জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
জীব কোষে 'A' অঙ্গাণুটি প্রোটিন ফ্যাক্টরি এবং 'B' অঙ্গাণুটি কোষের ট্রাফিক পুলিশ হিসেবে অভিহিত।
- ক)(1)
সাইক্লোসিস কী?
- খ)(2)
রেপ্লিকেশন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
'A' অঙ্গাণুটির গঠন বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
জীবদেহে 'B' অঙ্গাণুটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জীবকোষের প্রোটোপ্লাজমে বা সাইটোপ্লাজমে যে বৃত্তাকার বা নির্দিষ্ট গতিতে অভ্যন্তরীণ চলন বা ঘূর্ণন দেখা যায়, তাকে সাইক্লোসিস (Cyclosis) বা সাইটোপ্লাজমীয় চলন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে জৈবিক প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃ DNA অণু থেকে হুবহু একই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন দুটি নতুন অপত্য DNA অণু সৃষ্টি বা সংশ্লেষিত হয়, তাকে রেপ্লিকেশন (DNA Replication) বা অনুলিপন বলে। এটি মূলত অর্ধ-রক্ষণশীল (semi-conservative) পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়, যেখানে প্রতিটি নতুন DNA অণুর একটি সূত্রক পুরাতন এবং অপর সূত্রকটি নতুনভাবে সংশ্লেষিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'A' অঙ্গাণুটি হলো রাইবোসোম, কারণ একে কোষের 'প্রোটিন ফ্যাক্টরি' বলা হয়।
রাইবোসোমের গঠন নিম্নে বর্ণনা করা হলো:
১. ভৌত গঠন: রাইবোসোম মূলত দুটি অসম উপ-একক (Subunit) নিয়ে গঠিত। প্রোক্যারিওটিক কোষে ৭০S রাইবোসোম থাকে, যা ৫০S এবং ৩০S উপ-এককে বিভক্ত। ইউক্যারিওটিক কোষে ৮০S রাইবোসোম থাকে, যা ৬০S এবং ৪০S উপ-এককে বিভক্ত। প্রোটিন সংশ্লেষণের সময় এই উপ-একক দুটি একত্রিত হয়ে কার্যকর একক গঠন করে। রাইবোসোমে প্রোটিন সংশ্লেষণের জন্য চারটি বিশেষ স্থান রয়েছে— A-সাইট (অ্যামাইনোঅ্যাসাইল সাইট), P-সাইট (পেপটাইডিল সাইট), E-সাইট (এক্সিট সাইট) এবং mRNA বাইন্ডিং সাইট। এটি ঝিল্লিবিহীন অঙ্গাণু।
২. রাসায়নিক গঠন: রাইবোসোম মূলত রাইবোসোমাল RNA (rRNA) এবং প্রোটিন দ্বারা গঠিত। এতে rRNA এবং প্রোটিনের অনুপাত প্রায় ১:১। এছাড়া এতে সামান্য পরিমাণে ধাতব আয়ন (যেমন- Mg²⁺, Ca²⁺) উপস্থিত থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'B' অঙ্গাণুটি হলো গলজি বস্তু (Golgi apparatus), যাকে কোষের 'ট্রাফিক পুলিশ' বলা হয়। জীবদেহে এর গুরুত্ব অপরিসীম:
১. ক্ষরণ ও প্যাকেজিং: গলজি বস্তু কোষের প্রধান ক্ষরণকারী অঙ্গাণু হিসেবে কাজ করে। এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম থেকে আসা বিভিন্ন প্রোটিন ও এনজাইমকে এটি প্রক্রিয়াজাত, রূপান্তর এবং ভেসিকলে প্যাকেটজাত করে নির্দিষ্ট গন্তব্যে প্রেরণ করে।
২. ট্রাফিক পুলিশ হিসেবে ভূমিকা: কোষের বিভিন্ন বস্তুর ক্ষরণ ও পরিবহনের পথ সুনির্দিষ্টভাবে নিয়ন্ত্রণ করে বলে একে কোষের ট্রাফিক পুলিশ বলা হয়।
৩. লাইসোজোম সৃষ্টি: এটি কোষে ফ্যাগোসাইটোসিস ও অটোলাইসিসে অংশ নেওয়া লাইসোজোম এবং অ্যাক্রোসোম (শুক্রাণুর অগ্রভাগে) তৈরি করে।
৪. কোষপ্রাচীর ও কোষপ্লেট গঠন: উদ্ভিদ কোষের বিভাজনকালে ফ্র্যাগমোপ্লাস্ট ও ভেসিকল একত্রিত করে কোষপ্লেট ও প্রাথমিক কোষপ্রাচীর গঠনে সাহায্য করে।
৫. ম্যাক্রোঅণু সংশ্লেষণ: এটি বিভিন্ন অপ্রোটিন পদার্থ, জটিল পলিস্যাকারাইড এবং গ্লাইকোপ্রোটিন ও গ্লাইকোলিপিড সংশ্লেষণে অংশ নেয় (গ্লাইকোসাইলেশন)।অতএব, কোষের বিপাকীয় কার্যক্রম, ক্ষরণ এবং অভ্যন্তরীণ পরিবহন পরিচালনায় গলজি বস্তুর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও