অর্থনীতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
জালাল ও জাফর দুই ভাই। জালাল দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্য দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় করেন। কিন্তু জাফর ইউরোপের দেশগুলোর সাথে ব্যবসা বাণিজ্য করেন। জাফর ব্যবসা করতে গিয়ে বিভিন্ন অসুবিধার সম্মুখীন হলেও জালাল তেমন কোনো সমস্যার সম্মুখীন হন না।
- ক)(1)
অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য কী?
- খ)(2)
ট্যাক্স হলিডে সুবিধা কোন ধরনের শিল্পকে দেয়া হয় এবং কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে জালাল যে ধরনের ব্যবসার সাথে জড়িত তা উল্লেখপূর্বক এর সুবিধাগুলো ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
জালাল ও জাফর এর বাণিজ্যের পার্থক্য উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের অভ্যন্তরীণ ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে বিভিন্ন অঞ্চল ও ব্যক্তিদের মধ্যে পণ্য ও সেবার যে ক্রয়-বিক্রয় সংঘটিত হয়, তাকে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ট্যাক্স হলিডে সুবিধা মূলত নবগঠিত, বিকাশমান ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শিল্পখাতকে দেওয়া হয়।
নতুন শিল্প স্থাপন উৎসাহিত করতে, অনগ্রসর অঞ্চলে শিল্পায়ন বিস্তার করতে এবং উদ্যোক্তাদের ঝুঁকি হ্রাস করে মূলধন বিনিয়োগে অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য সরকারকে কোনো কর প্রদান না করার এ সুবিধা (কর অবকাশ বা ট্যাক্স হলিডে) প্রদান করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জালাল যে ধরনের ব্যবসার সাথে জড়িত তা হলো 'অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য'।
অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য সুবিধাগুলো নিম্নরূপ:
১. একই মুদ্রা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা: দেশের অভ্যন্তরে একই মুদ্রা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা কার্যকর থাকায় লেনদেনে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বা রূপান্তরের ঝুঁকি থাকে না।
২. শুল্কমুক্ত ও সহজ পরিবহন: দেশের ভেতরে পণ্য পরিবহনে কোনো প্রকার আন্তর্জাতিক শুল্ক, কোটা বা জটিল শুল্ক বন্দর প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয় না।
৩. ভাষা ও আইনের অভিন্নতা: দেশের প্রচলিত একই আইন, ভাষা, সংস্কৃতি এবং নিয়মকানুন বিদ্যমান থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে সহজে যোগাযোগ ও চুক্তি সম্পাদন সম্ভব হয়। উদ্দীপকেও দেখা যায়, জালাল দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করায় কোনো জটিল সমস্যার মুখোমুখি হন না। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জালালের বাণিজ্যটি হলো অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য এবং জাফরের বাণিজ্যটি হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। এদের মধ্যকার পার্থক্য নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ভৌগোলিক সীমা: জালাল দেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে বিভিন্ন স্থানে ব্যবসা করেন (অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য)। অন্যদিকে, জাফর দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ইউরোপের দেশগুলোর সাথে ব্যবসা করেন (আন্তর্জাতিক বাণিজ্য)।
২. মুদ্রাব্যবস্থা: জালালের বাণিজ্যে একক দেশীয় মুদ্রা ব্যবহৃত হয়, কিন্তু জাফরের বাণিজ্যে বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হয় এবং মুদ্রা বিনিময়ের ঝুঁকি থাকে।
৩. আইন ও বিধি-নিষেধ: অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে দেশের নিজস্ব বাণিজ্য নীতিমালা প্রযোজ্য হয়, ফলে জালাল তেমন অসুবিধার সম্মুখীন হন না। কিন্তু জাফরের বাণিজ্যে আন্তর্জাতিক আইন, ট্যারিফ বা শুল্ক, কোটা, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ও বিভিন্ন বিধিনিষেধ মানতে হয়, যার কারণে তিনি বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন।
৪. গতিশীলতা: অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে উৎপাদনের উপাদান ও শ্রমিকের গতিশীলতা বেশি থাকে, কিন্তু আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে তা অনেকটাই সীমিত।অতএব, উদ্দীপকের তথ্যানুযায়ী জালাল ও জাফরের ব্যবসা যথাক্রমে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রতিচ্ছবি, যার মধ্যে নিয়মনীতি ও কাঠামোগত স্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও