অর্থনীতি ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি কৃষি প্রধান দেশ। প্রায় দুইশত বছরের ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসন এবং ২৪ বছরের পাকিস্তানি শাসন ও শোষণের কারণে এদেশের অর্থনীতি ছিল অনুন্নত। অনুন্নত কৃষি, শিল্পের পাশ্চৎপদতা, নিম্ন জীবনযাত্রার মান, জনাধিক্যের কারণে বেকারত্ব ছিল অর্থনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য। সময়ের পরিক্রমায় বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তনের সাথে সাথে বাংলাদেশ সরকার বাস্তবমুখী নানান পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ফলে বিশ্বায়নের সুফল এদেশের জনগণ পেতে শুরু করেছে। আশা করা যায় রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।
- ক)(1)
বাংলাদেশের মোট সীমানা কত কিলোমিটার?
- খ)(2)
মুসলিম যুগে বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থা কেমন ছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের অর্থনীতির বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।- উদ্দীপক হতে উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের মোট সীমানা বা সীমারেখার দৈর্ঘ্য হলো ৪,৭১১ কিলোমিটার (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও প্রচলিত পাঠ্যপুস্তক অনুযায়ী ৪,৭১১ কিমি, যার মধ্যে স্থলসীমা প্রায় ৩,৯৯৫ কিমি এবং জলসীমা ৭১৬ কিমি; কোথাও কোথাও বিজিবির তথ্যমতে ৪,৪২৭ কিমি বা ৪,১৫৬ কিমিও উল্লেখ করা হয়)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুসলিম যুগে বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বাচ্ছন্দ্যময়। এ যুগে কৃষির ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয় এবং ধান, গম, তুলা, রেশম প্রভৃতি প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হতো। মুসলিম শাসনামলে বিশেষ করে মুঘল আমলে হস্তশিল্প ও বস্ত্রশিল্পের প্রভূত বিকাশ ঘটে; ঢাকার বিশ্ববিখ্যাত ‘মসলিন’ কাপড় এ সময়েই বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করে। দ্রব্যের প্রাচুর্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম অত্যন্ত সস্তা থাকার কারণে তৎকালীন ঐতিহাসিকগণ ও বিদেশি পর্যটকরা বাংলাকে 'ধনসম্পদপূর্ণ নরক' বা 'জান্নাতুল বিলাদ' (স্বর্গীয় রাজ্য) বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও কাঠামোগত দুর্বলতা ও বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন ঘটেছে। ১৯৭১ সালে দীর্ঘ স্বাধীনতা যুদ্ধের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যেসব বৈশিষ্ট্য দেখা যায়, তা নিচে আলোচনা করা হলো:
১. কৃষির ওপর অত্যধিক নির্ভরতা ও অনুন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা: স্বাধীনতা-উত্তর সময়ে দেশের প্রায় ৮০-৮৫% মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং সনাতন পদ্ধতির চাষাবাদের কারণে উৎপাদনশীলতা ছিল অত্যন্ত কম।
২. অনুন্নত শিল্প খাত: পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক বাঙালি মালিকানাধীন অধিকাংশ সম্পদ পাচার ও বৈষম্যের ফলে শিল্প কারখানা ছিল অতি সীমিত এবং যুদ্ধের কারণে বিদ্যমান পাট ও বস্ত্রকলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৩. জনাধিক্য ও ব্যাপক বেকারত্ব: উচ্চ জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের বিপরীতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না হওয়ায় দেশে ছদ্মবেশী ও কাঠামোগত বেকারত্ব ছিল প্রকট।
৪. নিম্ন মাথাপিছু আয় ও দারিদ্র্য: অধিকাংশ মানুষের জীবনযাত্রার মান ছিল নিম্ন এবং সিংহভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করত।
৫. বৈদেশিক সাহায্য নির্ভরতা: জাতীয় বাজেটের সিংহভাগ উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে বাংলাদেশকে চরমভাবে বিদেশি সাহায্য ও অনুদানের ওপর নির্ভর করতে হতো।সুতরাং, উদ্দীপকে বর্ণিত ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি শোষণের পরিণতি হিসেবে স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি ভঙ্গুর, কৃষিপ্রধান ও অনুন্নত কাঠামোর বৈশিষ্ট্য বহন করত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি এবং উদ্দীপকের গতিধারার আলোকে প্রতীয়মান হয় যে, বিভিন্ন বাস্তবমুখী পরিকল্পনা ও নীতি গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে।
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্বাধীনতা-পরবর্তী নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে বিশ্ব অর্থনীতির সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ সরকার বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং জনগণ বিশ্বায়নের সুফল পেতে শুরু করেছে। এই রূপান্তরের পেছনে মূল যুক্তিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. বাস্তবমুখী পরিকল্পনা ও পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা: সরকার কর্তৃক 'রূপকল্প-২০২১' প্রণয়ন, ষষ্ঠ ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপরেখা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
২. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি: গত দুই দশকে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৬% থেকে ৭%-এর উপরে পৌঁছায় এবং মাথাপিছু আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে বিশ্বব্যাংকের নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানদণ্ড ২০১৫ সালেই অতিক্রম করে।
৩. কাঠামোগত পরিবর্তন ও রপ্তানি বৃদ্ধি: অর্থনীতিতে কৃষির পাশাপাশি শিল্প ও সেবা খাতের অবদান দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। তৈরি পোশাক (RMG) শিল্পের অভাবনীয় সাফল্য বিশ্ববাজারে বাংলাদেশকে অন্যতম শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করেছে।
৪. রেমিট্যান্স প্রবাহ ও মানবসম্পদ উন্নয়ন: প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স জাতীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড মজবুত করেছে এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগের ফলে দারিদ্র্যের হার অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।
৫. অবকাঠামোগত মেগা প্রকল্প: পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে দেশের পরিবহন ও বাণিজ্য সক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।পরিশেষে বলা যায়, নীতিগত সংস্কার, শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি এবং রূপকল্প-২০২১ এর লক্ষ্যসমূহ ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়িত হওয়ায় বাংলাদেশ একটি কার্যকর মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পথে সফলভাবে এগিয়ে গেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও