অর্থনীতি ২য় পত্র • মুদ্রাস্ফীতি • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে একটি চিত্র প্রদর্শন করেন যা নিম্নরূপ:এছাড়াও তিনি বলেন যে সরকারি ব্যয় এবং ভোগবৃদ্ধির ফলে AD রেখা ডানে স্থানান্তর হয়।
- ক)(1)
মুদ্রাসংকোচন কী?
- খ)(2)
'মুদ্রাস্ফীতি হলে ঋণদাতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপক অনুসারে মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সমস্যাটি সমাধানের জন্য সরকার রাজস্বনীতিতে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনীতিতে যখন সামগ্রিক উৎপাদনের তুলনায় অর্থের যোগান হ্রাস পায় এবং এর ফলে ক্রমাগতভাবে সাধারণ দামস্তর কমতে থাকে ও অর্থের মূল্য বৃদ্ধি পায়, তাকে মুদ্রাসংকোচন (Deflation) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুদ্রাস্ফীতির সময় অর্থের ক্রয়ক্ষমতা বা মূল্য হ্রাস পায়। ঋণদাতা যখন কাউকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ঋণ প্রদান করেন, তখন সেই অর্থের একটি নির্দিষ্ট ক্রয়ক্ষমতা থাকে। কিন্তু মুদ্রাস্ফীতির কারণে পরবর্তীতে যখন ঋণগ্রহীতা সেই অর্থ ফেরত দেন, তখন অর্থের প্রকৃত মূল্য আগের চেয়ে কমে যায়। ফলে ঋণদাতা সমপরিমাণ কাগজি মুদ্রা ফেরত পেলেও তা দিয়ে আগের মতো পণ্য বা সেবা ক্রয় করতে পারেন না। তাই মুদ্রাস্ফীতির কারণে ঋণদাতা ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং ঋণগ্রহীতা লাভবান হন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে উল্লম্ব অক্ষে দামস্তর (P) এবং ভূমি অক্ষে উৎপাদন বা জাতীয় আয় (Q) দেখানো হয়েছে।
প্রাথমিক ভারসাম্য বিন্দু M-এ প্রাথমিক দামস্তর,
সরকারি ব্যয় ও ভোগ বৃদ্ধির ফলে সামগ্রিক চাহিদা রেখা ডানদিকে স্থানান্তরিত হয়ে হলে নতুন ভারসাম্য বিন্দু N-এ বর্তমান দামস্তর,আমরা জানি,
মুদ্রাস্ফীতির হার
সুতরাং, উদ্দীপক অনুসারে মুদ্রাস্ফীতির হার ২৩.৬৬%।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যাটি হলো চাহিদা-বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি (Demand-pull Inflation)। পূর্ণ নিয়োগ স্তরে () সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধির ফলে দামস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার সংকোচনমূলক বা সংকোচনমুখী রাজস্বনীতি (Contractionary Fiscal Policy) গ্রহণ করতে পারে। রাজস্বনীতির আওতায় সরকার নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো নিতে পারে:
১. সরকারি ব্যয় হ্রাস: সরকার উন্নয়নমূলক ও অনুৎপাদনশীল ব্যয় সংকোচন করতে পারে। সরকারি ব্যয় হ্রাস পেলে সামগ্রিক চাহিদা কমে গিয়ে দামস্তরের ওপর চাপ কমবে।
২. করের হার বৃদ্ধি ও নতুন কর আরোপ: সরকার প্রত্যক্ষ করের হার বৃদ্ধি করতে পারে। কর বৃদ্ধি করলে জনগণের ব্যয়াযোগ্য আয় (Disposable Income) হ্রাস পায়, ফলে সামগ্রিক ভোগব্যয় কমে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
৩. সরকারি ঋণ গ্রহণ বৃদ্ধি: সরকার জনসাধারণের কাছ থেকে ঋণপত্র বা সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে। এতে বাজারে অতিরিক্ত তারল্য কমে যায় এবং ভোগব্যয় হ্রাস পায়।
৪. ভর্তুকি ও হস্তান্তর পাওনা হ্রাস: সরকার অনুৎপাদনশীল খাতে ভর্তুকি এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর অপ্রয়োজনীয় অনুদান হ্রাস করে সামগ্রিক ক্রয়ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
অতএব, একটি কার্যকর সংকোচনমূলক রাজস্বনীতি প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার সামগ্রিক চাহিদা () হ্রাস করে পুনরায় পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে এনে মুদ্রাস্ফীতি সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও