটি মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধিতে বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার খোঁজ না করে তারা তোতা কবিরাজের চিনি পড়া, পানি পড়ার মতো অযৌক্তিক চিকিৎসায় বিভ্রান্ত হয়। রোগটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কমে আসায় তারা চরম ভোগান্তি ভোগ করা সত্ত্বেও তোতা কবিরাজের অলৌকিক ক্ষমতায় মোহাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং তাকে অর্থ-সম্পদ উপহার দিয়ে ভক্তি ও ভয় করতে শুরু করে।
উভয় ঘটনার তুলনামূলক বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয় যে, দুই গ্রামের মানুষই যৌক্তিক চিন্তাহীন, সংকটে চরম অসহায় এবং কুসংস্কারের মোহে ভণ্ড প্রতারকদের সহজেই ভাগ্যবিধাতা বানিয়ে নেয়। তাই বলা যায়, মোহনপুর গ্রামের মানুষগুলো প্রকৃতপক্ষে মহব্বতনগর গ্রামের অন্ধবিশ্বাসী মানুষদেরই প্রতিচ্ছবি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও